মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আদালত
স্থিতাবস্থার নির্দেশ দিলেও ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী তা
মানেননি। বরং তিনি লিখিতভাবে আদালতের আদেশ অমান্য করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে
বাংলাদেশ টেলি কমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) ব্যবস্থাপনা
পরিচালককে (এমডি) নির্দেশ দিয়েছেন। এ ঘটনা ঘটেছে লন্ডনভিত্তিক জমির
টেলিকমের সঙ্গে।

২০০৭
সাল থেকে জমির টেলিকম বিটিসিএলকে বৈদেশিক কলের সংযোগ প্রদানের কাজ করে
আসছে। এর তিন বছর পর উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দেনা-পাওনাসংক্রান্ত সমস্যায়
দুটি প্রতিষ্ঠানই আদালতের দ্বারস্থ হয়। বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের
পাশাপাশি জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আইন অনুযায়ী বিষয়টির সুরাহার
প্রক্রিয়া চলছে আন্তর্জাতিক আরবিট্রেশনাল কোর্টে। এ অবস্থায় আদালতের
নির্দেশ ছিল, মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জমির টেলিকম আগের মতোই
বিটিসিএলকে বৈদেশিক কলের সংযোগ দিয়ে যাবে। বিটিসিএলের এমডি বরাবর গত ২০
মার্চ লিখিত নির্দেশে টেলিযোগাযোগমন্ত্রী বলছেন, ‘বেলা একটা ১২ মিনিটে
টেলিফোনে আদেশ দেওয়ার পর বিটিসিএলের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছয়টা
৫০ মিনিটে সংসদ কার্যালয়ে অগ্রদূতের মতো হাজির হয়ে জানান, আপনার আদেশ
কার্যকর করা সম্ভব নয়। মহামান্য হাইকোর্ট এ ব্যাপারে মামলা নিষ্পত্তি না
হওয়া পর্যন্ত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দিয়েছেন। শুনে নিজ দায়িত্বে
আদালত অবমাননার দায় মাথায় নিয়ে লিখিত আদেশ দিচ্ছি, এই মুহূর্তে জমির
টেলিফোন কোম্পানির কেরিয়ার বন্ধ করতে। ৩০০ কোটি টাকার ওপরে যে কোম্পানির
কাছে পাওনা, তার প্রতি মহামান্য হাইকোর্ট ঔদার্য প্রদর্শন করে আইনের অধিকার
দিলেও জনপ্রতিনিধি ও মন্ত্রী হিসেবে এ ধরনের অন্যায় মেনে নেওয়া সম্ভব
নয় বলে আদেশ দিচ্ছি, এই টোকা লেটারের সঙ্গে কেরিয়ারটির সব সংযোগ বন্ধ
করতে হবে।’ বিটিসিএলের সঙ্গে জমির টেলিকমের এই সংযোগ বিচ্ছিন্নতার দায়
বিটিসিএলের কোনো কর্মকর্তাই নিতে চাননি। আওয়ামী লীগ বর্তমান মেয়াদে সরকার
গঠনের পর আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ
প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এদিকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার
পর জমির টেলিকম আবারও আদালতে যায়। কেন তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা অবৈধ হবে
না, তা জানতে বিটিসিএলকে নোটিশ জারি করেন আদালত। এ নিয়ে নিয়ে সম্প্রতি
ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত
সংসদীয় কমিটিতে আলোচনা হয়। সেখানেও মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী দম্ভের
সঙ্গে বলেন, সব জেনে বুঝেই তিনি এই নির্দেশনা দিয়েছেন। এ বিষয় নিয়ে
জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘যা ইচ্ছে লেখো, আমি জেনে-বুঝেই লিখিত নির্দেশনা
দিয়েছি।
No comments:
Post a Comment