Wednesday, May 7, 2014

নেত্রকোনায় বাবা-ছেলে ফাঁসি, ৪ জনের যাবজ্জীবন

নেত্রকোনায় আবদুল কদ্দুছ হত্যা মামলায় বাবা ও ছেলের ফাঁসি, চারজনের যাবজ্জীবন ও ১৪ জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত হাওয়ায় দু’জনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নেত্রকোনার অতিরিক্ত দায়রা জজ আবদুল হামিদ এ দণ্ডাদেশ দেন। এর মধ্যে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড, একই সঙ্গে ১০ বছর সাজাপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে দুই বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। 
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, জেলার দুর্গাপুর উপজেলার মৌ গ্রামের বাবা আবদুল খালেক ও তার ছেলে আবদুল গণি। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ প্রাপ্তরা হলেন- ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আবদুল খালেকের দুই ছেলে- একই গ্রামের আবদুল করিম, আবদুর রহিম, মৃত চাঁদ আলীর দুই ছেলে আবদুর রহমান ও আবদুর রব। ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- মৌ গ্রামের আবদুল খালেকের ছেলে আবদুল হেকিম, আবদুল মজিদের ছেলে আবুল হাসিম, মৃত উমেদ আলীর ছেলে আবদুল মজিদ, মৃত আফিল উদ্দিনের দুই ছেলে হাশিম উদ্দিন, জালাল উদ্দিন, মৃত শহর আলীর ছেলে রহমত আলী, রহমত আলীর ছেলে সিরাজুল ইসলাম, মুজিবুর রহমানের ছেলে বাচ্চু মিয়া, আজম আলীর দুই ছেলে আইয়ুব আলী, মাহাতার আলী, মাহাতাব আলীর ছেলে ফারুক মিয়া, আবদুল কাদিরের ছেলে নুরু মোহাম্মদ, মৃত আলী নেওয়াজের ছেলে আবদুর রশিদ, মৃত রহমত আলীর ছেলে আজিজুল ইসলাম। বেকসুর খালাস প্রাপ্তরা হলেন-রহমত আলীর স্ত্রী আদুরী বেগম ও আবদুর রহমানের স্ত্রী হাজেরা খাতুন। রায় ঘোষণার সময় নুরু মোহাম্মদ ছাড়া সব আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালত সূত্র জানায়, পূর্ব শশ্রুতার জের ধরে ২০০১ সালের ১৯ ডিসেম্বর সকালে জেলার দুর্গাপুর উপজেলার মৌ গ্রামের আবদুল কদ্দুছকে আসামিরা বাদী আবুল হাসেমের ভাইয়ের বাড়ির সামনে পিটিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় ২২ ডিসেম্বর নিহতের ছেলে আবুল হাসিম ২২ জনকে আসামি করে দুর্গাপুর থানায় মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে ২০০২ সালের ১৬ মে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বুধবার এ রায় দেন আদালত। বাদীপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পিপি সাইফুল আলম প্রদীপ। আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন মাহবুব। অতিরিক্ত সাইফুল আলম বাংলানিউজের কাছে এসব সত্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

No comments:

Post a Comment