Thursday, May 8, 2014

অস্ত্রের ব্যাগ পৌঁছালেই ওরা পেতো ৪০ হাজার টাকা

চট্টগ্রাম স্টেশনে দু’জন লোক এসে দুটি ব্যাগ দেয়। তারা আমাদের বলে ব্যাগ দু’টি ঢাকায় পৌঁছালে ৪০ হাজার টাকা দিয়ে একজন লোক ব্যাগ নিয়ে চলে যাবে। আমরা ঢাকার লোকদের চিনিনা।’ রাজধানীর কমলাপুরে অত্যাধুনিক একে ২২সহ অস্ত্র বিস্ফোরকসহ আটক হওয়ার পর নুরুল ইসলাম ও শামিম ওরফে আব্দুল্লাহ রিমান্ডে এমনই তথ্য দিয়েছে পুলিশের কাছে। ১০ দিনের রিমান্ড শেষ হওয়ার পর কমলাপুর জিআরপি পুলিশ বৃহস্পতিবার তাদের জেল হাজতে পাঠিয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বাংলানিউজকে এই তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার তাদের ১০ দিনের রিমান্ড শেষে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অধিকতর তদন্তের স্বার্থে আরো ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ১০ দিনের জিজ্ঞাসাবাদে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই বাছাই চলছে। তদন্তের স্বার্থে তা বলা যাচ্ছেনা। তবে নাশকতার উদ্দেশে যে এগুলো রাজধানীতে নিয়ে আসা হচ্ছিল সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। এসআই রফিকুল ইসলাম আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে বাংলানিউজকে বলেন, চট্টগ্রাম থেকে এক ব্যক্তি তাদের দুটো ব্যাগ দেয়। ব্যাগ দিয়ে বলে এগুলো ঢাকায় পৌঁছালে কমলাপুর স্টেশনে তাদের ফোন দিয়ে একজন লোক সেগুলো রিসিভ করবে। ওই ব্যক্তি তাদের দু’জনকে ২০ হাজার করে ৪০ হাজার টাকা দেবে। ঢাকার লোকের ফোন নম্বর তখন তাদের দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম থেকে যে লোক অস্ত্রের এ ব্যাগ তাদের হাতে দিয়েছে আমরা তাদের খোঁজ খবর নেওয়ার চেষ্টা করছি। মামলা সংক্রান্ত আরো কিছু বিষয় জিজ্ঞাসাবাদের বাকি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কারণে আরো ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। তাদের দেওয়া আরো কিছু তথ্য আমরা যাচাই বাছাই করে দেখছি। এই অস্ত্র ঢাকায় কার নিকট আসছিল সে বিষয়ে আমাদের তদন্তে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। আমরা এই অস্ত্রের মূল হোতাদের গ্রেফতারে কাজ করছি। এদিকে জিআরপি পুলিশের একটি সূত্র বাংলানিউজকে জানায়, আটককৃত শামীম চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এ অস্ত্রগুলো জামায়াত ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের কাছে যেতো। সাঈদীর ও নিজামীর রায় উপলক্ষে শিবির দেশব্যাপী নাশকতার উদ্দেশে এই ভারি অস্ত্রগুলো রাজধানীতে এনে মজুদ করছিল।আটককৃতরা কিছু নামও বলেছে। সেগুলো যাচাই বাছাই চলছে। তাদেরকে আটক করার জন্য চেষ্টাও চালানো হচ্ছে।গত ২৮ এপ্রিল রাজধানীর কমলাপুরে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা সুবর্ণ এক্সপ্রেস নামের ট্রেন থেকে জিআরপি কমলাপুর থানা পুলিশ অত্যাধুনিক একে ২২সহ বেশ কিছু অস্ত্র, গোলাবারুদ উদ্ধার করে। এর একদিন পরেই কমলাপুর স্টেশন থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় আরেকটি অত্যাধুনিক একে ২২সহ একই পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। ২য় দিন উদ্ধার করা ব্যাগে আটককৃত শামীমের জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া যায়। এতে করে পুলিশের ধারণা তারা দুটো ব্যাগে করে এই অত্যাধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ রাজধানীতে নিয়ে আসছিল। এই ঘটনায় ২ মামলায় দু’জনের ২০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

No comments:

Post a Comment