চট্টগ্রামে সম্পত্তির লোভে মাকে গলা টিপে হত্যা করতে চেয়েছিল তার ৩ সন্তান। এই ঘটনায় জড়িত ছিলেন পুত্রবধূরাও। সবাই মিলে মৃত্যু না হওয়ায় তালা মেরে ঘরে রেখে দেয় সেই মাকে। পরে ঘটনা জানাজানি হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠায়। কিন্তু মায়ের অনুরোধে শর্তসাপেক্ষে সন্তানদের জামিন দেন বিচারক। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার বিচার শুরু হয়েছে। মহানগর হাকিম মশিউর রহমান চৌধুরী পুত্রবধূসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিরা ছেলে নূর আলম, নূর ইসলাম ও নূর হোসেন, আর তাদের স্ত্রীরা পারভিন আক্তার, শামীম আক্তার ও বিউটি আক্তার। সূত্র জানায়, ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। পরে সন্তানদের কষ্ট দেখে তাদের মা বাইরে রেখে বিচারকার্য চালানোর অনুরোধ করেন। হালিশহরের বাকের আলী ফকিরেরটেক এলাকার প্রয়াত নূরউদ্দিন ড্রাইভারের স্ত্রী বৃদ্ধা রওশন আরা। মৃত্যুর আগে স্বামীর কাছ থেকে তিনি পান প্রায় আড়াই গণ্ডা জায়গা। কিন্তু সন্তানরা মায়ের চেয়ে সম্পত্তিকে বড় করে দেখে তার ওপর শারীরিকভাবে নির্যাতন শুরু করে। এক পর্যায়ে তা সন্তানদের লিখে দিতে জোর করে পুত্রবধূরাও। প্রথম দিকে সম্পত্তি পাওয়ার লোভে তার প্রতি দরদ বাড়লেও এক পর্যায়ে তা কমতে থাকে। এরপর চলতি বছরের গত ২৪শে ফেব্রুয়ারি প্রথম দফায় সবাই মিলে বৃদ্ধা রওশন আরাকে শ্বাসরোধে করে হত্যার চেষ্টা করে। আশপাশের মানুষের সহায়তায় তিনি বেঁচে গেলেও পরে নেমে আসে আরও দুর্যোগ। খাবার-দাবার বন্ধ করে দিয়ে তাকে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। ঘটনার দু’দিন পর ২৬শে ফেব্রুয়ারি রওশন আরা মহানগর হাকিম ফরিদুল আলমের আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। আসামিরা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানায়। কিন্তু বিচারক পুরো ঘটনা শুনে জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে মায়ের আকুতিতে শর্তসাপেক্ষে তাদের জামিন হয়। বর্তমানে বিচারকার্য চলছে।
এবিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট হাবিবুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, ঘটনাটি শুনে বিচারক চোখের পানি ফেলেছেন। আজ (গতকাল) বিচারকার্য শুরু করার আদেশ দিয়েছেন। শিগগিরই সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করবেন। যে মাকে হত্যা করতে চেয়েছিলো তার আকুতিতে ওই সন্তানেরা কারাযন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, আদালতে ওই ৩ সন্তান প্রতি মাসে মাকে ৬ হাজার টাকা করে দেবে বলে জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা সম্পত্তির জন্য কোন ধরনের চাপ প্রয়োগ করবে না বলে অঙ্গীকার করেছে।
এবিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট হাবিবুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, ঘটনাটি শুনে বিচারক চোখের পানি ফেলেছেন। আজ (গতকাল) বিচারকার্য শুরু করার আদেশ দিয়েছেন। শিগগিরই সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করবেন। যে মাকে হত্যা করতে চেয়েছিলো তার আকুতিতে ওই সন্তানেরা কারাযন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, আদালতে ওই ৩ সন্তান প্রতি মাসে মাকে ৬ হাজার টাকা করে দেবে বলে জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা সম্পত্তির জন্য কোন ধরনের চাপ প্রয়োগ করবে না বলে অঙ্গীকার করেছে।
No comments:
Post a Comment