Sunday, May 18, 2014

নূর হোসেনের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের অভিযোগে মামলা

নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনার মামলার প্রধান আসামি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলার নূর হোসেনের বাড়িতে আদালতের নির্দেশে অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ করার সময়ে পাখি উদ্ধারের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ নিয়ে সেভেন মার্ডারের পর নূর হোসেনের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা হয়েছে। 
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বাংলানিউজকে জানান, অবৈধভাবে বণ্যপ্রাণী সংরক্ষণের অভিযোগে রোববার বিকেলে গাজীপুর বন বিভাগের রেঞ্জার মো. ফজলুল হক বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জের একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় নূর হোসেনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর আগে নূর হোসেনের বাড়ি থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই মাসুদউদ্দিন খান বাদী হয়ে গত শুক্রবার সকালে একটি মামলা দায়ের করেন। গত বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে ৪টা থেকে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলের টেকপাড়ায় নূর হোসেনের মালিকানাধীন দুই তলা ভবনের নিচ তলার কলাপসিবল গেটের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে পুলিশ এ অভিযান শুরু করে। স্থানীয় ৫ জন সাক্ষীর উপস্থিতিতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে ৫০ সদস্যের একটি পুলিশ টিম এ ক্রোক অভিযান চালায়। অভিযানে বাড়ির উঠানে থাকা তিনিট খাঁচার মধ্যে থাকা তিনটি বিদেশি পাখিসহ শতাধিক পাখিও জব্দ করা হয়। গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থেকে একসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, নজরুলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার এবং তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ইব্রাহিমকে অপহরণ করা হয়। পরদিন ২৮ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন নজরুল ইসলামের স্ত্রী। কাউন্সিলর নূর হোসেনকে প্রধান করে মামলায় আসামি করা হয় মোট ১২ জনকে। ঘটনার পর থেকেই নূর হোসেন পলাতক রয়েছেন। গত ৩০ এপ্রিল বিকেলে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ৬ জন এবং ১ মে সকালে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত সবারই হাত-পা বাঁধা ছিল। পেটে ছিল আঘাতের চিহ্ন। প্রতিটি লাশ ইটভর্তি দু’টি করে বস্তা বেঁধে ডুবিয়ে দেওয়া হয়।

No comments:

Post a Comment