![]() |
| অস্বাভাবিক জোয়ারে বরগুনা সদর উপজেলায় মাঝেরচর রক্ষা বাঁধের ১৫ মিটার অংশ বিলীন হয়ে যায় -প্রথম আলো |
অস্বাভাবিক
জোয়ারে বরগুনা সদর উপজেলার মাঝেরচর রক্ষা বাঁধের ১৫ মিটার এবং পাথরঘাটা
উপজেলার পরিকাটা ও পদ্মা এলাকার মোট ৮০০ মিটার বাঁধ গতকাল মঙ্গলবার বিলীন
হয়ে গেছে। এতে মাঝেরচরের ১৫০টি পরিবার ও পাথরঘাটার অন্তত ১৫টি গ্রামের
মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
একই সঙ্গে ঘূর্ণিঝড় কোমেনের প্রভাবে টানা বৃষ্টি ও অস্বাভাবিক জোয়ারে বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় খুলনার চার উপজেলার প্রায় এক লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
বরগুনার মাঝেরচরের কয়েকজন বাসিন্দা সূত্রে জানা যায়, গতকাল দুপুরে প্রবল জোয়ারের চাপে মাঝেরচরের উত্তর পাশের বাঁধে আকস্মিক ভাঙন দেখা দেয়। পরে ধীরে ধীরে ভাঙন বাড়তে থাকে। বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে ফসলের খেত তলিয়ে যায়। ভেসে যায় বেশ কয়েকটি মাছের ঘের। পানিবন্দী হয়ে পড়ে প্রায় ১৫০টি পরিবার।
মাঝেরচর গ্রামের বাসিন্দা আলতাফ হোসেন বলেন, তিন দিন ধরে জোয়ারের পানির চাপে চর রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে ছিল। কিন্তু গতকাল দুপুরে হঠাৎ অনেকখানি অংশ ভেঙে যায়।
একই সময়ে জেলার পাথরঘাটা উপজেলার কাঁঠালতলী ইউনিয়নের বলেশ্বর নদের তীরের পরিকাটা এলাকার ৩০০ মিটার ও পদ্মা এলাকার ৫০০ মিটার বাঁধ বিলীন হয়ে যায়। এতে পরিকাটা, খাতাচিড়া, বকুলতলা, পদ্মা রূহিতা, তাফালবাড়িয়া, হাজির খালসহ ১৫টি গ্রামের বাসিন্দারা পানিবন্দী হয়ে আছেন।
বরগুনার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় কোমেনের পর জেলার বিভিন্ন এলাকায় তিন কিলোমিটার বাঁধ সম্পূর্ণ ও ১০ কিলোমিটার বাঁধের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। মাঝেরচর ও পাথরঘাটার কাঁঠালতলী এলাকার বাঁধে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। গতকাল জেলার নদ-নদীতে জোয়ারের উচ্চতা ছিল তিন মিটার; যা বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপরে।
পাউবোর বরগুনা জেলা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম শহিদুল ইসলাম বলেন, জোয়ারের চাপ কমলে বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করা হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার খুলনার দাকোপ উপজেলার ৩২ ও ৩৩ নম্বর পোল্ডারের সুতারখালী ইউনিয়নের প্রায় ছয় মিটার বাঁধ ভেঙে তিনটি গ্রাম, কামারখোলা ইউনিয়নের আওতায় পাঁচ মিটার বাঁধ ভেঙে পাঁচটি গ্রাম ও বাণীশান্তা ইউনিয়নের তিন মিটার বাঁধ ভেঙে একটি গ্রাম প্লাবিত হয়।
কয়রা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আ ফ ম তমিজ উদ্দিন বলেন, উপজেলার উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের পাউবো ১৪ / ১ নম্বর পোল্ডারে বেড়িবাঁধ ভেঙে শাকবাড়িয়া ও গাববুনিয়া নামের দুটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে কমপক্ষে ৫০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত সোমবার ভোরে বাঁধের ওই অংশের ২০০ মিটার ধসে যায়।
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শামছু দৌজা বলেন, ৩১ জুলাই গভীর রাতে উপজেলার শরাফপুর ইউনিয়নের আওতায় ২০০ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙে চাঁদগড়, আকড়া ও বাহির আকড়া গ্রাম প্লাবিত হয়। একই ভাঙনে বটিয়াঘাটা উপজেলার সুরখালী ইউনিয়নের সুন্দরমহল গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে প্রায় তিন হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ে। পরে জোয়ারের সময় গ্রামে পানি ঢুকে সব মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিতে আটকা পড়ে।
