যুক্তরাজ্য বিএনপির সহসভাপতি ও সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি
মুজিবুর রহমান (৫৬) তাঁর গাড়ির চালকসহ ‘নিখোঁজ’ হয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ
থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। গত রোববার রাত থেকে ওই নেতা ও তাঁর গাড়ির চালকের
মুঠোফোন বন্ধ রয়েছে। এ ব্যাপারে আজ মঙ্গলবার সুনামগঞ্জ সদর থানায় একটি
সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। জেলা বিএনপির নেতারা শহরের নন্দন প্লাজায়
বেলা একটার দিকে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রবাসী বিএনপির নেতা
মুজিবুর রহমান গত রোববার সুনামগঞ্জ শহরের শহীদ মিনারে বিএনপির গণ-অনশন
কর্মসূচিতে যোগ দেন। বিকেলে তিনি তাঁর ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে সিলেটে রওনা
দেন। এরপর থেকে চালক রেজাউল হকসহ (৩২) তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
মুজিবুর
রহমানের গ্রামের বাড়ি দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের সুলতানপুর
গ্রামে। সুনামগঞ্জ শহরের হাজিপাড়া এবং সিলেট শহরে মুজিবুর রহমানের বাড়ি
রয়েছে। জিডিতে মুজিবুর রহমানের আত্মীয় রবিউল ইসলাম উল্লেখ করেন, রোববার
বিকেলে তিনি সিলেটের উদ্দেশে রওনা হন। এরপর রাত সাড়ে আটটা থেকে তাঁর
মুঠোফোন বন্ধ। সব জায়গায় তাঁদের খোঁজাখুঁজি করা হয়েছে। কিন্তু কোনো খোঁজ
পাওয়া যায়নি। রবিউল ইসলাম আরও জানান, মুজিবুর রহমান স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে
যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন। ছয় মাস আগে একা দেশে এসেছিলেন। রোববার বিকেলে
সুনামগঞ্জ থেকে সিলেটে রওনা হওয়ার আগে তাঁর ভাতিজা আবুল হোসেনের সঙ্গে ফোনে
কথা হয়। পরে রাতে আবুল হোসেন আবার তাঁকে ফোন করলে তাঁর ও গাড়িচালকের ফোন
বন্ধ পাওয়া যায়। সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক সাংসদ নাছির
উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, ‘আমরা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জীবিত এবং সুস্থ অবস্থায়
মুজিবুর রহমানের সন্ধান চাই। আগামীকাল বুধবার সকালে এ ঘটনায় সংগঠনের পক্ষ
থেকে শহরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে। সেখান থেকেই পরবর্তী কর্মসূচি
ঘোষণা করা হবে।’ এ সময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ওয়াকিফুর রহমান
গিলমান, আবদুল লতিফ, নাদির আহমদ, আ স ম খালিদ, রেজাউল হক, আবুল মনসুর শওকত,
পৌর কাউন্সিলর আবদুল্লাহ আল নোমান এবং গাড়িচালক রেজাউল হকের বাবা ওয়াহিদুল
হক উপস্থিত ছিলেন। এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
(ওসি) মো. জানে আলম খান বলেন, ‘দুজন ব্যক্তির মোবাইল ফোন দুদিন ধরে বন্ধ
পাওয়া যাচ্ছে—থানায় এ রকম একটি জিডি হয়েছে। এখানে বিএনপির কোনো নেতার কথা
উল্লেখ নেই। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।’

No comments:
Post a Comment