তৃণমূল নিয়ে বারবার নির্দেশনা দিয়েও থামানো যায়নি আওয়ামী লীগের সিনিয়র
নেতাদের দ্বন্দ্ব। ক্রমেই বেড়ে চলেছে তাদের দূরত্ব। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে
দলটির সাংগঠনিক অবস্থা। মান অভিমানে এলাকাবিমুখ অনেক নেতা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত
হচ্ছে তৃণমূল সংগঠন ও নেতা-কর্মীরা। দ্বিতীয়বারের ক্ষমতায় এসে দল ও সরকার
একসঙ্গে গোছানোর কথা বললেও কার্যত সরকারেই ব্যস্ত আওয়ামী লীগ। দলটির
সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিয়ন্ত্রিত সাত বিভাগীয় সম্পাদক নিয়ে
একটি সাংগঠনিক টিম আছে আওয়ামী লীগের। আছে সভাপতিমণ্ডলী ও সম্পাদকদের
নজরদারি। কিন্তু কোনোটাই কাজে আসছে না দলীয় সমন্বয়ের ক্ষেত্রে। এ পর্যন্ত
হাতে গোনা আট-দশটি জেলা ছাড়া কোথাও কোনো শক্তিশালী কমিটিও দেওয়া যায়নি
পুরনো ও সর্ববৃহৎ এ দলে।

যে
কারণে সরকারবিরোধী ঠুনকো আন্দোলনকেও মোকাবেলা করতে হচ্ছে প্রশাসন দিয়ে।
নেই কোনো সাংগঠনিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা। নেই আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা ও
বাস্তবায়নের মত স্থানীয় শক্তি। মহানগর আওয়ামী লীগের এক নেতার স্বীকারোক্তি,
বিরোধী জোটের আন্দোলন ও জাতীয় ইস্যু মোকাবেলার কারণেই কমিটি দেওয়া যাচ্ছে
না। অথচ কমিটি দিয়ে সরকারকে বেশি সহযোগিতা করা যাবে এটা যেন বুঝতে নারাজ
তারা। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, নূহ-উল
আলম লেনিন, যুগ্ম সারাধণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক
খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনের সঙ্গে কথা হয়
বাংলানিউজের। তারা বলেন, প্রায় সবক’টি জেলাতেই সাংগঠনিক শক্তি বর্ধন ও
তৃণমূলকে চাঙ্গা করার জন্য নির্বাচনের আগে ও পরে সফর করেছেন। অনেক জেলায়
কমিটি দেওয়া হয়েছে। বাকিগুলো কমিটি দেওয়ার প্রক্রিয়াধীন। খুব শিগগির কমিটি
হয়ে যাবে।তবে তাদের এ প্রক্রিয়া কবে নাগাদ শেষ হবে এর কোনো সদুত্তর পাওয়া
যায়নি। সাংগঠনিক সম্পাদকদের এলাকায়ও রয়েছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল। সাংগঠনিক
স্থবিরতা ও দলাদলি বেড়ে চললেও বিভাগভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক
সম্পাদকরা তা নিরসনে রীতিমতো অসহায়। কেন্দ্র থেকে বারবার তাগিদ দিলেও
কোন্দল নিরসনে ফলাফল শূন্য। দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
নির্বাচনের আগে জেলার নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় কোন্দল নিরসনের নির্দেশ
দিয়েছিলেন। তবে ঢাকা থেকে এলাকায় যাওয়ার আগেই দলীয় সভানেত্রীর নির্দেশ ভুলে
গেছেন কোন্দলে জড়ানো নেতারা। সাত বিভাগের মধ্যে ঢাকা বিভাগেই আওয়ামী লীগের
সাংগঠনিক অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। এ বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বে রয়েছেন আহমদ
হোসেন। তবে তার সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও বলা যায়নি, কারণ তিনি সাংবাদিকদের
এড়িয়ে চলেন। ধরেন না মুঠোফোন। সরাসরি কথা বললেও সাংগঠনিক কোনো কথা বলতে
নারাজ।
৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে বিরোধী জোটের আন্দোলন মোকাবেলায় ব্যাপক সক্ষমতা প্রদর্শন করলেও পরে দুর্বল হয়ে পড়েছে আওয়ামী লীগের আন্দোলনের ভ্যানগার্ডখ্যাত ঢাকা মহানগর শাখা। এখন সম্মেলন ও কমিটি দেওয়া নিয়ে জটিলতা তুঙ্গে। কারো মনোবল চাঙ্গা হলেও ভেঙে পড়ছেন অনেক ত্যাগী নেতা। গত নয় মাস ধরে সম্মেলন হলেও এখনও শেষ করা যায়নি সব থানা ও ওয়ার্ডের সম্মেলন। সম্মেলন হলেও কমিটি দেওয়ার কোনো আলামত এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না।
তবে এ বিষয়ে মুখও খুলছেন না নগর নেতারাও। তারা বলছেন, সম্মেলন হচ্ছে। সম্মেলন শেষ হলে কমিটির খসড়া দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে দেওয়া হবে। তিনি চূড়ান্ত করে দিলে ঘোষণা হবে। এ দীর্ঘসূত্রিতার কারণে আশাবাদী অনেকেই ঝিমিয়ে পড়ছেন।
