মুক্তিযুদ্ধ
চলাকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ছোড়া গুলি লেগেছিল লালমনিরহাটের
বাসিন্দা মোমেনা খাতুনের গলায়। ৪৩ বছর পর গতকাল মঙ্গলবার অস্ত্রোপচার করে
সেই গুলি বের করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মোমেনা
হাতীবান্ধা উপজেলার মিলনবাজার এলাকার বাসিন্দা। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়,
গতকাল মঙ্গলবার রাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে
মোমেনার শরীর থেকে গুলি বের করা হয়।

দীর্ঘ
সময় ধরে তাঁর গলার বাম দিকে চামড়ার ভিতরে গুলিটি বিদ্ধ ছিল। এটিকে এতদিন
সবাই টিউমার হিসেবেই জানত। মোমেনার পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালে
মুক্তিযুদ্ধ চলার সময় বাবার হাত ধরে পালিয়ে যাচ্ছিলেন তখনকার ১১ বছর বয়সী
মোমেনা খাতুন। ওই সময় হাতীবান্ধা উপজেলার তালেব মোড় এলাকায় পাকিস্তানি
হানাদার বাহিনীর এলোপাতাড়ি ছোড়া একটি গুলি এসে লাগে তাঁর শরীরে। তৎকালীন
বাস্তবতায় উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে না পেরে স্থানীয় পল্লি চিকিৎসক
আবদুল গফুরের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন তিনি। কিন্তু তাঁর শরীরের ভেতরেই
থেকে যায় গুলির অংশটুকু। যুদ্ধ শেষ হয়। পাকিস্তানি হানাদারেরা পালিয়ে যায়।
স্বাধীন হয় দেশ। কিন্তু সেই হানাদার বাহিনীর ছোড়া গুলির চিহ্ন রয়ে যায় তাঁর
শরীরে। এভাবেই কেটে যায় মোমেনার ৪৩টি বছর। মোমেনা খাতুনের ছোট বোন মনোয়ারা
জানান, মাঝেমধ্যে ব্যথা অনুভূত হলেও দীনতার কারণে সঠিক চিকিৎসা ও
পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে পারেননি তাঁর বোন। বয়সের ভারে ন্যুব্জ মোমেনা
এলাকাবাসীর সহায়তায় লালমনিরহাট জেলা শহরের একটি (নিরাময়) ক্লিনিকে এসে
চিকিৎসক বিমল চন্দ্রের শরণাপন্ন হন। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর গলার
বাম দিকে ক্ষতস্থানের ভেতর আটকে থাকা গুলি দেখতে পান চিকিৎসক। এরপর তাঁকে
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হলে সেখানে গতকাল
রাতে তাঁর অস্ত্রোপচার হয়। এর মধ্য দিয়ে যন্ত্রণাদায়ক গুলিটি বের করা হয়
গলা থেকে। মোমেনা বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তৃতীয় তলায় ১৬
নম্বর ওয়ার্ডের ৩৬ নম্বর শয্যায় চিকিৎসাধীন। অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসক বিমল
চন্দ্র বলেন, ‘অস্ত্রোপচার করে গলা থেকে গুলি বের করা হয়েছে। আশা করছি এখন
তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন।’ এদিকে মুক্তিযুদ্ধের ৪৩ বছর পর গলা থেকে
আস্ত গুলি বের হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে মোমেনার নিজ গ্রাম ও রংপুর মেডিকেলে
চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। অনেকেই তাঁকে দেখতে সেখানে ছুটে যাচ্ছেন। পরিবারের ও
স্থানীয় লোকজন জানান, মোমেনা মানুষের বাড়িতে কাজকর্ম করে বা চেয়েচিন্তে
কোনো রকমে অভাবের সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন।
No comments:
Post a Comment