Sunday, May 18, 2014

ত্বাহা ফিরে পেল মায়ের কোল...

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে জয়ী হয়ে আট বছর বয়সী ছেলে আহনাফ তাহমীদ ওরফে ত্বাহাকে নিজ হেফাজতে রাখার অধিকার পেলেন মা নাজনীন পারভীন। ঢাকার ১৩ নম্বর সহকারী জজ ও পারিবারিক আদালতের চূড়ান্ত রায়ের মাধ্যমে মায়ের কোল ফিরে পেল শিশু ত্বাহা। 
ত্বাহার মা ২০১২ সালে তাকে নিজের কাছে রেখে লালন পালনের জন্য  আদালতে মামলা করেন। গত ২৩ এপ্রিল আদালত এ ব্যাপারে চূড়ান্ত আদেশ দেন। নাজনীন পারভীন জানান, ২০০৪ সালে জুলফিকার এ রবির সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের মাত্র আড়াই মাসের মাথায় নাজনীনকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতে শুরু করেন স্বামী। নাজনীন পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে একটি বিউটি পার্লারের মালিক। তাঁর আয়েই সংসার চালাত। তাঁকে স্বামীর নানা বায়না মেটাতে হতো। ২০০৯ সালে তাঁদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। বিবাহ বিচ্ছেদের পর ত্বাহার বাবা-মা আলাদা হয়ে যান। ছোট্ট শিশুটিকে নিয়ে শুরু হয় মা-বাবার মধ্যে আইনি লড়াই। আদালতে কান্নাকাটি করে মায়ের কাছে থাকার কথা জানায় শিশুটি। ছোট বয়সেই নানা প্রতিকূলতা দেখে ত্বাহার মধ্যে দেখা দিয়েছে অস্বাভাবিকতা। আদালতে বিচারকও বলেছেন, ত্বাহা মানসিক চাপ ও পরিবেশের কারণে বয়সের তুলনায় বেশি পরিপক্ব, যা অস্বাভাবিক। ছেলেকে নিজ জিম্মায় রাখা ও স্বামীর দেওয়া বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় নাজনীন আইনি সহায়তা নিচ্ছেন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) ঢাকা ইউনিটের কাছ থেকে। ব্লাস্টের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত নাজনীনের নামে জুলফিকার ঢাকার বিভিন্ন আদালতে মোট ১৩টি মামলা করেছেন। নাজনীন কাবিনের টাকা পরিশোধ করার জন্য স্বামীর নামে মামলা করেছেন। নাজনীন প্রথম আলোকে বলেন, ছেলেকে ভালো পরিবেশে রেখে মানুষ করাই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। পার্লারের পাশাপাশি বুটিকের ব্যবসাও করছেন তিনি। আর ত্বাহা বর্তমানে পুরান ঢাকার একটি স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ছে। বাবাকে নিয়ে স্কুলের সহপাঠীসহ সবার বিভিন্ন প্রশ্নে বিরক্ত হয়ে ত্বাহা নিজে থেকেই সবাইকে বলে, তার বাবা দুর্ঘটনায় মারা গেছে। বড় হয়ে কী হতে চাও—জানতে চাইলে ত্বাহা বলে, ‘বিচারক হব। বিচারক হলে বাবাকে শাস্তি দিতে পারব।’ বিভিন্ন অভিযোগের ব্যাপারে বক্তব্য জানতে চাইলে জুলফিকার এ রবি বলেন, তাঁর সাবেক স্ত্রী তাঁর সম্পর্কে মিথ্যা বলেছেন। মুঠোফোন ও বিভিন্নভাবে নাজনীন তাঁকে হুমকি দিচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। ছেলেকে ফিরে পেতে তিনি উচ্চ আদালতে আবেদন করবেন বলে জানান।

No comments:

Post a Comment