ভারত আমাদের বাড়ির লাগোয়া আরশিনগর, তবে এ
নগরের পড়শিকে আমরা দেখি নিত্যদিন। ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ, শিক্ষা,
চিকিৎসা, ভ্রমণ, শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি, হাট-বাজার সহ নানা ক্ষেত্রে নানা
কাজে দিনে-রাতে দেখাশোনা মেলামেশা আমাদের। কথাবার্তা হয় সীমান্তে সহিংসতা,
ছিটমহল বিনিময়, চোরাচালান, অভিন্ন নদ-নদীর পানিবণ্টন, উজানে বাঁধ, জলসীমা,
অনুপ্রবেশ সহ বহু পুরনো সমস্যা নিয়ে, অকস্মাৎ সৃষ্ট নতুন-নতুন পরিস্থিতি
নিয়ে তো বটেই।

আমাদের
প্রাত্যহিক জীবনেও ব্যাপক উপস্থিতি ভারতের- কি জাতীয় দৈনিকের পাতায়-পাতায়,
কি ঘরে-ঘরে টেলিভিশনের শো-সিরিয়ালে! ভারতকে নিয়ে আমাদের কৌতূহল-আগ্রহ সব
সময় বেশি-বেশি, কখনও তা আচ্ছন্নতার পর্যায়েও। ৫ই জানুয়ারির একতরফা
নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের সরকার গঠনকে ভারতের তৎকালীন ক্ষমতাসীন ইন্ডিয়ান
ন্যাশনাল কংগ্রেস (আইএনসি) সমর্থন করার পর ওই আচ্ছন্নতার মাত্রা আরও
বেড়েছে বৈকি! সাম্প্রতিক নির্বাচনে ভরাডুবি ঘটেছে আইএনসি’র। ৫৪৩ আসনের
লোকসভায় তাঁরা পেয়েছেন মাত্র ৪৪ আসন। তাঁদের নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড
প্রোগ্রেসিভ এলায়েন্স (ইউপিএ) পেয়েছে ৬০ আসন। এমন ভূমিধস পরাজয় আগেও ঘটেছে
আইএনসি’র। কিন্তু ক্ষমতায় আবারও ফিরেছে বিপুল গৌরবে। কিন্তু অমন কি ঘটবে
আর? ক্ষমতায় যাঁরা আসেন তাঁরা নির্বাচনের আগে অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন
ভোটারদের। কিন্তু তাঁদের হাতে তো আশ্চর্য প্রদীপ থাকে না! কাজেই তাঁদের
জাগানো অধিক প্রত্যাশা এক সময় নিয়ে আসে অধিক হতাশা। বর্তমান বিজয়ী দল যদি
জনপ্রত্যাশার কিছু পূরণ করতে না পারেন তাহলে তা সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে
কংগ্রেসের পুনরুজ্জীবনের। কিন্তু সে সম্ভাবনা আপাতত দেখছেন না
পর্যবেক্ষকরা। কারণ নরেন্দ্র মোদি’র নেতৃত্বে বিজয়ী ভারতীয় জনতা পার্টি
(বিজেপি)-র মাধ্যমে আসলে সঙ্ঘ পরিবার। এ পরিবার নিয়মিত প্রশিক্ষণে
সুসংগঠিত, শৃঙ্খলাম-িত, সুদৃঢ় ও সঙ্ঘবদ্ধ। এর ইতিহাস সুদীর্ঘ দিনের, ভারতীয়
সমাজে জীবনে এর শিকড় গভীরে, তৃণমূলে এর বিস্তার ব্যাপক। এ পরিবারের মূল
রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)- একটি ডানপন্থি, আধা-সামরিক,
স্বেচ্ছাসেবী হিন্দু জাতীয়তাবাদী গ্রুপ। জাতির প্রতি নিঃস্বার্থ সেবার
নীতিই তাদের আদর্শের ভিত্তি বলে দাবি করা হয়।
