মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের নিখোঁজ বিমান নিয়ে রহস্য আরও ঘণীভূত হচ্ছে।
এবারে বিমান নিখোঁজের সঙ্গে সম্পৃক্ততা সন্দেহে আল কায়েদা সংশ্লিষ্ট ১১
জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বৃটেনের ইন্ডিপেন্ডেন্ট।
সন্দেহভাজনদের বয়স ২২ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। তাদেরকে মালয়েশিয়ার রাজধানী
কুয়ালালামপুর ও কেদাহ অঙ্গরাজ্য থেকে গত সপ্তাহে গ্রেপ্তার করা হয়। এদের
মধ্যে রয়েছে ছাত্র, শ্রমিক, অল্পবয়সী এক বিধবা ও কয়েকজন ব্যবসায়ী।

গ্রেপ্তারকৃতদের
জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই ও বৃটেনের গোয়েন্দা সংস্থা
এমআই-৬ কে ডাকা হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা নতুন একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য
বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। মালয়েশিয়ার বিশেষ বাহিনীর সন্ত্রাস বিরোধী বিভাগের
এক কর্মকর্তা বলেছেন, তাদেরকে গ্রেপ্তারের পর- বিমান নিখোঁজের পেছনে
সন্ত্রাসীদের হাত থাকতে পারে বলে সন্দেহ আরও বেড়েছে। তিনি বলেন, বিমানটির
যাত্রাপথ পরিবর্তনের পেছনে জঙ্গিদের হাত থাকার আশঙ্কা এখনও গুরুত্বের সঙ্গে
বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, সন্দেহভাজনদের কয়েকজন মালয়েশিয়াতে
সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেছে। তবে তারা নিখোঁজ
বিমানের সঙ্গে কোন প্রকার সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছে। ৮ই মার্চ বেইজিং
এর উদ্দেশ্যে যাত্রা করে ফ্লাইট এমএইচ-৩৭০। ২৩৯ আরোহী সহ তা নিখোঁজ হয়ে
যায়। প্রায় দু’মাস পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত উদ্ধার অভিযানে সুনির্দিষ্ট
কোন ফলাফল মেলেনি। বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়া ফ্লাইটটির শেষ মুহুর্তের
ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে তাদের প্রাথমিক রিপোর্ট প্রকাশ করে। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের
ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী ৮ই মার্চ বিমানটি নিখোঁজ হওয়ার ৪ ঘন্টা পর
কর্মকর্তারা উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আন্তর্জাতিক উদ্ধার অভিযানের প্রধান
অস্ট্রেলিয়ার অ্যাঙ্গাস হিউস্টন বলেন, কর্তৃপক্ষ এখনও বিমানটি খুঁজে বের
করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে কোন ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করতে আরও ৮ থেকে ১২ মাস
লাগতে পারে। উদ্ধার অভিযান তৎপরতার পরবর্তী দিকনির্দেশনা নিরূপণ করতে আগামী
সপ্তাহে ক্যানবেরাতে মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও চীনের কর্মকর্তাদের একটি
বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।
No comments:
Post a Comment