আজ রবির উদয়ের দিন। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের এই
দিন, পঁচিশে বৈশাখে কলকাতার বিখ্যাত জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে জন্মগ্রহণ
করেছিলেন মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর-সারদা দেবী দম্পতির চতুর্দশ সন্তান
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। কালক্রমে তিনি দীপ্তিমান হয়ে আলোকিত করেছেন বাঙালি
জাতির মুখ।

বাংলা
ভাষাকে প্রায় একক চেষ্টায় অধিষ্ঠিত করেছেন বিশ্বসাহিত্যের মর্যাদাপূর্ণ
আসনে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিনটি আজ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা বাংলা
ভাষাভাষী মানুষের কাছেই এক আনন্দঘন উৎসবে পরিণত হয়েছে। তিনি বাঙালির
প্রাণের মানুষ। আধুনিক বাঙালির সৃজন ও মননের জ্যোতির্ময় প্রতীক; রুচি ও
মানসের প্রধান নির্মাতা। সুখে ও সংগ্রামে, বেদনা ও উদ্যাপনে কোথায় তিনি
নেই। মানবপ্রেম, প্রকৃতিপ্রেম ও দেশপ্রেম তাঁর লেখনীর প্রধান অনুষঙ্গ
হিসেবে কাজ করেছে। বাঙালি তার হূদয়ের সব আবেগ-অনুভূতির ভাষা খুঁজে পায়
রবীন্দ্রনাথের রচনায়। তাঁর রচিত গান ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায়
ভালোবাসি’ আমাদের জাতীয় সংগীত। লাখো কণ্ঠে এই জাতীয় সংগীত গেয়ে এবার বিশ্ব
রেকর্ড সৃষ্টি করেছে এ দেশের মানুষ। কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ,
নাটক, ভ্রমণ, শিশুতোষ রচনাসহ সাহিত্যের সব শাখায় তিনি সোনার ফসল ফলিয়ে
বাংলা সাহিত্যকে দান করেছেন অতুলনীয় সমৃদ্ধি। ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কার
জয়ের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যকে প্রতিষ্ঠা দিয়েছেন বিশ্বসাহিত্যের অঙ্গনে।
সাহিত্যের মতোই চিত্রকলার ক্ষেত্রে রেখেছেন অনন্য অবদান। পাশাপাশি
শিক্ষাবিস্তার, কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন, সমাজকল্যাণমূলক কাজেও রেখেছেন
যুগান্তকারী ভূমিকা। সব মিলিয়ে বহুমাত্রিক রবীন্দ্রনাথ কেবল নিজের সঙ্গেই
নিজে তুলনীয়। বাঙালির কাছে এক অপার বিস্ময়। বরাবরের মতোই এবারও রাজধানী
ঢাকাসহ সারা দেশে বিপুল আনন্দ-উদ্দীপনা ও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে
রবীন্দ্রনাথের জন্মবার্ষিকী পালিত হচ্ছে। জাতীয় পর্যায়ের মূল অনুষ্ঠান হবে
রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেলা ১১টায়। প্রধান অতিথি থাকবেন
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সভাপতিত্ব করবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী
আসাদুজ্জামান নূর। রবীন্দ্র স্মারক বক্তৃতা দেবেন অধ্যাপক জিল্লুর রহমান
সিদ্দিকী। স্বাগত বক্তৃতা দেবেন সংস্কৃতিসচিব রণজিৎ কুমার বিশ্বাস। এবারের
রবীন্দ্রজয়ন্তীর মূল ভাবনা ‘বাংলাদেশ ও রবীন্দ্রনাথ’। এই অনুষ্ঠানে
ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত ফিফটিন
প্লেস অব রবীন্দ্রনাথ টেগর বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হবে। কবিগুরুর নিজের
অনুবাদ করা তাঁর ১৫টি নাটক নিয়ে গ্রন্থটি প্রকাশ করা হয়েছে। সম্পাদনা
করেছেন বিশ্ব আইটিআই সভাপতি রামেন্দু মজুমদার। এ ছাড়া কবিগুরুর
স্মৃতিবিজড়িত কুষ্টিয়ার শিলাইদহ, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, নওগাঁর পতিসর ও
খুলনার দক্ষিণ ডিহিতে পালিত হবে জাতীয় পর্যায়ের কর্মসূচি। রবীন্দ্রনাথ
ঠাকুরের ১৫৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন।
No comments:
Post a Comment