বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.)
হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, আমরা সবাই অপেক্ষা করছি কবে সরকারের ওপর গজব
নামবে। আবারো রাজপথে নেমে সরকারের বিরুদ্ধে এ গজব ত্বরান্বিত করতে হবে।
শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে স্বাধীনতা ফোরাম কেন্দ্রীয় সংসদের উদ্যোগে
আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি একথা বলেন। ‘নিরাপত্তা সংকটে নাগরিক জীবন:
উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহবায়ক রেজাউল কবির
শিকদার। সেমিনারে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ ও
যুবদল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ।

হাফিজ
বলেন, এমন একটি নির্বাচনী ব্যবস্থা খুঁজে নিতে হবে যাতে করে প্রকৃত
রাজনীবিদরা জাতীয় সংসদে আসীন হতে পারেন। নির্বাচন কমিশনকে কলঙ্কমুক্ত করতে
হলে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন জরুরি। যারা দলনিরপেক্ষ ব্যক্তি হবেন তাদেরই
কমিশনে নিয়োগ দিতে হবে। এজন্য চাই ভারতের মতো শক্ত নির্বাচন কমিশন। রাষ্ট্র
পরিচালনার মতো যোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেবে কমিশন।
তিনি বলেন, রাজনীতি এখন আতঙ্কের বিষয়। রাজনীবিদ শুনলে মানুষের মনে আতঙ্ক
তৈরি হয়। আগামীদিনে ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আন্দোলনে নামতে হবে। যুবদল
সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র
বিপ্লবের ডাক দিয়েছেন। আলাল বলেন, ৭২ সালেও দেশের পরিস্থিতি এতটা খারাপ ছিল
না। তখন একতরফা কিছু ছিল না। একদিকে রক্ষীবাহিনী যেমন ছিল, অন্যদিকে সিরাজ
শিকদারের বাহিনীও ছিল। সিরাজ শিকদারের বাহিনীর কারো লাশ পড়লে, আওয়ামী
লীগের কর্মীদের লাশও পাওয়া যেত। কিন্তু এখন সবকিছু একতরফা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয়
বাহিনী দিয়ে সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে। এদের রুখতে সশস্ত্র বিপ্লব সংগঠনের
আহবান জানান তিনি। তিনি বলেন, যেহেতু এ সরকার অবৈধ। তাই আইন
শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে
ইচ্ছা করলে এসব করতে পারতো। কিন্তু বিএনপি উদার গণতান্ত্রিক দল। তাই এসবে
বিশ্বাস করে না। যুবদল সভাপতি বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের ক্রেস্ট নিয়ে
দুর্নীতি করেছে তাদের বিরুদ্ধে খালি হাতে লড়াই করা উচিত নয়। সেনাবাহিনী
থেকে কমান্ডো বাহিনী পাঠিয়ে র্যাবের ১১ কার্যালয় ঘেরাও করে তল্লাশি চালায়ে
আরো অনেক কিছু পাওয়া যাবে। রাষ্ট্রীয় কৌশল নির্ধারণে বিএনপি তাৎক্ষণিক
কিছু ভুল করেছে। সেটি স্বীকার করি। তবে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। এদের হঠাতে
হলে দরকার জনগণের শক্তি।
No comments:
Post a Comment