Sunday, May 4, 2014

কোন ক্লু নেই আতঙ্ক চারদিকে by বিল্লাল হোসেন রবিন ও উৎপল রায়,

দেশের সবচেয়ে ছোট জেলা এখন সবচেয়ে বড় আতঙ্কের জনপদ। চারদিকে কেবল ভয় আর আতঙ্ক। সিটি কাউন্সিলর, আইনজীবীসহ একসঙ্গে ৭ জনকে অপহরণ করে নৃশংস হত্যাকা-ের ঘটনায় শোক কাটতে না কাটতেই ব্যবসায়ী অপহরণ নিয়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভে উত্তাল নারায়ণগঞ্জ। ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামকে অপহরণের ২৬ ঘণ্টা পর সাভারের নবীনগর থেকে গত রাত ১২টার দিকে উদ্ধার করে র‌্যাব-পুলিশ। এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে সাইফুলকে অপহরণের পর রাত ১২টার দিকে তার স্ত্রীর কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয় ১০ লাখ টাকা। ৭ জনের অপহরণের ঘটনার ৬ দিন পার হলেও এখনও অন্ধকারে প্রশাসন। বলতে গেলে নির্বিকার। এই ৭ দিনে ঘটনার কোন ক্লু-ই উদ্ধার করতে পারেনি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
অপহরণের ঘটনায় মামলা হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে আসামিরা। শোকাহত স্বজনদের কান্নায় যখন আকাশ-বাতাস ভারি তেমনি সময়ে আরও এক অপহরণে ছড়িয়ে পড়েছে ক্ষোভের অনল। গতকাল দু’দফায় রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী। বিক্ষোভ থামাতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও গুলি ছুড়েছে। আজ প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছেন তারা। এদিকে অপহরণ ও সেভেন মার্ডারের রহস্য উদ্ঘাটন তো দূরের কথা ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শীও বের করতে পারেনি পুলিশ। ওদিকে ৭ জনকে অপহরণ ও হত্যার প্রতিবাদে রোববার হরতাল ডেকেছে জেলা আইনজীবী সমিতি। হরতালে নৈতিক সমর্থন দিয়েছে বিএনপি। জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলও হরতালে সমর্থন দিয়েছে। শুক্রবার আইনজীবীদের একটি প্রতিনিধি দল নিহতের সমবেদনা জানাতে যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত দু’দিন ধরে সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড, সানারপাড়া, মৌচাক, মাদানীনগর, ডাচবাংলা, শিমরাইল, সিদ্ধিরগঞ্জপুলসহ বিভিন্ন পয়েন্টে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি র‌্যাব ও বিজিবি টহল দিচ্ছে। আরেকটি লাশ উদ্ধার: অপহরণের ৩ দিন পর গত বুধবার দুপুরের পর থেকে বন্দরের শান্তিনগর এলাকার শীতলক্ষ্যা নদীর তীর থেকে একে একে ৬টি লাশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে নদীর একই স্থান থেকে উদ্ধার করা হয় অপহৃত লিটনের লাশটি। ফলে গত রোববার অপহৃত ৭ জনের সবার লাশই উদ্ধার হয়েছে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে। এদিকে লাশের মুখম-ল এসিড দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ায় লাশের পরিচয় নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তিতে পড়তে হয় নিহতের স্বজনদের। মুখম-ল বিকৃত এবং লাশ ফুলে পচন ধরে যাওয়ায় একজনের লাশ অন্য জনের স্বজনরা নিয়ে যান। তবে পরে আবার সঠিকভাবে যাচাই বাছাই করে যার যার পরিবার তাদের স্বজনরা লাশ বুঝে নিয়েছে বলে জানান, সদর মডেল থানার ওসি মঞ্জুর কাদের। ৬ আসামি ধরাছোঁয়ার বাইরে: ২৭শে এপ্রিল ৪ সহযোগীসহ কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম অপহরণ হওয়ার পর ২৮শে এপ্রিল রাতে নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বাদী হয়ে ৬ জনের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় প্রধান ১ ও ২নং আসামি করা হয় নাসিকের ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি নুর হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন মিয়াকে। মামলার অন্য আসামিরা হলো সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক রাজু, সওজের ঠিকাদার হাসমত আলী হাসু, নজরুলের সঙ্গে নাসিক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ইকবাল হোসেন ও আনোয়ার হোসেন। মামলার পর থেকে লাপাত্তা আসামিরা। পুলিশ কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আভিযোগ রয়েছে আসামিদের অনেকেই দেশের বাইরে চলে গেছে। আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নজরুলের পরিবার।
রোববার হরতাল: নারায়ণগঞ্জ আদালতের সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট চন্দন কুমার সরকারের খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে হরতালসহ অনির্দিষ্টকালের জন্য আদালত বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে জেলা আইনজীবী সমিতি। বৃহস্পতিবার জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে এক সভায় চন্দন কুমারের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আগামীকাল নারায়ণগঞ্জে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহ্বান করেছে। এছাড়া সোমবার ফুল কোর্ট রেফারেন্স, মঙ্গল থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কালো ব্যাজধারণ এবং মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য আদালত বর্জনের ঘোষণা দেয়া হয়। আইনজীবীদের এ কর্মসূচির সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন একাত্মতা প্রকাশ করে। আইনজীবী সমিতির সভায় বার কাউন্সিলের সহসভাপতি এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন এবং সুপ্রিম কোর্ট বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহাবুব উদ্দিন খোকন। পরে আইনজীবী নেতৃবৃন্দ নিহত আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারের বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। সেই সঙ্গে কাল রোববার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভা ডেকে সারা দেশে চন্দন সরকারকে হত্যার প্রতিবাদে কর্মসূচি দেয়ার ঘোষণা দেন। চন্দন সরকার হত্যার প্রতিবাদে বার কাউন্সিলের কর্মসূচি: নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারকে হত্যার প্রতিবাদে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল। সংগঠনটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন শুক্রবার এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বার কাউন্সিল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়, ২ থেকে ৮ই মে পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিসহ দেশের সব আইনজীবী সমিতির সদস্যরা কালোব্যাজ ধারণ করবেন। আজ বেলা ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বার কাউন্সিলের উদ্যোগে প্রতিবাদ সভা হবে।
বার কাউন্সিলের সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে আরও রয়েছে ৪ঠা মে কালোপতাকা উত্তোলন ও মৌন মিছিল, ৫ই মে বিক্ষোভ সমাবেশ, ৬ই মে মানববন্ধন, ৭ই মে প্রতিবাদ সমাবেশ ও ৮ই মে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালিত হবে। সুপ্রিম কোর্টসহ দেশের সব আইনজীবী সমিতিতে এ কর্মসূচি পালন করা হবে।
নারায়ণগঞ্জ থেকে র‌্যাব সদস্যদের প্রত্যাহার দাবি: এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে বার কাউন্সিলের সহসভাপতি এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন এবং সুপ্রিম কোর্ট বারের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন নিহত চন্দন সরকারের জালকুঁড়ি এলাকার বাসভবনে যান এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সমবেদনা জানান। ওই সময় নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানসহ নারায়ণগঞ্জের আইনজীবী নেতারা উপস্থিত ছিলেন। খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, এ ঘটনা অত্যন্ত নৃশংস, ভয়াবহ। এ ঘটনার পর এখন নিহত আইনজীবীর পরিবার নিরাপত্তাহীন। তিনি ঘটনার বিচার এবং খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার দাবি করেন। ঘটনার পর থেকে নিহত চন্দন সরকারের স্ত্রী অর্চনা সরকার বাকরুদ্ধ হয়ে গেছেন। কেউ তাকে সমবেদনা জানাতে বাড়িতে গেলে তিনি শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে থাকেন। কাঁদতেও যেন তিনি ভুলে গেছেন। নিহতের মেয়ে ডা. সুস্মিতা সরকার তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, অপহরণের পর আমাদের বাবাকে ফেরত পেতে অনেক আবেদন-নিবেদন করেছি। কিন্তু আমরা বাবার লাশ পেয়েছি। এখন অনেকে বক্তৃতা বিবৃতি দিচ্ছে, সমবেদনা জানচ্ছে। এগুলো আমাদের কাছে এখন অর্থহীন। আমার বাবার লাশ চিতায় পোড়ার সঙ্গে সঙ্গে সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। আর কোন প্রশ্ন নেই, আমার বলারও কিছু নেই। এদিকে শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির একটি দল ড. শাহদীন মালিক, জেড আই খান পান্না এবং হামিদা হোসেনের নেতৃত্বে নিহত আইনজীবী এডভোকেট চন্দন সরকারের বাড়িতে যান এবং সমবেদনা জানান। সেখানে ড. শাহদীন মালিক নারায়ণগঞ্জ থেকে র‌্যাবের সব সদস্যদের প্রত্যাহারের দাবি করেন। পরে তারা নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম এবং তার সঙ্গে নিহত তার সহযোগীদের বাড়িতেও যান। নিহতের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন বৃহস্পতিবার সকালে নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল এবং তার বন্ধু তাজুল ইসলামের নামাজে জানাজা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মৌচাকে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় লক্ষাধিক লোক অংশ নেন। এতে করে মৌচাক থেকে জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের ঢল সানারপাড় পর্যন্ত পৌঁছে। পরে তার লাশ সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। নিহত মনিরুজ্জামান স্বপন ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীরের লাশ সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী কদমতলীতে জানাজা শেষে দাফন করা হয়। এ ছাড়া লিটনের লাশ দাফন করা হয় ডেমরার শুকুরসী কবরস্থানে। আর বুধবার গভীর রাতে এডভোকেট চন্দন সরকারের লাশ মাসদাইর পৌর শ্মশানে দাহ করা হয়। চন্দন সরকারের গাড়িরচালক ইব্রাহিমের লাশ তার গ্রামের বাড়ি সোনারগাঁয় দাফন করা হয়। নজরুল ইসলামের নামাজে জানাজার আগে তার ছেলে নাঈম ইসলাম চিৎকার করে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার ছেলেকে যদি আজকে গুম করা হতো, আপনি যদি ছেলের লাশ পেতেন, তাহলে কেমন লাগত আপনার? আমি জানি, আমার বাবাকে চক্রান্ত করে খুন করা হয়েছে। আমি খুনিদের ফাঁসি চাই। আর কাউকে যেন এভাবে মরতে না হয়। জানাজার আগে নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু বলেন, ২২ বছর ধরে নজরুল ভাইয়ের সঙ্গে আমার সম্পর্ক। যারা তাকে খুন করেছে, তাদের বিচার করতেই হবে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাই। তারা যত শক্তিশালীই হোক, বিচার হতেই হবে। নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, নজরুল বেশ কিছুদিন ধরেই আতঙ্কে ভুগছিলেন। তিনি বলেছিলেন, তাকে হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে। আমরা দলীয় নেতা, পুলিশ, র‌্যাব সবাইকে জানিয়েছিলাম। তারা যদি ব্যবস্থা নিত, এই খুন হতো না।’ জানাজায় জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত, জেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক অবদুল কাদিরসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ জানাজায় অংশ নেন।  কাউন্সিলর নুর হোসেনের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ: এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উপর নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় নামাজে জানাজা শেষ হওয়ার পর বিক্ষুব্ধ লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে নাসিকের ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি নুর হোসেনের শিমরাইল ট্রাক স্ট্যান্ডের কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পরে কার্যালয়টিতে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়। এবং ট্রাকস্ট্যান্ডে পার্কিং করে রাখা কয়েকটি ট্রাক ভাঙচুর করা হয়। একই সময় ট্রাকস্ট্যান্ডের ভেতর একটি যাত্রার পেন্ডেলেও আগুন দেযা হয়। বিক্ষুব্ধদের তা-ব চলাকালে শত শত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নীরব দর্শনের ভূমিকা পালন করে। তা-বের কারণে ট্রাকস্ট্যান্ডের চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে নারায়ণগঞ্জ থেকে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে বেলা ১২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। কিন্তু এর আগেই কার্যালয়ের আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়।  এদিকে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন মিয়ার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে নজরুল ইসলামের সমর্থকরা। ভাঙচুর শেষে বাড়ির উঠানে টায়ারে আগুন লাগিয়ে আতঙ্কের সৃষ্টি করা হয়। এ সময় ইয়াছিন মিয়া ও তার স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। এর আগে বুধবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকায় ইয়াছিন মিয়ার মালিকানাধীন সামস ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর পর আগুন লাগিয়ে দেয় নজরুলের সমর্থকরা। ২৭শে এপ্রিল নজরুল ইসলাম তার ৩ সহযোগী ও গাড়ি চালকসহ অপহৃত হওয়ার পর তার স্ত্রী ২৮শে এপ্রিল রাতে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। ওই মামলায় আসামিদের তালিকায় ২ নম্বরে ইয়াছিন মিয়ার নাম রয়েছে।
অপহরণ ও হত্যাকা-ে জড়িত কেউ শনাক্ত হয়নি: এদিকে প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন সরকারসহ ৭ জনকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় পুলিশ এখনও কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার ড. খ. মুহিদ উদ্দিন। শুক্রবার বিকালে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ৭ জন অপহরণের ঘটনায় আমরা এখনও কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করতে পারিনি তবে তদন্তের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা অপহৃতদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানকে বিবেচনায় এনে আমাদের তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি বলেন, আমরা সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করছি। কোন কিছু বেরিয়ে এলে আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণে তৎপর রয়েছি। নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের স্ত্রীর বক্তব্যকে গুরুত্ব দিয়েও তদন্ত কাজ চালানো হচ্ছে বলে তিনি জানান। বৃহস্পতিবার রাতে আবারও সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় থেকে সৈয়দ সাইফুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ী অপহরণের ঘটনার বিষয়টিও বেশ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এবং তাকে আজ (শুক্রবার) কালের (শনিবার) মধ্যে উদ্ধার করা হবে বলেও পুলিশ সুপার জানান। এদিকে ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক শুক্রবার দুপুরে বলেন, কাউন্সিলরসহ অপহৃত ৭ জনের হত্যাকারীরা দেশেই আছে। তাদেরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি আশা করেন, দ্রততম সময়ে হত্যাকারীরা গ্রেপ্তার হবে। হত্যাকা-ের ব্যাপারে তিনি বলেন, হত্যাকা-ে অনেক মোটিভ নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। তবে মামলার মোটিভ নিয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি গোলাম ফারুক। তিনি জানান, এ মামলার তদন্তের ব্যাপারে পুলিশের কোন প্রকার গাফিলতি থাকলে তাদের ব্যাপারেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

No comments:

Post a Comment