নারায়ণগঞ্জের ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ সাতজনের অপহরণ ও খুনের ঘটনায় চাকরি হারানো র্যাব-১১-এর তিন কর্মকর্তাকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করবে। তবে কবে, কীভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, তা এখনো ঠিক হয়নি। পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, যেহেতু এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ শোনা যাচ্ছে, এ কারণে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সাত খুনের মামলাটি তদন্ত করছে।

র্যাবের অভিযুক্ত সেই তিন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হবে কি না, জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার খন্দকার মহিদ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, তদন্তের প্রয়োজনে যাঁকে যখন প্রয়োজন হবে, তাঁকে তখনই গ্রেপ্তার বা জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এদিকে এই তিন কর্মকর্তার ব্যাপারে সেনা ও নৌবাহিনীর আর কিছুই করার নেই বলে জানিয়েছে একটি সামরিক সূত্র। র্যাব-১১-এর সাবেক অধিনায়ক লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মাদ, মেজর আরিফ হোসেন ও নারায়ণগঞ্জ ক্যাম্পের প্রধান লে. কমান্ডার এম এম রানাকে গত মঙ্গলবার অবসরে পাঠানো হয়। এদিকে কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে গত রাতে বিবিসি বাংলা জানিয়েছে, অবসরে পাঠানো ওই তিন কর্মকর্তাকে নিজ বাড়িতে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমামকে উদ্ধৃত করে বিবিসি আরও জানায়, প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই অবসরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বিবিসিকে বলেন, একজনকে বাধ্যতামূলক ও দুজনকে অকালীন অবসর দেওয়া হয়েছে। সব ডিপার্টমেন্টের কিছু পদ্ধতি থাকে। র্যাবেরও মেকানিজম আছে। তারা যখন দেখতে পেয়েছে, এঁদের বিরুদ্ধে কিছু তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে, সে জন্য সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়েছে। পেছনে যদি আরও কেউ থাকেন, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই ঘটনায় আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহজাহান আলী মোল্লাকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। গতকাল রাতে এ কমিটি গঠন করা হয়। জনপ্রশাসনসচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া সাত খুনের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন জেলা সিভিল সার্জনের কাছে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সাতজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা সিভিল সার্জন দুলাল চন্দ্র চৌধুরীর কাছে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন দেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক বোর্ডের প্রধান নারায়ণগঞ্জ জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মো. আসাদুজ্জামান মিয়া। দুলাল চন্দ্র চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘দক্ষ, পেশাদার ও প্রশিক্ষিত লোকজন ছাড়া এমন হত্যাকাণ্ড সম্ভব নয়।’ তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন একটি বন্দর থানায় এবং অপরটি জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পাঠানো হবে। গত ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে অপহূত হন ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন। তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল একে একে ছয়জনের এবং পরদিন অপরজনের লাশ পাওয়া যায় শীতলক্ষ্যা নদীতে। তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, কাউন্সিলর নজরুলসহ সাত হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন গত রাতে জানান, মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সদ্য যোগ দেওয়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ মণ্ডলকে। নজরুলের পরিবারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এবং মামলাটি ভালোভাবে তদন্তকাজ সম্পন্ন করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অপহরণের ঘটনায় ২৮ এপ্রিল কাউন্সিলর নূর হোসেন ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মিয়াসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফজলুল হক তালুকদার। পরে মামলাটি তদন্তে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল আউয়ালকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
No comments:
Post a Comment