এখন কর্মী সংকটে ভুগছে মহানগর আওয়ামী লীগ। দলীয় কর্মসূচিতে আর আগের মতো নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি চোখে পড়ে না। এছাড়া, মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এমএ আজিজ ও সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার মধ্যে চলছে ঠাণ্ডা লড়াই। আগ থেকে ওয়ার্ডে ও থানায় রয়েছে একাধিক কমিটি। এজন্য এখন কমিটি নিয়ে চলছে নানা টালবাহানা।
এছাড়া, ঢাকা বিভাগের বাকি ১৭টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ১৫টির সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছে ২০০৩ সাল থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে। এরপর এ পর্যন্ত কোনো জেলায় সম্মেলন করা হয়নি। নিম্নে এ জেলাগুলোর বিবরণ তুলে ধরা হলো:
নারায়ণগঞ্জ: ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলা নারায়ণগঞ্জ। সময়ের আলোচিত-সমালোচিত সব ঘটনার জনক। আগে সাংগঠনিক বেশ সহায়তা দিলেও এখন কোমর ভাঙার দৌড়ে ব্যস্ত সেখানকার নেতারা। এ জেলায় আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল ১৯৯৭ সালে। সম্মেলন থেকে নাজমা রহমানকে সভাপতি, শামীম ওসমানকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয়। ২০০২ সালে এ কমিটি ভেঙে আকরাম হোসেনকে আহ্বায়ক করে কমিটি দেওয়া হয়। নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন নিয়ে মনোমালিন্য হওয়ার কারণে ২০১১ সালের ১ নভেম্বর আকরাম হোসেন পদত্যাগ করলে সংগঠনে স্থবিরতা নেমে আসে। এখনও রাহুরগ্রাসে আছে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ।
নেত্রকোনা: ঢাকা বিভাগ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা আহমদ হোসেনের জেলা নেত্রকোনা। এ জেলায় আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয় ২০০৪ সালের ২৭ জানুয়ারি। সেসময় শামছুজ্জোহা সভাপতি ও আশরাফ আলী খান খসরু সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামছুজ্জোহা ১/১১ পরবর্তী সময়ে দলীয় প্রধান সম্পর্কে কটূক্তি করে মিডিয়ায় বিবৃতি দেওয়ার অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কৃত হন। তখন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মতিয়ার রহমান খানকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে সাধারণ সম্পাদক আশরাফ আলী খান খসরু দলীয় মনোনয়ন পেয়ে সদর আসনের এমপি, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মতিয়ার রহমান খান জেলা পরিষদের প্রশাসক, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রশান্ত কুমার রায় পৌর মেয়র, সদর উপজেলা সম্পাদক জিএম খান পাঠান বিমল পিপিসহ অনেকেই বিভিন্ন দায়িত্বশীল পদে অধিষ্ঠিত হন। এর পরিণতিতে কয়েক বছর ধরে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা দেখা দেয়। এছাড়া দুর্গাপুর, কলমাকান্দা, আটপাড়া, পূর্বধলা উপজেলায় দলের মধ্যে কোন্দল বিরাজ করছে। এতে জেলা সম্মেলন নিয়ে সাধারণ নেতা-কর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক অনিশ্চয়তা।
কিশোরগঞ্জ: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের নিজ জেলা। সেখানকার চিত্র অনেকটা বিপজ্জনক। জেলায় সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল ১৬ বছর আগে। ওই সম্মেলনে বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে সভাপতি, শামসুল হক গোলাপ মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা কমিটি গঠন করা হয়। আবদুল হামিদ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হওয়ায় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি সৈয়দ ওয়াহিদুল ইসলাম পট্টু মিয়া বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। স্পিকার হয়েছেন রাষ্ট্রপতি।