মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের
মামলায় ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী
সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের করা আপিলের রায় আগামীকাল
সোবমার ঘোষণা করা হবে।
এজন্য মামলাটি আপিল বিভাগের কার্য্য তালিকার এক নম্বরে রাখা হয়েছে।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আপিল বিভাগের সিনিয়র বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের বেঞ্চ রায় ঘোষণা অপেক্ষমাণ রাখেন।
এজন্য মামলাটি আপিল বিভাগের কার্য্য তালিকার এক নম্বরে রাখা হয়েছে।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আপিল বিভাগের সিনিয়র বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের বেঞ্চ রায় ঘোষণা অপেক্ষমাণ রাখেন।

আপিল বিভাগের রায়ে কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকবে বলে আশা করছেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী এসএম শাহজাহান সাংবাদিকদের বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ তাদের সাক্ষ্য-প্রমাণ দিয়ে কোনো অভিযোগ নির্ভরযোগ্যভাবে প্রমাণ করতে পারেনি। আপিলের রায়ে কামারুজ্জামান খালাস পাবেন।
গত বছরের ৯ মে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। ওই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে গত বছরের ৬ জুন আপিল করেন তিনি।
গত ৫ জুন এ বিষয়ে শুনানি শুরু হয়। এরপর উভয়পক্ষের শুনানি শেষে গত ৯ সেপ্টেম্বর কামারুজ্জামানের পক্ষে আপিলে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন তার আইনজীবীরা। তার পক্ষে শুনানি করেন এসএম শাহজাহান। তাকে সহযোগিতা করেন এডভোকেট শিশির মো. মুনির।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
ট্রাইব্যুনাল-২ এর রায়ে কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে আনীত সাতটি অভিযোগের মধ্যে পাঁচটি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। শেরপুরের সোহাগপুরে ১৬৪ জন নিরস্ত্র নাগরিককে হত্যা ও নারী ধর্ষণ এবং গোলাম মোস্তফা নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার দায়ে মুহাম্মদ কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
এছাড়া বদিউজ্জামানকে অপহরণ করে নির্যাতন এবং অতঃপর হত্যা এবং ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে অপর ছয় ব্যক্তিকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যার দায়ে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।
অধ্যক্ষ সৈয়দ আবদুল হান্নান নামে এক ব্যক্তিকে নির্যাতনের অপর ঘটনায় কামারুজ্জামানকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল।
এদিকে, লিয়াকতসহ ৮ জনকে হত্যা এবং অপর আরেকটি ঘটনায় টুনু নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে না পারায় এ দুটি অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেয়া হয়।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ২৯ জুলাই কামারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২ আগস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত বছরের ৪ জুন এই ট্রাইব্যুনাল কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি অভিযোগ গঠন করেন।
এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন আপিল বিভাগ। রায়ে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
এরও আগে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর জামায়াতের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লাকে ফাঁসির আদেশ দেন আপিল বিভাগ। পরে তা কার্যকর করা হয়েছে।
এদিকে, আপিলে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, জামায়াতের সেক্রেটারী জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদসহ একাধিক মামলা।
No comments:
Post a Comment