Monday, May 19, 2014

সাতক্ষীরায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ গুলিবিদ্ধ ৩

সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাঁরা আন্তজেলা ডাকাত দলের সদস্য বলে দাবি করেছে পুলিশ। 
গতকাল রোববার দিবাগত রাত পৌনে তিনটার দিকে উপজেলার ছয়ঘরিয়া মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধদের মধ্যে একজনের দাবি, ছয় দিন আগে বিভিন্ন স্থান থেকে তাঁদের আটক করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা। গতকাল রাতে তাঁদের ঊরুতে গুলি করা হয়। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিরা হলেন সাতক্ষীরার তালা উপজেলার চৌগাছা গ্রামের শেখ পলাশ আহমেদ (৩৬), সদর উপজেলার বেড়াবাড়ি গ্রামের আলমগীর হোসেন (২৫) এবং খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার মিকসিমি গ্রামের মতিয়ার রাহমান (২৮)। তাঁদের কাছ থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ। সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইনামুল হকের দাবি, ছয়ঘরিয়া এলাকায় সাতক্ষীরা-যশোর সড়কে যাত্রীবাহী বাস ও মালবাহী ট্রাকে ডাকাতির প্রস্তুতির খবর পায় পুলিশ। গতকাল দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ ওই এলাকায় অবস্থায় নেয়। রাত পৌনে তিনটার দিকে একদল ডাকাত ঢাকা থেকে সাতক্ষীরাগামী যাত্রীবাহী পরিবহনসহ কয়েকটি ট্রাক আটকে ডাকাতির চেষ্টা চালায়। এ সময় ডাকাত দলকে ঘেরাও করে ফেলে পুলিশ। পুলিশকে লক্ষ্য করে প্রথমে বোমা ও পরে গুলি ছোড়ে ডাকাত দল। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে ডাকাত দলের তিনজন সদস্য গুলিবিদ্ধ হন। অন্যরা পালিয়ে যান। গুলিবিদ্ধ তিনজনকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জরুরি বিভাগের চিকিত্সক রবিউল ইসলাম জানান, আহত ব্যক্তিদের প্রত্যেকের দুই পায়ের ঊরুতে গুলি লেগেছে। তবে তাঁরা আশঙ্কামুক্ত। গুলিবিদ্ধ আলমগীর হোসেনের ভাষ্য, বিভিন্ন স্থান থেকে ছয় দিন আগে তাঁদের আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গতকাল রাতে ছয়ঘরিয়া এলাকায় নিয়ে তাঁদের ঊরুতে গুলি করে পুলিশ।
সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি দাবি করেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেপ্তার হওয়া ডাকাতদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, পিস্তলের ১০টি গুলি, একটি ওয়ান শুটার গান ও একটি রাইফেলের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশকে লক্ষ্য করে ডাকাত দলের সদস্যরা ছয়টি বোমা ও ১১টি গুলি ছোড়েন। পুলিশ ১৪টি গুলি ছোড়ে। এ ঘটনায় সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিধান কুমার বিশ্বাস বাদী হয়ে অস্ত্র আইন ও ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে দুটি আলাদা মামলা করেছেন। গুলিবিদ্ধ তিনজনসহ আরও ১৫-১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

No comments:

Post a Comment