কিন্তু ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বয়স ও সংগঠনের ভারে অনেকটা কাবু হয়ে পড়েছেন। নেই তার সাংগঠনিক তৎপরতা। আর ১৯৯৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক গোলাপ মিয়ার মৃত্যু হলে কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন ঠাকুরকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করা হয়। ২০০৭ সালের ১৪ অক্টোবর শাহাবুদ্দিন ঠাকুরের মৃত্যুর পর থেকে অপর যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এম এ আফজাল ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। ভারে ভারেই চলে যাচ্ছে তার সময়! ২০০৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর সাংগঠনিক সম্পাদক জিন্নাতুল ইসলাম মৃত্যুবরণ করায় এ পদটি বর্তমানে শূন্য। এখানকার নেতা-কর্মীরাও বিভক্ত। দিবসভিত্তিক কর্মসূচি ছাড়া তেমন কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নেই কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের। উপজেলাগুলোতেও একই দশা।
ফরিদপুর: আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর জ্যেষ্ঠ সদস্য সৈয়দ সাজেদা চৌধুরী ও কাজী জাফরুল্লাহর জেলা। এখানে দলের বিভক্তি এতটাই ভয়াবহ, আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ যেন আওয়ামী লীগ নিজেই। দ্বন্দ্বের দুই মেরুতে রয়েছেন সৈয়দ সাজেদা চৌধুরী ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন। গত সরকারের (মহাজোট সরকার) আমলে সাজেদা-মোশাররফের কর্মী-সমর্থকরা আগাম ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষের প্রস্তুতিও নিয়েছিল একাধিকবার। মিডিয়ায় শিরোনাম হয়েছে দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বের নানা চিত্র। বর্তমান সময়ে আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মকাণ্ডও আলাদাভাবে পালন করা হয় ফরিদপুরে।
১০ বছর আগে সম্মেলন হলেও নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের তাগিদ নেই দলটির জেলা পর্যায়ে। ১০ বছর আগে কাজী জায়নুল আবেদীনকে সভাপতি ও হাসিবুল হাসান লাভলুকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সাধারণ সম্পাদক লাভলু মারা যাওয়ার পর মন্ত্রী মোশাররফ হোসেনের অনুসারী যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু এখানে বাদ সাধেন সাজেদা চৌধুরী। সাবেক সাধারণ সম্পাদক লাভলুর ভাই মঞ্জুরুল হাসান মিঠুকে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব দেন তিনি। বিগত পৌর নির্বাচনে সৈয়দ মাসুদ হোসেনের স্ত্রী দলীয় সমর্থন চাইলে মন্ত্রী তাতে সাড়া দেননি। ফলে মাসুদ তার অবস্থান পরিবর্তন করেন। বর্তমানে তিনি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবেই দলের দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যক্তি দ্বন্দ্বের কারণে এ জেলার ৯টি উপজেলায় ৫টি সম্মেলন হয়েছে।
শেরপুর: আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরীর জেলা শেরপুর জেলা শাখাও বেরিয়ে আসতে পারেনি অন্তর্কোন্দল থেকে। শেরপুরে জেলা পর্যায়ে শেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০০৪ সালে। তারপর আর কোনো সম্মেলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সরকার ও দলে প্রভাবশালী হলেও নিজ জেলায় দলীয় কোন্দল মেটাতে মতিয়ার উদ্যোগী ভূমিকা চোখে পড়ার মতো নয়। দলীয় কোন্দল মতিয়ার নিজ নির্বাচনী এলাকাতেই। মাঝে মধ্যে আশার আলো উঁকি দিলেও কোন্দলকেই সংক্রামক ব্যাধির মতো স্থায়ী রূপ দিতে চলেছে জেলা আওয়ামী লীগ। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদর আসনের সংসদ সদস্য আতিউর রহমান আতিক অবস্থান নিয়েছেন মতিয়ার বিপক্ষে। ইতোমধ্যেই আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক হিসেবে খ্যাত নালিতাবাড়ীতে দলের গ্রুপিং প্রকাশ্য। উপজেলা চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান বাদশা ও নালিতাবাড়ী পৌরসভার সাবেক মেয়র আবদুল হালিম উকিলসহ বেশ কিছু নেতা-কর্মী মতিয়া চৌধুরীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ১৮ বছর আগে নকলা ও ১১ বছর আগে নালিতাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠিত হলেও আজ পর্যন্ত নকলা উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি হয়নি। এ এলাকায় যুবলীগ এবং ছাত্রলীগেরও কোনো কমিটি নেই। টাঙ্গাইল: আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকী এবং কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ড. আবদুর রাজ্জাকের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়। তারা একজন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী, আরেকজন সাবেক খাদ্যমন্ত্রী। এখানে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শামসুর রহমান খান শাহজাহান মারা যাওয়ার পর আলমগীর খান মেনু ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ইতোমধ্যে সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান খান ফারুক নিজেকে এক গ্রুপের নেতা হিসেবে দাবি করছেন। টাঙ্গাইলে দু’জন মন্ত্রীর মধ্যে রয়েছে শীতল সম্পর্ক। তার মাঝে আবার একজন পাননি এবারে মন্ত্রিত্ব। এরা কখনো কোনো মিটিংয়ে মিলিত হননি। জেলার প্রতি তাদের মনোযোগ না থাকায় উপজেলাগুলোতেও নেই সম্মেলনের কোনো উদ্যোগ। মুন্সীগঞ্জ: সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ-উল আলম লেলিন ও উপ-দপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাসের জেলা মুন্সীগঞ্জ। এ জেলায়ও দলীয় কোন্দল মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বঙ্গবন্ধুর সহকর্মী মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের সঙ্গে এম ইদ্রিস আলীর দ্বন্দ্ব চরম পর্যায়ে। সদর থানা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলকে কেন্দ্র করেই বিরোধ এখন প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। এছাড়া, মহিউদ্দিনের ভাই সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আনিসুজ্জামান আনিস ইদ্রিসের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। নেতা-কর্মীরাও এখন প্রায় দুই ভাগে বিভক্ত। মাদারীপুর: দলের একাধিক সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাংগঠনিক সম্পাদকের স্থায়ী বাড়ি মাদারীপুর জেলায়। এই জেলায় আভ্যন্তরীণ কোন্দল যেন ক্রমাগত মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। দীর্ঘ এক দশক ধরে চলছে এক সদস্য বিশিষ্ট কমিটি দিয়ে। অথচ এই জেলার সংসদ সদস্য কৃষিবিদ আফম বাহাউদ্দিন নাছিম বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত। নিজের ঘরে বাতি নেই, আলো দিচ্ছেন উপাসনালয়ে! মাদারীপুরে ২০০৪ সালের সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়। সভাপতি ফেরদৌস জমাদার মারা যাওয়ার পর সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন মোল্লা একাই চালাচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগ। তিনি বাহাউদ্দিন নাছিমের আস্থাভাজন। এ জেলায় নির্বাচনী আসন নিয়ে তিন ভাগে বিভক্ত আওয়ামী লীগ। কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম এবং নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খানের বিবাদ প্রায় সর্বজনবিদিত। এছাড়া, দলের সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আবুল হোসেনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও দলের দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপের। দলের শ্রম সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজের সঙ্গে নূর এ আলম চৌধুরী লিটনের নীরব দ্বন্দ্ব চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। তিনজন প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় নেতা থাকা সত্ত্বেও বহুমুখী দ্বন্দ্বে মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থা একেবারে নাজুক।
৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে বিরোধী জোটের আন্দোলন মোকাবেলায় ব্যাপক সক্ষমতা প্রদর্শন করলেও পরে দুর্বল হয়ে পড়েছে আওয়ামী লীগের আন্দোলনের ভ্যানগার্ডখ্যাত ঢাকা মহানগর শাখা। এখন সম্মেলন ও কমিটি দেওয়া নিয়ে জটিলতা তুঙ্গে। কারো মনোবল চাঙ্গা হলেও ভেঙে পড়ছেন অনেক ত্যাগী নেতা। গত নয় মাস ধরে সম্মেলন হলেও এখনও শেষ করা যায়নি সব থানা ও ওয়ার্ডের সম্মেলন। সম্মেলন হলেও কমিটি দেওয়ার কোনো আলামত এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না।
