Friday, May 9, 2014

আর্থিক লেনদেনের কারণে খুন হন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা

টাকা পয়সা লেনদেনকে কেন্দ্র করেই খুন হয়েছেন কলাবাগান থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শেখ মুনিম ফয়েজ। এ খুনের পরিকল্পনা করেন এক নারী। পরিকল্পনা অনুযায়ী ফয়েজকে বাসায় ডেকে এনে টাকা পয়সা নিয়ে বাক-বিতণ্ডার এক পর্যায়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
শুক্রবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে চাঞ্চল্যকর এ খুনের সঙ্গে জড়িত ৭ জনকে গ্রেফতারের পর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- ডিবি দক্ষিণের উপ-পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়, রমনা জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার মারুফ হাসান, গোয়েন্দা পুলিশের (দক্ষিণ) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ছানোয়ার হোসেন। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- কাজী সিরাজুল আলম ওরফে কাজী সিরাজ (৬২), শাকিল খান (২৫), জাহিদ হাসান ওরফে সিজান (২২), নবীন হোসেন (২৩), প্রাইভেট কার ড্রাইভার ফরিদ ওরফে রফিকুল ইসলাম (৩৫), অ্যাম্বুলেন্সের চালক মোস্তফা (৩৩) ও চালকের সহকারী ইমরান হোসেন (২০)। এ ছাড়া খুনের পর মৃতদেহ গোপন করার কাজে ব্যবহৃত ১টি প্রাইভেট কার ও ১টি অ্যাম্বুলেন্স উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বরাত দিয়ে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, এ খুনের পরিকল্পনায় ছিল ওই নারী। তার বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত নেওয়ার জন্য ফয়েজকে বার বার চাপ দেওয়া হয়। আর এ টাকা না পাওয়ায় এ ঘটনা ঘটিয়েছে তারা। কর্মকর্তারা বলেন, পূর্ব পরিকল্পনা অনুসারেই তারা ফয়েজকে ট্র্যাপ করে রায়েরবাজার এলাকায় আনার পর অপহরণ করে একটি বাসায় আটক করে রাখে। পরে তাকে উপর্যুপুরি আঘাত এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বলেও গ্রেফতারকৃতরা জানায়।  গোয়েন্দারা জানান, ওই নারীর পরিকল্পনাতে গ্রেফতারকৃত কাজী সিরাজ, শাকিল খান, জাহিদ হাসান ও নবীন হোসেন এই ঘটনায় অংশগ্রহণ করে। তাদের প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল ফয়েজকে ধরে এনে কৌশলে মুক্তিপণের মাধ্যমে টাকা আদায় করা। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৫ এপ্রিল তারা ভিকটিমকে পরিকল্পনাকারী ওই নারী সদস্যের বাসায় ডেকে আনে। এ সময় বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে ওই নারী সদস্যের সঙ্গে আসামিরা মিলে ফয়েজকে হত্যা করে। এরপর গ্রেফতারকৃত শাকিল খান, জাহিদ হাসান ও নবীন হোসেন একসঙ্গে রেন্ট-এ কার থেকে একটি প্রাইভেট কার ভাড়া করে। ওই গাড়িতে করে বাসা থেকে মৃতদেহ সরিয়ে নিয়ে যায়। লাশটি মোহাম্মদপুর নিয়ে যাওয়ার পর গাড়িটি নষ্ট হয়ে যায়। পরে ভালুকার উদ্দেশ্যে একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে লাশ পরিবহন করে। কিন্তু গাজীপুর বর্ষা সিনেমা হলের কাছে পৌঁছালে তারা লাশটি নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নেমে পড়ে। এরপর লাশটি পার্শ্ববর্তী সড়কে ফেলে পালিয়ে আসে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ওই নারীর নাম প্রকাশ না করে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানান। গত ৬ এপ্রিল গাজীপুরের বর্ষা সিনেমা হল পাশ্ববর্তী হাইওয়ের পাশে শেখ মুনিম ফয়েজের লাশ পাওয়া যায়। পরের দিন ফয়েজের পরিবারের সদস্যরা লাশটি শনাক্ত করেন। এ ঘটনার সঙ্গে আরো কেউ জড়িত রয়েছে কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান কর্মকর্তারা।

No comments:

Post a Comment