আরএসএস-এর জন্ম ১৯২৫ সালে এক শিক্ষামূলক কর্মোদ্যোগ হিসেবে। তাদের আদর্শ, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে হিন্দু পুরুষদের চরিত্র গঠন। লক্ষ্য, হিন্দু সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ করে বৃটিশ উপনিবেশবাদের দমন-নির্যাতন মোকাবিলা এবং মুুসলমানদের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন প্রতিরোধ। শুরু থেকেই হিন্দু জাতীয়তাবাদী চেতনা তাদের মূল চালিকাশক্তি। এ রকম একটি সংগঠন গড়ে তোলার প্রেরণা তারা পেয়েছিল ইউরোপিয়ান ডানপন্থি গোষ্ঠীগুলোর বিভিন্ন যুদ্ধকালীন কার্যক্রম থেকে। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন সহ বহু রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে দলে-দলে যোগ দিয়েছে আরএসএস-এর স্বেচ্ছাসেবীরা। নিরন্তর নানা কর্মসূচি ও ভূমিকা পালন করে চলায় কালক্রমে নিজেদের তারা প্রতিষ্ঠা করে অত্যন্ত সক্রিয় এক হিন্দু জাতীয়তাবাদী গ্রুপ হিসেবে। তাদের সামাজিক কর্মতৎপরতাও ব্যাপক। নিজেদের আদর্শ-উদ্দেশ্য বিস্তারের লক্ষ্যে নব্বই দশক নাগাদ ভারত জুড়ে তারা গড়ে তোলে অসংখ্য বিদ্যালয়, চিকিৎসালয়, দাতব্য প্রতিষ্ঠান ও সঙ্ঘ-সমিতি।
চরমপন্থি এক আধা-সামরিক গ্রুপ হিসেবে আরএসএস সব সময়ই সমালোচিত। মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রদর্শনের জন্য তারা বিশেষ ভাবে নিন্দিত। শুরু থেকেই জঙ্গিত্বের পথ বেছে নেয় সংগঠনটি। গড়ে তোলে জঙ্গি শাখা ‘বজরং দল’। অন্যান্য চরমপন্থি সংগঠনের সঙ্গে মিলে বহু রক্তক্ষয়ী দাঙ্গায় যোগ দিয়েছে আরএসএস, এখনও সুযোগ পেলেই খৃস্টান ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে সহিংস হামলা চালায় ঘৃণা-বিদ্বেষ ছড়িয়ে। এসব বিষয়ে তাদের স্পষ্ট বক্তব্য, ভারতীয় সংস্কৃতি ও সভ্যতার মূল্যবোধকে সবার উপরে তুলে ধরাই তাদের একমাত্র ব্রত।
আরএসএস নিষিদ্ধ ছিল বৃটিশ আমলে, স্বাধীনতার পরেও নিষিদ্ধ হয়েছে তিন বার। প্রথম নিষিদ্ধ হয় ১৯৪৮ সালে- সাবেক আরএসএস সদস্য নাথুরাম গডসে কর্তৃক মহাত্মা গান্ধী নিহত হওয়ার পর। দ্বিতীয় বার নিষিদ্ধ হয় ইন্দিরা গান্ধীর জরুরি অবস্থা কালে (১৯৭৫-৭৮), আর তৃতীয় বার ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর। প্রতি বারই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহৃত হয়েছে কিছু দিন পর। আরএসএস সদস্যদের সৃষ্ট বিভিন্ন সংগঠন মিলে সঙ্ঘ পরিবার। এ পরিবারে রয়েছে:
ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি); ভারতীয় কিষাণ সঙ্ঘ; ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘ; ফিশারমেন’স কো-অপ সোসাইটিস্; বিবেকানন্দ মেডিকেল মিশন; অখিল ভারতীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ; সেবা ভারতী; ভারতীয় বিকাশ পরিষদ; দীন দয়াল শোধ সংস্থান; রাষ্ট্র সেবিকা সমিতি; অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ; ভারতীয় জনতা যুব মোর্চা (বিজেপি’র যুব শাখা); শিখা ভারতী; বিশ্ব হিন্দু পরিষদ; হিন্দু