তবে এ বিষয়ে মুখও খুলছেন না নগর নেতারাও। তারা বলছেন, সম্মেলন হচ্ছে। সম্মেলন শেষ হলে কমিটির খসড়া দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে দেওয়া হবে। তিনি চূড়ান্ত করে দিলে ঘোষণা হবে। এ দীর্ঘসূত্রিতার কারণে আশাবাদী অনেকেই ঝিমিয়ে পড়ছেন।
এখন কর্মী সংকটে ভুগছে মহানগর আওয়ামী লীগ। দলীয় কর্মসূচিতে আর আগের মতো নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি চোখে পড়ে না। এছাড়া, মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এমএ আজিজ ও সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার মধ্যে চলছে ঠাণ্ডা লড়াই। আগ থেকে ওয়ার্ডে ও থানায় রয়েছে একাধিক কমিটি। এজন্য এখন কমিটি নিয়ে চলছে নানা টালবাহানা।
এছাড়া, ঢাকা বিভাগের বাকি ১৭টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ১৫টির সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছে ২০০৩ সাল থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে। এরপর এ পর্যন্ত কোনো জেলায় সম্মেলন করা হয়নি। নিম্নে এ জেলাগুলোর বিবরণ তুলে ধরা হলো:
নারায়ণগঞ্জ: ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলা নারায়ণগঞ্জ। সময়ের আলোচিত-সমালোচিত সব ঘটনার জনক। আগে সাংগঠনিক বেশ সহায়তা দিলেও এখন কোমর ভাঙার দৌড়ে ব্যস্ত সেখানকার নেতারা। এ জেলায় আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল ১৯৯৭ সালে। সম্মেলন থেকে নাজমা রহমানকে সভাপতি, শামীম ওসমানকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয়। ২০০২ সালে এ কমিটি ভেঙে আকরাম হোসেনকে আহ্বায়ক করে কমিটি দেওয়া হয়। নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন নিয়ে মনোমালিন্য হওয়ার কারণে ২০১১ সালের ১ নভেম্বর আকরাম হোসেন পদত্যাগ করলে সংগঠনে স্থবিরতা নেমে আসে। এখনও রাহুরগ্রাসে আছে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ।
নেত্রকোনা: ঢাকা বিভাগ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা আহমদ হোসেনের জেলা নেত্রকোনা। এ জেলায় আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয় ২০০৪ সালের ২৭ জানুয়ারি। সেসময় শামছুজ্জোহা সভাপতি ও আশরাফ আলী খান খসরু সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামছুজ্জোহা ১/১১ পরবর্তী সময়ে দলীয় প্রধান সম্পর্কে কটূক্তি করে মিডিয়ায় বিবৃতি দেওয়ার অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কৃত হন। তখন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মতিয়ার রহমান খানকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে সাধারণ সম্পাদক আশরাফ আলী খান খসরু দলীয় মনোনয়ন পেয়ে সদর আসনের এমপি, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মতিয়ার রহমান খান জেলা পরিষদের প্রশাসক, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রশান্ত কুমার রায় পৌর মেয়র, সদর উপজেলা সম্পাদক জিএম খান পাঠান বিমল পিপিসহ অনেকেই বিভিন্ন দায়িত্বশীল পদে অধিষ্ঠিত হন। এর পরিণতিতে কয়েক বছর ধরে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা দেখা দেয়। এছাড়া দুর্গাপুর, কলমাকান্দা, আটপাড়া, পূর্বধলা উপজেলায় দলের মধ্যে কোন্দল বিরাজ করছে। এতে জেলা সম্মেলন নিয়ে সাধারণ নেতা-কর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক অনিশ্চয়তা।
