Sunday, October 12, 2014

রাঙ্গুনিয়ায় মেয়ের জামাইয়ের ছুরিকাঘাতে শাশুড়ি খুন

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বালতি নিয়ে বাগবিতণ্ডতার ঘটনায় নিজের মেয়ের জামাইয়ের ছুরিকাঘাতে নির্মমভাবে খুন হয়েছেন আয়েশা খাতুন (৭০) নামের বৃদ্ধা এক শাশুড়ি। আজ রবিবার সকাল ৭টায় রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের পূর্ব সরফভাটা আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর পুলিশ নিহতের লাশ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন। এ ঘটনায় নিহতের বড় মেয়ে রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এদিকে এ হত্যাকাণ্ডের পর মেয়ের জামাই ঘাতক মো. মামুন (২০) পালিয়ে যান। সে নেত্রকোনা জেলার মো. সবুজের ছেলে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরফভাটা ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুল ইসলাম সরফি জানান, পূর্ব সরফভাটা আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছেন একই ইউনিয়নের মরাখালেরমূখ এলাকার মৃত আবদুল সালামের স্ত্রী আয়েশা খাতুন। কর্ণফুলি নদীর ভাঙ্গনের কারণে বসতভিটেহারা এই পরিবারটি আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরটি বরাদ্দ পান। নিহত আয়েশা খাতুনের মেয়ে সুফিয়া আক্তার সুখীর সাথে নেত্রকোনার মো. মামুনের মোবাইলে মিস কলের সূত্র ধরে পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। গত মে মাসে তারা দুজনে পালিয়ে বিয়ে করেন। এরপর আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘর বাড়া নিয়ে শাশুড়ির পাশে স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন মামুন। আজ রবিবার সকাল ৭টায় ব্যবহারের একটি বালতি নিয়ে জামাই মামুন ও শাশুড়ি আয়েশা খাতুনের মধ্য বাগবিতণ্ডতা হয়। এর একপর্যায়ে  মামুন শাশুড়ির বুকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই আয়েশা খাতুনের মৃত্যু হয়।
নিহতের বড় মেয়ে রোকেয়া বেগম জানান, আজ আমাদের একটি বালতি ব্যবহার করা নিয়ে মায়ের সাথে তার ঝগড়া হয়। এরপর সে ছুরিকাঘাত করে মাকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। মেয়ে আরো জানান, তারা প্রেম করে বিয়ে করলেও বিয়ের পর থেকে যৌতুক দাবি করে আসছিলেন মামুন।
এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে রাঙ্গুনিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘাতক মামুনকে ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

No comments:

Post a Comment