সাধারণ রোগ সহজে সারছে না: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা
হচ্ছে, মূত্রতন্ত্রের প্রদাহের জন্য যে অ্যান্টিবায়োটিক আছে, গত শতকের আশির
দশক থেকে তা খুব কম কাজ করছিল। এখন এটি একেবারে অকার্যকর হয়ে গেছে।
গবেষকেরা দেখেছেন, যৌনরোগ গনোরিয়ার ওষুধ খোদ যুক্তরাজ্যে আর কাজ করছে না।
গনোরিয়ার কারণে বন্ধ্যত্ব দেখা দিতে পারে। সারা বিশ্বে ১০ লাখেরও বেশি
মানুষ প্রতিদিন গনোরিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা
বলছেন, কোনো কোনো দেশে অর্ধেক জনগোষ্ঠীর ওপর আর অ্যান্টিবায়োটিক কোনো কাজ
করবে না এমন আশঙ্কা রয়েছে। ড. কেজি ফুকুদা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহকারী
মহাপরিচালক বলেন, ‘জরুরি ভিত্তিতে সবার সমন্বিত চেষ্টা দরকার। কারণ বিশ্ব
এখন অ্যান্টিবায়োটিক পরবর্তী যুগে প্রবেশ করতে চলেছে। খুব সাধারণ সংক্রমণ,
সামান্য কাটাছেঁড়া থেকে মানুষ মারা যাবে। অথচ শুধু অ্যান্টিবায়োটিক থাকায় এ
রোগগুলো খুব সহজেই সারত বা সেরেছে এতকাল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ, হাসপাতালে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ
এবং রোগ প্রতিরোধে টিকা ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। গত বছর যুক্তরাজ্যের প্রধান
চিকিত্সা কর্মকর্তা প্রফ ডেম স্যালি ডেভিস বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতার মতো
ভয়াবহ ওষুধ প্রতিরোধী রোগগুলো। মেডিসিন স্যানস ফ্রন্টিয়ার্সের চিকিত্সা
পরিচালক জেনিফার কোন বলেন, ‘যেদিকেই তাকাই, অ্যান্টিবায়োটিকের জীবাণু
প্রতিরোধী হয়ে ওঠা দেখি। সেটা নাইজারের পুষ্টিকেন্দ্র হোক আর সিরিয়ায়
অস্ত্রোপচার ইউনটিই হোক।’ তিনি বলেন, ‘মূলত এ প্রতিবেদনটি একটি
সতর্কবার্তা। এখনই জেগে উঠতে হবে। নতুন নতুন অ্যান্টিবায়োটিক উত্পাদন ও
বাজারজাতকরণে সরকারগুলোকে উদ্যোগ নিতে হবে। পেটেন্টের কথা চিন্তা করলে হবে
না। উন্নয়নশীল দেশগুলোর চাহিদাকে মাথায় রাখতে হবে। জেনিফার বলেন, ‘এ
মুহূর্তে আমাদের যা প্রয়োজন, অ্যান্টিবায়োটিকের বিবেচনাপ্রসূত ব্যবহার।
উন্নতমানের অ্যান্টিবায়োটিক যেন তাদের কাছেই পৌঁছায়, যাদের এটা প্রয়োজন।
আবার খেয়াল রাখতে হবে, এগুলো যেন বেশি ব্যবহার না হয় এবং দামও যেন খুব বেশি
না হয়।
No comments:
Post a Comment