কিশোরগঞ্জ: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের নিজ জেলা। সেখানকার চিত্র অনেকটা বিপজ্জনক। জেলায় সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল ১৬ বছর আগে। ওই সম্মেলনে বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে সভাপতি, শামসুল হক গোলাপ মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা কমিটি গঠন করা হয়। আবদুল হামিদ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হওয়ায় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি সৈয়দ ওয়াহিদুল ইসলাম পট্টু মিয়া বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। স্পিকার হয়েছেন রাষ্ট্রপতি।কিন্তু ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বয়স ও সংগঠনের ভারে অনেকটা কাবু হয়ে পড়েছেন। নেই তার সাংগঠনিক তৎপরতা। আর ১৯৯৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক গোলাপ মিয়ার মৃত্যু হলে কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন ঠাকুরকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করা হয়। ২০০৭ সালের ১৪ অক্টোবর শাহাবুদ্দিন ঠাকুরের মৃত্যুর পর থেকে অপর যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এম এ আফজাল ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। ভারে ভারেই চলে যাচ্ছে তার সময়! ২০০৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর সাংগঠনিক সম্পাদক জিন্নাতুল ইসলাম মৃত্যুবরণ করায় এ পদটি বর্তমানে শূন্য। এখানকার নেতা-কর্মীরাও বিভক্ত। দিবসভিত্তিক কর্মসূচি ছাড়া তেমন কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নেই কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের। উপজেলাগুলোতেও একই দশা।
ফরিদপুর: আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর জ্যেষ্ঠ সদস্য সৈয়দ সাজেদা চৌধুরী ও কাজী জাফরুল্লাহর জেলা। এখানে দলের বিভক্তি এতটাই ভয়াবহ, আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ যেন আওয়ামী লীগ নিজেই। দ্বন্দ্বের দুই মেরুতে রয়েছেন সৈয়দ সাজেদা চৌধুরী ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন। গত সরকারের (মহাজোট সরকার) আমলে সাজেদা-মোশাররফের কর্মী-সমর্থকরা আগাম ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষের প্রস্তুতিও নিয়েছিল একাধিকবার। মিডিয়ায় শিরোনাম হয়েছে দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বের নানা চিত্র। বর্তমান সময়ে আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মকাণ্ডও আলাদাভাবে পালন করা হয় ফরিদপুরে।
১০ বছর আগে সম্মেলন হলেও নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের তাগিদ নেই দলটির জেলা পর্যায়ে। ১০ বছর আগে কাজী জায়নুল আবেদীনকে সভাপতি ও হাসিবুল হাসান লাভলুকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সাধারণ সম্পাদক লাভলু মারা যাওয়ার পর মন্ত্রী মোশাররফ হোসেনের অনুসারী যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু এখানে বাদ সাধেন সাজেদা চৌধুরী। সাবেক সাধারণ সম্পাদক লাভলুর ভাই মঞ্জুরুল হাসান মিঠুকে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব দেন তিনি। বিগত পৌর নির্বাচনে সৈয়দ মাসুদ হোসেনের স্ত্রী দলীয় সমর্থন চাইলে মন্ত্রী তাতে সাড়া দেননি। ফলে মাসুদ তার অবস্থান পরিবর্তন করেন। বর্তমানে তিনি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবেই দলের দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যক্তি দ্বন্দ্বের কারণে এ জেলার ৯টি উপজেলায় ৫টি সম্মেলন হয়েছে।
শেরপুর: আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরীর জেলা শেরপুর জেলা শাখাও বেরিয়ে আসতে পারেনি অন্তর্কোন্দল থেকে। শেরপুরে জেলা পর্যায়ে শেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০০৪ সালে। তারপর আর কোনো সম্মেলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সরকার ও দলে প্রভাবশালী হলেও নিজ জেলায় দলীয় কোন্দল মেটাতে মতিয়ার উদ্যোগী ভূমিকা চোখে পড়ার মতো নয়। দলীয় কোন্দল মতিয়ার নিজ নির্বাচনী এলাকাতেই। মাঝে মধ্যে আশার আলো উঁকি দিলেও কোন্দলকেই সংক্রামক ব্যাধির মতো স্থায়ী রূপ দিতে চলেছে জেলা আওয়ামী লীগ। