একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায়
ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃতুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল
মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মামলায় আপিলের চূড়ান্ত রায়ের জন্য আগামীকাল
সোমবার দিন ধার্য্য করা হয়েছে।
সোমবার এ মামলাটি রায়ের জন্য মামলা তালিকার এক নম্বরে থাকবে বলে জানিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এসএম কুদ্দুস জামান।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের সিনিয়র বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখেন।
সোমবার এ মামলাটি রায়ের জন্য মামলা তালিকার এক নম্বরে থাকবে বলে জানিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এসএম কুদ্দুস জামান।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের সিনিয়র বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখেন।

এই বেঞ্চের অপর তিন বিচারপতি হলেন- বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী।
গত ১৮ মে থেকে কামারুজ্জামানের মামলার আপিল শুনানি শুরু হয়। মানবতাবিরোধী অপরাধে আপিল বিভাগে কামারুজ্জামানের মামলার শুনানির জন্য একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করা হয়।
এর আগে জামায়াতের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা ও মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলায় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ শুনানি গ্রহণ করতেন।
গত বছরের ৬ জুন ট্রাইব্যুনাল-২ এর দেওয়া ফাঁসির আদেশ থেকে খালাস চেয়ে আপিল করেন কামারুজ্জামান। আপিলে ২,৫৬৪টি মুল ডকুমেন্ট, ১২৪টি গ্রাউন্ডসহ সর্বমোট ১০৫ পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট জমা দেয়া হয়েছে।
গত ৯ মে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
তার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা ৭টি অভিযোগের মধ্যে ৫টিই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হওয়ায় এ রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া বাকি দুটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি মর্মে তাকে খালাস দেয়া হয়।
একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১১টি রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
২০১০ সালে ট্রাইব্যুনাল গঠিত হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত ১১টি মামলার রায়ে মৃত্যুদণ্ডসহ ১২ জনকে বিভিন্ন সাজা দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। আর রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে চারটি মামলা। এছাড়া বিচারাধীন আছে আরো একাধিক মামলা।
ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায় আসে ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি। ওইদিন পলাতক জামায়াতের সাবেক রুকন আবুল কালাম আজাদকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়।
এরপর একই বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। যদিও এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আপিল আবেদনে যাবজ্জীবন থেকে বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড দেন আপিল বিভাগ। পরে ডিসেম্বর মাসে তা কার্যকরও করা হয়।
ট্রাইব্যুনাল থেকে তৃতীয় রায় হয় ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। জামায়াতের আরেক নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ফাঁসি দেন ট্রাইব্যুনাল। পরে আপিল বিভাগ থেকে সাজা কমে যাবজ্জীবন দণ্ড পান তিনি।
এরপর ৯ মে জামায়াত নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামানকে ফাঁসির দণ্ড দিয়ে রায় দেন ট্রাইব্যুনাল। গত ১৫ জুলাই জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমকে ৯০ বছর কারাদণ্ড এবং ১৭ জুলাই জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে ফাঁসির আদেশ দেন ট্রাইবুনাল।
একই বছরের ১ অক্টোবর বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে মৃত্যুদণ্ড, ৯ অক্টোবর বিএনপির সাবেক মন্ত্রী আব্দুল আলীমকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর ৩ নভেম্বর পলাতক আশরাফুজ্জামান ও চৌধুরী মঈনুদ্দিনকে ফাঁসির দণ্ডাদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। ২৯ অক্টোবর ফাঁসির আদেশ হয় জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর।
সর্বশেষ আজ রবিবার জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীকে ফাঁসির আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
No comments:
Post a Comment