Wednesday, August 5, 2015

বুড়িগঙ্গা প্রথম সেতু টোলমুক্ত করার দাবিতে অবরোধ চতুর্থ দিনে গড়াল

বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু (বুড়িগঙ্গা প্রথম সেতু)
টোলমুক্ত করার দাবিতে সেতুতে আড়াআড়িভাবে ট্রাক
রেখে যান চলাচলে বাধা দেন অবরোধকারীরা
বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু (বুড়িগঙ্গা প্রথম সেতু) টোলমুক্ত করার দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার টানা চতুর্থ দিনের মতো সেতু অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন যানবাহনের শ্রমিক ও মালিকেরা। এ কারণে দক্ষিণাঞ্চলে কেরানীগঞ্জ, দোহার, মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুর, খুলনা, শরীয়তপুর ও মাওয়া রুটের যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল অবরোধের সমর্থনে যানবাহনের মালিক-শ্রমিক ও সেতু টোলমুক্ত ঐক্য পরিষদের নেতা-কর্মীরা সেতুর দক্ষিণ প্রান্ত কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়া এবং সেতুর উত্তর প্রান্ত রাজধানীর পোস্তগোলা এলাকায় ট্রাক দিয়ে ব্যারিকেড দেয়। সেতুতে জরুরি অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন চলাচল করতে দেওয়া হয়নি। গাজীপুর থেকে আসা একটি বাসের যাত্রী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সায়েদাবাদ থেকে বাসে উঠেছি শরীয়তপুর যাব। পোস্তগোলায় সেতুর কাছে আসামাত্র অবরোধকারীরা আমাদের বাস থেকে নামিয়ে দেন। তাঁরা বলেন, সেতু দিয়ে কোনো যানবাহন যেতে দেওয়া হবে না।’ আনোয়ার বলেন, ‘এভাবে দিনের পর দিন অবরোধ করে সেতুতে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখলে আমরা কীভাবে চলাচল করব।’
মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থেকে ইট আনার উদ্দেশ্যে ট্রাক নিয়ে পাগলা রওনা হয়েছেন সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ট্রাকটি সেতুর কাছে আসামাত্র অবরোধকারীরা বাধা দেন। বাধ্য হয়ে বুড়িগঙ্গা দ্বিতীয় সেতু দিয়ে যেতে হচ্ছে।’
বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রথম বুড়িগঙ্গা সেতু টোলমুক্ত সংগ্রাম ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক এমদাদুল হক গতকাল বলেন, ‘সেতু টোলমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।’
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, সেতুর বিষয়টি নিয়ে যানবাহনের শ্রমিক ও মালিকদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে। সেতু এলাকা ও ঢাকা-মাওয়া সড়কে বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
কেরানীগঞ্জ সড়ক উপবিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এস এম খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাইনি।’

No comments:

Post a Comment