চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা
প্রশাসকের বাসভবন অন্যত্র সরিয়ে ডিসি হিলে পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স
নির্মাণের দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রামের বিশিষ্টজনেরা। তারা বলেন, ডিসি হিলকে
কোনোভাবেই সংরক্ষিত রাখা যাবে না। চট্টগ্রামের ভূমি চট্টগ্রামের মানুষের
জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

প্রয়োজনে
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলা হবে। মঙ্গলবার নগরীর থিয়েটার
ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ দাবি
জানান তারা। ‘প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রেখে ডিসি হিলে পূর্ণাঙ্গ
সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স চাই’ শীর্ষক সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সমাজ
বিজ্ঞানী ও প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. অনুপম সেন। ড. অনুপম সেন
বলেন, দীর্ঘ চার দশক ধরে ডিসি হিল চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের
প্রধান তীর্থশালা। ডিসি হিল রাষ্ট্রের সম্পত্তি, এটা কোন আমলার ভোগ-বিলাসের
বাংলো হতে পারে না। বর্তমান জেলা প্রশাসক আমাদের বিরুদ্ধে যে ভাষায় কথা
বলেছেন তার সাথে আলোচনা বা সমঝোতার অবকাশ নেই। আমরা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনার সাথে দেখা করে আমাদের দাবী দাওয়ার কথা বলবো। তিনি বলেন, নগরীর
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই জায়গাটি সমন্বিত উদ্যোগে সরকারের সংস্কৃতি
মন্ত্রণালয়ের অধীনে পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক বলয়ে পরিণত করার আমাদের আকাঙ্খাকে
কিছুতেই বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। শহীদ জায়া বেগম মুশতারী শফি বলেন,
চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক স্থাপনা ও জায়গাগুলো বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
সর্বশেষ ডিসি নিয়ে নতুন চক্রান্ত শুরু হয়েছে। সকলের সহযোগিতায় এই ঐতিহাসিক
জায়গাকে সংরক্ষণ করে রাখতে হবে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য ড.
ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ডিসি হিল চট্টগ্রামের জন্য একটি নান্দনিক
শিল্পবোধ সম্পন্ন জায়গা হতে পারে। এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে আমাদের
যা যা করা দরকার তা-ই করতে হবে। কবি ও সাংবাদিক অরুণ দাশগুপ্ত বলেন, এই
স্থান থেকে ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনের বাসভবন অন্যত্র সরিয়ে নিতে হবে। এখানে
সাংস্কৃতিক বলয় প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবী। সাংবাদিক ও সংস্কৃতি সংগঠক
নাসিরুদ্দিন চৌধুরী বলেন, আমাদের চাওয়া পাওয়া পূরণে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত
নয়, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বর্তমান সরকারকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত
গ্রহণে চাপ দিতে পুনর্জাগরণ সৃষ্টি করতে হবে। কারণ আন্দোলন সংগ্রাম ছাড়া
কোন গণ আকাঙ্খা পূরণ হয় না। নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির
উদ্দিন বলেন, ডিসি হিল নিয়ে বর্তমানে যে তিক্ততার সৃষ্টি হয়েছে তা না হলেও
পারতো। একটি সহজ বিষয়কে জটিল করা হয়েছে। বর্তমানে আমরা একজন প্রকৃত
সাংস্কৃতিক কর্মীকে এই প্রথম সংস্কৃতি মন্ত্রী হিসেবে পেয়েছি। সুতরাং তাকে
নিয়ে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই বিষয় সমাধানে ঐক্যমতে পৌঁছানো সম্ভব।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক
চট্টগ্রামবাসীর বিরুদ্ধে যে উদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য রেখেছে প্রজাতন্ত্রের
কর্মচারী হিসেবে তা শোভনীয় নয়। তারা বলেন, ডিসি হিলের সঙ্গে চট্টগ্রামবাসির
প্রাণের সম্পর্ক রয়েছে। এ ভূমি চট্টগ্রামের মানুষের ভূমি। সুতরাং এখান
থেকে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের বাসভবন সরিয়ে দিয়ে জনগণের জন্য
উন্মুক্ত করে দেওয়া হোক। বক্তারা বলেন,‘ব্রিটিশ আমলে প্রশাসনের ব্যক্তিরা
জনবিচ্ছিন্ন থাকায় পাহাড়ের উপর বাসভবন তৈরি করে থাকতো। পাকিস্তান আমলের
আমলারাও ছিল জনবিচ্ছিন্ন। জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে বাংলাদেশ সরকার জনপ্রশাসন
তৈরি করেছে। তারা মানুষের সঙ্গে বসবাস করবে। সারা বাংলাদেশে জনপ্রশাসনের
লোকজন সাধারণ মানুষের সঙ্গে সমতলে বসবাস করছে। চট্টগ্রামে কেন এর বিপরীত
হবে।’ বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের বাসভবন অন্যত্র সরিয়ে দিয়ে জাদুঘর,
আর্ট গ্যালারি, চিড়িয়াখানা, প্রাণী জাদুঘর, ভাস্কর্য নির্মাণসহ
চট্টগ্রামের ইতিহাস ঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি প্রাতঃভ্রমনকারীদের জন্য
ওয়াকওয়ে তৈরির প্রস্তাব করেন তারা। সাংস্কৃতিক জোটের সদস্য সচিব আহমেদ
ইকবাল হায়দারের সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম
পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের সভাপতি ডা. এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী,
মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ডা. মাহফুজুর রহমান, প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়া ও দেলোয়ার
মজুমদার, রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী শীলা মোমেন, কবি ও সাংবাদিক বিশ্বজিৎ
চৌধুরী, আইনজীবী চন্দন কুমার দাশ, আবৃত্তিশিল্পী রণজিৎ রক্ষিত।
No comments:
Post a Comment