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদর আসনের সংসদ সদস্য আতিউর রহমান আতিক অবস্থান নিয়েছেন মতিয়ার বিপক্ষে। ইতোমধ্যেই আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক হিসেবে খ্যাত নালিতাবাড়ীতে দলের গ্রুপিং প্রকাশ্য। উপজেলা চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান বাদশা ও নালিতাবাড়ী পৌরসভার সাবেক মেয়র আবদুল হালিম উকিলসহ বেশ কিছু নেতা-কর্মী মতিয়া চৌধুরীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ১৮ বছর আগে নকলা ও ১১ বছর আগে নালিতাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠিত হলেও আজ পর্যন্ত নকলা উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি হয়নি। এ এলাকায় যুবলীগ এবং ছাত্রলীগেরও কোনো কমিটি নেই। টাঙ্গাইল: আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকী এবং কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ড. আবদুর রাজ্জাকের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়। তারা একজন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী, আরেকজন সাবেক খাদ্যমন্ত্রী। এখানে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শামসুর রহমান খান শাহজাহান মারা যাওয়ার পর আলমগীর খান মেনু ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ইতোমধ্যে সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান খান ফারুক নিজেকে এক গ্রুপের নেতা হিসেবে দাবি করছেন। টাঙ্গাইলে দু’জন মন্ত্রীর মধ্যে রয়েছে শীতল সম্পর্ক। তার মাঝে আবার একজন পাননি এবারে মন্ত্রিত্ব। এরা কখনো কোনো মিটিংয়ে মিলিত হননি। জেলার প্রতি তাদের মনোযোগ না থাকায় উপজেলাগুলোতেও নেই সম্মেলনের কোনো উদ্যোগ। মুন্সীগঞ্জ: সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ-উল আলম লেলিন ও উপ-দপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাসের জেলা মুন্সীগঞ্জ। এ জেলায়ও দলীয় কোন্দল মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বঙ্গবন্ধুর সহকর্মী মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের সঙ্গে এম ইদ্রিস আলীর দ্বন্দ্ব চরম পর্যায়ে। সদর থানা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলকে কেন্দ্র করেই বিরোধ এখন প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। এছাড়া, মহিউদ্দিনের ভাই সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আনিসুজ্জামান আনিস ইদ্রিসের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। নেতা-কর্মীরাও এখন প্রায় দুই ভাগে বিভক্ত। মাদারীপুর: দলের একাধিক সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাংগঠনিক সম্পাদকের স্থায়ী বাড়ি মাদারীপুর জেলায়। এই জেলায় আভ্যন্তরীণ কোন্দল যেন ক্রমাগত মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। দীর্ঘ এক দশক ধরে চলছে এক সদস্য বিশিষ্ট কমিটি দিয়ে। অথচ এই জেলার সংসদ সদস্য কৃষিবিদ আফম বাহাউদ্দিন নাছিম বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত। নিজের ঘরে বাতি নেই, আলো দিচ্ছেন উপাসনালয়ে! মাদারীপুরে ২০০৪ সালের সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়। সভাপতি ফেরদৌস জমাদার মারা যাওয়ার পর সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন মোল্লা একাই চালাচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগ। তিনি বাহাউদ্দিন নাছিমের আস্থাভাজন। এ জেলায় নির্বাচনী আসন নিয়ে তিন ভাগে বিভক্ত আওয়ামী লীগ। কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম এবং নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খানের বিবাদ প্রায় সর্বজনবিদিত। এছাড়া, দলের সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আবুল হোসেনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও দলের দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপের। দলের শ্রম সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজের সঙ্গে নূর এ আলম চৌধুরী লিটনের নীরব দ্বন্দ্ব চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। তিনজন প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় নেতা থাকা সত্ত্বেও বহুমুখী দ্বন্দ্বে মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থা একেবারে নাজুক।
No comments:
Post a Comment