স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ; স্বদেশী জাগরণ মঞ্চ; সরস্বতী শিশু মন্দির (নার্সারি); বিদ্যা ভারতী (শিক্ষা প্রতিষ্ঠান); লোক ভারতী (জাতীয় এনজিও ফ্রন্ট); ধর্ম জাগরণ (সাধু ও সন্ন্যাসীদের সংগঠন); বনবাসী কল্যাণ আশ্রম (আদিবাসীদের উন্নয়নে পরিচালিত); মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চ (মুসলমানদের উন্নয়নে পরিচালিত); বজরং দল (আধা-সামরিক বাহিনী); ভারত-তিব্বত মৈত্রী সঙ্ঘ; অনুসুচিত জাতি-জামাতি আকর্ষণ বাঁচাও পরিষদ (দলিতদের উন্নয়নে পরিচালিত); সংস্কার ভারতী (শিল্পীদের সংগঠন); সাহকার ভারতী (সমবায় সংগঠন); অধিভক্ত পরিষদ (আইনজীবীদের সংগঠন); বিট সালাহকর পরিষদ (অর্থ উপদেষ্টাদের সমিতি); সেবা ভারতী (দুস্থদের কল্যাণে নিবেদিত); ভারতীয় বিচার কেন্দ্র (গবেষণা কেন্দ্র); ভারতীয় ইতিহাস সঙ্কলন যোজনা; দীনদয়াল রিসার্চ ইনস্টিটিউট; বিশ্ব সংবাদ কেন্দ্র (ভারত জুড়ে মিডিয়া সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম, আইটি পেশাদারদের দ্বারা পরিচালিত); রাষ্ট্রীয় শিখ সঙ্গত (সকলের জন্য ‘গুরবাণী’ প্রচারের লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন); সেনট্রাল হিন্দু মিলিটারি এডুকেশন সোসাইটি (প্রতিরক্ষা বাহিনীতে অধিক সংখ্যায় যোগ দিতে হিন্দুদের উৎসাহী করার লক্ষ্যে পরিচালিত) প্রভৃতি।
সঙ্ঘ পরিবার বিশ্বের সর্ববৃহৎ এনজিও। এ পরিবারের সক্রিয় সদস্য সংখ্যা ৫০ লাখের বেশি। তাঁদের ৪০-৫০ হাজার শাখায় এবং ১০০’র বেশি সহযোগী সংস্থা/সংগঠনে তাঁরা প্রতিদিন মিলিত হন সমাবেশে। সারা ভারতে জালের মতো বিস্তৃত এই সঙ্ঘের শক্তিকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই কারও। সমাজের বিভিন্ন স্তরে রয়েছে তাঁদের নানারকম সেবামূলক কার্যক্রম। ভারতের প্রত্যন্ত আদিবাসী এলাকাগুলোতে তাঁদের পরিচালিত ২৭ হাজার ‘একাল বিদ্যালয়’-এ লেখাপড়া করে হতদরিদ্র আদিবাসী পরিবারের আট লাখের বেশি ছেলেমেয়ে। এ তো একটি মাত্র উদাহরণ। নিম্ন বর্গের মানুষদের জন্য নিম্ন বর্গের মানুষদের নিয়ে তাঁদের রয়েছে এমন অসংখ্য সেবামূলক কার্যক্রম। আরএসএস-এর স্বেচ্ছাসেবী সদস্যরাই পরিচালনা করেন এত সব কর্মোদ্যোগ, নিবেদিত থাকেন স্ব-স্ব ভূমিকায়। চরিত্র গঠনের প্রশিক্ষণ থেকে যার শুরু তা অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের পৌঁছে দেয় নেতৃত্বের শীর্ষে। শীর্ষে পৌঁছে যাওয়া এমন এক আরএসএস স্বেচ্ছাসেবীর নাম অটল বিহারী বাজপেয়ী। তিনি হয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর পর আরও একজন আরএসএস স্বেচ্ছাসেবী এখন পৌঁছলেন নেতৃত্বের একই শিখরে। তিনি নরেন্দ্র মোদি।
আরএসএস-এর জন্ম ১৯২৫ সালে এক শিক্ষামূলক কর্মোদ্যোগ হিসেবে। তাদের আদর্শ, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে হিন্দু পুরুষদের চরিত্র গঠন। লক্ষ্য, হিন্দু সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ করে বৃটিশ উপনিবেশবাদের দমন-নির্যাতন মোকাবিলা এবং মুুসলমানদের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন প্রতিরোধ। শুরু থেকেই হিন্দু জাতীয়তাবাদী চেতনা তাদের মূল চালিকাশক্তি। এ রকম একটি সংগঠন গড়ে তোলার প্রেরণা তারা পেয়েছিল ইউরোপিয়ান ডানপন্থি গোষ্ঠীগুলোর বিভিন্ন যুদ্ধকালীন কার্যক্রম থেকে। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন সহ বহু রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে দলে-দলে যোগ দিয়েছে আরএসএস-এর স্বেচ্ছাসেবীরা। নিরন্তর নানা কর্মসূচি ও ভূমিকা পালন করে চলায় কালক্রমে নিজেদের তারা প্রতিষ্ঠা করে অত্যন্ত সক্রিয় এক হিন্দু জাতীয়তাবাদী গ্রুপ হিসেবে। তাদের সামাজিক কর্মতৎপরতাও ব্যাপক। নিজেদের আদর্শ-উদ্দেশ্য বিস্তারের লক্ষ্যে নব্বই দশক নাগাদ ভারত জুড়ে তারা গড়ে তোলে অসংখ্য বিদ্যালয়, চিকিৎসালয়, দাতব্য প্রতিষ্ঠান ও সঙ্ঘ-সমিতি।
চরমপন্থি এক আধা-সামরিক গ্রুপ হিসেবে আরএসএস সব সময়ই সমালোচিত। মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রদর্শনের জন্য তারা বিশেষ ভাবে নিন্দিত। শুরু থেকেই জঙ্গিত্বের পথ বেছে নেয় সংগঠনটি। গড়ে তোলে জঙ্গি শাখা ‘বজরং দল’। অন্যান্য চরমপন্থি সংগঠনের সঙ্গে মিলে বহু রক্তক্ষয়ী দাঙ্গায় যোগ দিয়েছে আরএসএস, এখনও সুযোগ পেলেই খৃস্টান ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে সহিংস হামলা চালায় ঘৃণা-বিদ্বেষ ছড়িয়ে। এসব বিষয়ে তাদের স্পষ্ট বক্তব্য, ভারতীয় সংস্কৃতি ও সভ্যতার মূল্যবোধকে সবার উপরে তুলে ধরাই তাদের একমাত্র ব্রত।
আরএসএস নিষিদ্ধ ছিল বৃটিশ আমলে, স্বাধীনতার পরেও নিষিদ্ধ হয়েছে তিন বার। প্রথম নিষিদ্ধ হয় ১৯৪৮ সালে- সাবেক আরএসএস সদস্য নাথুরাম গডসে কর্তৃক মহাত্মা গান্ধী নিহত হওয়ার পর। দ্বিতীয় বার নিষিদ্ধ হয় ইন্দিরা গান্ধীর জরুরি অবস্থা কালে (১৯৭৫-৭৮), আর তৃতীয় বার ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর। প্রতি বারই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহৃত হয়েছে কিছু দিন পর। আরএসএস সদস্যদের সৃষ্ট বিভিন্ন সংগঠন মিলে সঙ্ঘ পরিবার। এ পরিবারে রয়েছে:
ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি); ভারতীয় কিষাণ সঙ্ঘ; ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘ; ফিশারমেন’স কো-অপ সোসাইটিস্; বিবেকানন্দ মেডিকেল মিশন; অখিল ভারতীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ; সেবা ভারতী; ভারতীয় বিকাশ পরিষদ; দীন দয়াল শোধ সংস্থান; রাষ্ট্র সেবিকা সমিতি; অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ; ভারতীয় জনতা