ভারতের আলোচিত নির্বাচনী আসনের মধ্যে একটি সরন। এ আসনে রাষ্ট্রীয় জনতা
দলের (আরজেডি) প্রধান লালু প্রসাদ যাদবের স্ত্রী রাবরি দেবী
প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিজেপির রাজিব প্রতাপ সিং রুডির বিরুদ্ধে। আসনটির
সমীকরণ বদলাচ্ছে দ্রুত। রাবরি দেবীর জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়ছে।
সেখানকার পরিস্থিতির বিষয়ে অভিমত দিলেন মাঝালিয়া গ্রামের ৬৩ বছর বয়সী ভবনাথ
রায়। তিনি বলেন, প্রবীণদের শক্ত অবস্থান লালুজির পেছনে। তিনি আমাদের জন্য
কি করেছেন তা ’৯০ পরবর্তী প্রজন্ম কখনও ভুলতে পারবে না। তবে অপেক্ষাকৃত
শিক্ষিত নবীনদের বিষয়ে আমরা নিশ্চিত নই।

বিজেপির
প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদি যে ঝড় তুলেছেন তাতে দীর্ঘদিন যাবত
লালু প্রসাদ অধ্যুষিত আসন এবার হুমকির মুখে। রাষ্ট্রীয় জনতা দলের মুসলিম
ভোটাররা একীভূত হয়েছেন। তবে উন্নয়ন ইস্যুতে নবীন যাদবদের মধ্যে বিভক্তি
সৃষ্টি হয়েছে। শহুরে এলাকাগুলোতে বিজেপির প্রতিই সমর্থন ঝুঁকছে। সেখানে
সাম্প্রতিক উন্নয়নে জনসাধারণ ভবিষ্যত নিয়ে আশ্বস্ত অনুভব করলেও মারহুরা
এলাকার নবীনরা খুশি নন। লালু প্রসাদ এ এলাকায় একটি রেলওয়ে অ্যাকসেল প্লান্ট
স্থাপন করেছেন। সেখানের ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেছেন। যাদবরা ওই কারখানা
স্থাপনের জন্য নিজেদের জমিজমা ছেড়ে দেয়। এর পরিবর্তে তারা যথাযথ ক্ষতিপূরণ
আর চাকরিও পায়। পক্ষান্তরে অন্যরা যারা জীবিকা নির্বাহের জন্য বিভিন্ন
দোকান স্থাপন করেছে তারা তেমন একটা লাভবান হননি। কেননা, দেড় হাজার কোটি
মূল্যে ওই কারখানা এলাকায় তেমন জনসমাগম হয়নি। অরবিন্দনগর এলাকার অমিত রঞ্জন
(২৮) বলেন, আমি ওই এলাকায় একটি মুদি দোকান খুলি। আমার আশা ছিল একপর্যায়ে
সেখানে একটি রেলওয়ে কলোনি তৈরি হবে। কিন্তু আমার যাবতীয় বিনিয়োগ জলে গেছে।
এদিকে সরন নির্বাচনী এলাকায় যাদব আর রাজপুততের সংখ্যা প্রায় সমান। আর
বিজেপির সঙ্গে রাম ভিলা পাসওয়ানের লোক জনশক্তি পার্টি একীভূত হওয়ায় স্রোত
সেদিকেই প্রবাহিত হচ্ছে। সঙ্গে যোগ হয়েছে জনগণের দরজায় গিয়ে বিজেপির ব্যাপক
প্রচারণা। আরজেডি’র এক সমর্থক পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বলেছেন, ভুমিহর নামক
একটি উঁচুগোত্রের ভোট এমন হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে
পারে। ভূমিহররা যদি প্রসাদকে ভোট দেয় তাহলে ফলাফল আগে থেকেই অনুমান করা
যায়। কিন্তু সরন এলাকার বাইরে তারা নরেন্দ্র মোদিকে কঠোর সমর্থন দিয়ে আসছে।
এখন মনে হচ্ছে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী রাবরি দেবী লালু প্রসাদের প্রক্সি
ক্যান্ডিডেট। কেননা তিনি গোখাদ্য দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার কারণে
আগামী ১১ বছর নির্বাচন করতে পারবেন না। ফলে নবীনদের আকাক্সক্ষা পূরণে রাবরি
দেবীর বেগ পেতে হবে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। সোনেপুরের এক রাজপুত বাচ্চা সিং
বললেন, চাপরা এলাকা থেকে প্রসাদ ৪ বার জিতেছেন। রুডিকে ২০০৪ ও ২০০৯-এ পরপর
দু’বার হারিয়েছেন। শেষবার হারিয়েছেন ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে। কিন্তু
প্রার্থী হিসেবে রাবরি দেবীর প্রভাব একইরকম নয়। যে কারণে হয়তো রাষ্ট্রীয়
জনতা দলের জন্য হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ব্যবধান অস্বস্তিকর হয়ে পড়তে পারে।
সাবেক এমএলএ ও মন্ত্রী উদিত রায়ের বাসায় আরজেডি’র ক্যাম্পে সমর্থকদের
বিরক্ত দেখা যায়। যদিও প্রসাদ ১২৩টিরও বেশি সমাবেশে বক্তব্য দিয়েছেন। আর
রাজপথে প্রতিদিন ২০টিরও বেশি বৈঠক করেছেন। আরজেডি’র জন্য সবচেয়ে বড়
উদ্বেগের কারণ রুডি। তিনি রাবরি দেবীকে মোটেই সমালোচনা করেন না। রাষ্ট্রীয়
জনতা দলের কর্মী আঘোর যাদব (৫১) বলেন, রুডি যদি রাবরি দেবীর উদ্দেশ্যে
আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেয় তাহলে নারী সম্প্রদায় ও অন্যান্য নিম্ন গোত্রের
মধ্যে এক ধরনের সমবেদনা সৃষ্টি হতো। বিচক্ষণ রাজপুত রুডি রাবরি দেবীকে ভাবী
হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন আর বলেছেন তার সমালোচনা করা যাবে না।
সূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
সূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
No comments:
Post a Comment