প্রয়োজনে তিস্তার পানি বন্টন ইস্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক ফোরামে যাবে
সরকার। ভারতের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক সমঝোতা না হলে এ উদ্যোগ নেওয়া হবে। একথা
বলেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি। তিনি আরও
বলেন, ভারতের চলমান নির্বাচন শেষে নতুন সরকার আসার পরপরই তাদের সঙ্গে
তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা চাইতে আরেক দফা চেষ্টা চলবে। এতেও কাজ না হলে
বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ফোরামের কাছে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান চাইবে। বুধবার
রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক-ইন সেন্টারে ‘বাংলাদেশের সমম্বিত পানিসম্পদ
মূল্যায়ন’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যার জন্য ভারতের সঙ্গে
আলাপ-আলোচনা করা হবে সে দেশের নির্বাচনের পর।

এতে
সমঝোতা না হলে এ নিয়ে আর্ন্তজাতিক ফোরামে যাওয়া হবে। সমুদ্রসীমা নিয়েও
আমরা সমঝোতার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিলাম। পরে আর্ন্তজাতিকভাবে সেটি
সমাধানের পথে রয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে একটা ফলাফল পাওয়া যাবে বলে আশা
করছি। মন্ত্রী বলেন, এ বছর তিস্তার পানি উল্লেখ্যযোগ্য কমার পরে দু’দেশের
সচিব পর্যায়ে বৈঠক হয়েছিল। তাতে কোনো ফল আসেনি। আমরা তিস্তার পানির ন্যায্য
হিস্যা চাই। কারণ, অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে পানি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। পানি
না পাওয়ার কারণে এবার ২৫ লাখ হেক্টর ফসল উৎপাদন কমে গেছে। ইনস্টিটিউট অব
ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম) ও কমনওয়েলথ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল
রিসার্চ অর্গানাইজেশনের যৌথ উদ্যোগে অস্ট্রেলিয়ান এইডের আর্থিক সহযোগিতায়
‘বাংলাদেশের সমম্বিত পানিসম্পদ মূল্যায়ন’ শীর্ষক গবেষণা পরিচালনা করেছে।
গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, উন্নত বাংলাদেশ প্রতিবেশী ভারতকে সর্বোচ্চ
নিরাপত্তা দিতে পারে। কিন্তু অনুন্নত বাংলাদেশ ভারতের জন্য হুমকিস্বরুপ।
প্রতিবেশী হিসেবে একসঙ্গে বাঁচতে হলে আমাদের প্রাপ্ত ন্যার্য হিস্যা দিতে
হবে। ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ের নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর ড. এম
মনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
মুহাম্মাদ নজরুল ইসলাম হিরু বীরপ্রতীক, সচিব ড. জাফর আহমেদ খান, বাংলাদেশে
অস্ট্রেলীয় হাইকমিশনার গ্রেগ উইলকক কর্মশালা ‘বাংলাদেশের সমম্বিত
পানিসম্পদ মূল্যায়ন’ শীর্ষক গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফলের ওপর প্রতিবেদন
উপস্থাপন করেন কমনওয়েলথ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ
অর্গানাইজেশনের অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধি ড. ম্যাক কিরবি। কমনওয়েলথ
সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ অর্গানাইজেশন এবং আইডব্লিউএম
ছাড়াও এ গবেষণায় সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড,
সিইজিআইএস, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং পানিসম্পদ পরিকল্পনা
সংস্থা। কর্মশালায় পানির গুণগতমান এবং ভূগর্ভস্থ পানির ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবহার
সম্পর্কে সতর্ক করা হয়। কৃষিকাজে ব্যবহার্য জমির ক্রমহ্রাস, কৃষিজমিতে
লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকির বিষয়টি উঠে
আসে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ২০৩০ সাল এবং ২০৫০ সাল নাগাদ এ ভারসাম্যের
পরিমাণে কী পরিবর্তন হতে পারে কর্মশালায় এ নিয়েও প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
বাংলাদেশের সমম্বিত পানিসম্পদ মূল্যায়ন একটি ফিজিক্যাল এবং আর্থ-সামাজিক
দৃষ্টিকোণ থেকে পরিচালিত গবেষণা। ঐতিহাসিক পানি ব্যবহার, ফসল উৎপাদন এবং
ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি, গবেষণায় সহযোগী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে
দক্ষতা বৃদ্ধি, অভিজ্ঞতা বিনিময়, সমম্বয়ভিত্তিক গবেষণা কার্যক্রমের মাধ্যমে
পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় অধিকতর উন্নয়ন ও বিদ্যমান সমস্যার সমাধানে কার্যকর
সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান বেরিয়ে আসবে বলে
আশা প্রকাশ করেন কর্মশালার বক্তারা। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ, মন্ত্রণালয়, দাতা সংস্থার প্রতিনিধিরা এতে অংশগ্রহণ ও মতামত ব্যক্ত করেন।
No comments:
Post a Comment