যুব মোর্চা (বিজেপি’র যুব শাখা); শিখা ভারতী; বিশ্ব হিন্দু পরিষদ; হিন্দু স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ; স্বদেশী জাগরণ মঞ্চ; সরস্বতী শিশু মন্দির (নার্সারি); বিদ্যা ভারতী (শিক্ষা প্রতিষ্ঠান); লোক ভারতী (জাতীয় এনজিও ফ্রন্ট); ধর্ম জাগরণ (সাধু ও সন্ন্যাসীদের সংগঠন); বনবাসী কল্যাণ আশ্রম (আদিবাসীদের উন্নয়নে পরিচালিত); মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চ (মুসলমানদের উন্নয়নে পরিচালিত); বজরং দল (আধা-সামরিক বাহিনী); ভারত-তিব্বত মৈত্রী সঙ্ঘ; অনুসুচিত জাতি-জামাতি আকর্ষণ বাঁচাও পরিষদ (দলিতদের উন্নয়নে পরিচালিত); সংস্কার ভারতী (শিল্পীদের সংগঠন); সাহকার ভারতী (সমবায় সংগঠন); অধিভক্ত পরিষদ (আইনজীবীদের সংগঠন); বিট সালাহকর পরিষদ (অর্থ উপদেষ্টাদের সমিতি); সেবা ভারতী (দুস্থদের কল্যাণে নিবেদিত); ভারতীয় বিচার কেন্দ্র (গবেষণা কেন্দ্র); ভারতীয় ইতিহাস সঙ্কলন যোজনা; দীনদয়াল রিসার্চ ইনস্টিটিউট; বিশ্ব সংবাদ কেন্দ্র (ভারত জুড়ে মিডিয়া সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম, আইটি পেশাদারদের দ্বারা পরিচালিত); রাষ্ট্রীয় শিখ সঙ্গত (সকলের জন্য ‘গুরবাণী’ প্রচারের লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন); সেনট্রাল হিন্দু মিলিটারি এডুকেশন সোসাইটি (প্রতিরক্ষা বাহিনীতে অধিক সংখ্যায় যোগ দিতে হিন্দুদের উৎসাহী করার লক্ষ্যে পরিচালিত) প্রভৃতি।
সঙ্ঘ পরিবার বিশ্বের সর্ববৃহৎ এনজিও। এ পরিবারের সক্রিয় সদস্য সংখ্যা ৫০ লাখের বেশি। তাঁদের ৪০-৫০ হাজার শাখায় এবং ১০০’র বেশি সহযোগী সংস্থা/সংগঠনে তাঁরা প্রতিদিন মিলিত হন সমাবেশে। সারা ভারতে জালের মতো বিস্তৃত এই সঙ্ঘের শক্তিকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই কারও। সমাজের বিভিন্ন স্তরে রয়েছে তাঁদের নানারকম সেবামূলক কার্যক্রম। ভারতের প্রত্যন্ত আদিবাসী এলাকাগুলোতে তাঁদের পরিচালিত ২৭ হাজার ‘একাল বিদ্যালয়’-এ লেখাপড়া করে হতদরিদ্র আদিবাসী পরিবারের আট লাখের বেশি ছেলেমেয়ে। এ তো একটি মাত্র উদাহরণ। নিম্ন বর্গের মানুষদের জন্য নিম্ন বর্গের মানুষদের নিয়ে তাঁদের রয়েছে এমন অসংখ্য সেবামূলক কার্যক্রম। আরএসএস-এর স্বেচ্ছাসেবী সদস্যরাই পরিচালনা করেন এত সব কর্মোদ্যোগ, নিবেদিত থাকেন স্ব-স্ব ভূমিকায়। চরিত্র গঠনের প্রশিক্ষণ থেকে যার শুরু তা অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের পৌঁছে দেয় নেতৃত্বের শীর্ষে। শীর্ষে পৌঁছে যাওয়া এমন এক আরএসএস স্বেচ্ছাসেবীর নাম অটল বিহারী বাজপেয়ী। তিনি হয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর পর আরও একজন আরএসএস স্বেচ্ছাসেবী এখন পৌঁছলেন নেতৃত্বের একই শিখরে। তিনি নরেন্দ্র মোদি।
No comments:
Post a Comment