পাইকগাছার ভারপ্রাপ্ত ইউএনও কামরুল ইসলাম বলেন, ২৯ জুলাই রাতে কপোতাক্ষ নদের প্রায় ৫০ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙে উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নের হরিদাসকাটি, রহিমপুর ও দেয়াড়া গ্রাম প্লাবিত হয়। এর ফলে এসব এলাকার প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ে।
সব মিলিয়ে উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় কমবেশি জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে বলে জানান ইউএনও কামরুল ইসলাম। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চাঁদখালী ও গড়ইখালী ইউনিয়ন। চাঁদখালী ইউনিয়নের ২০টি গ্রামে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
খুলনার জেলা প্রশাসক মোস্তফা কামাল বলেন, ঝুঁকিতে থাকা বাঁধগুলো মেরামতের চেষ্টা করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে ঘূর্ণিঝড় কোমেনের প্রভাবে টানা বৃষ্টি ও অস্বাভাবিক জোয়ারে বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় খুলনার চার উপজেলার প্রায় এক লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
বরগুনার মাঝেরচরের কয়েকজন বাসিন্দা সূত্রে জানা যায়, গতকাল দুপুরে প্রবল জোয়ারের চাপে মাঝেরচরের উত্তর পাশের বাঁধে আকস্মিক ভাঙন দেখা দেয়। পরে ধীরে ধীরে ভাঙন বাড়তে থাকে। বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে ফসলের খেত তলিয়ে যায়। ভেসে যায় বেশ কয়েকটি মাছের ঘের। পানিবন্দী হয়ে পড়ে প্রায় ১৫০টি পরিবার।
মাঝেরচর গ্রামের বাসিন্দা আলতাফ হোসেন বলেন, তিন দিন ধরে জোয়ারের পানির চাপে চর রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে ছিল। কিন্তু গতকাল দুপুরে হঠাৎ অনেকখানি অংশ ভেঙে যায়।
একই সময়ে জেলার পাথরঘাটা উপজেলার কাঁঠালতলী ইউনিয়নের বলেশ্বর নদের তীরের পরিকাটা এলাকার ৩০০ মিটার ও পদ্মা এলাকার ৫০০ মিটার বাঁধ বিলীন হয়ে যায়। এতে পরিকাটা, খাতাচিড়া, বকুলতলা, পদ্মা রূহিতা, তাফালবাড়িয়া, হাজির খালসহ ১৫টি গ্রামের বাসিন্দারা পানিবন্দী হয়ে আছেন।
বরগুনার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় কোমেনের পর জেলার বিভিন্ন এলাকায় তিন কিলোমিটার বাঁধ সম্পূর্ণ ও ১০ কিলোমিটার বাঁধের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। মাঝেরচর ও পাথরঘাটার কাঁঠালতলী এলাকার বাঁধে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। গতকাল জেলার নদ-নদীতে জোয়ারের উচ্চতা ছিল তিন মিটার; যা বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপরে।
পাউবোর বরগুনা জেলা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম শহিদুল ইসলাম বলেন, জোয়ারের চাপ কমলে বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করা হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার খুলনার দাকোপ উপজেলার ৩২ ও ৩৩ নম্বর পোল্ডারের সুতারখালী ইউনিয়নের প্রায় ছয় মিটার বাঁধ ভেঙে তিনটি গ্রাম, কামারখোলা ইউনিয়নের আওতায় পাঁচ মিটার বাঁধ ভেঙে পাঁচটি গ্রাম ও বাণীশান্তা ইউনিয়নের তিন মিটার বাঁধ ভেঙে একটি গ্রাম প্লাবিত হয়।
কয়রা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আ ফ ম তমিজ উদ্দিন বলেন, উপজেলার উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের পাউবো ১৪ / ১ নম্বর পোল্ডারে বেড়িবাঁধ ভেঙে শাকবাড়িয়া ও গাববুনিয়া নামের দুটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে কমপক্ষে ৫০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত সোমবার ভোরে বাঁধের ওই অংশের ২০০ মিটার ধসে যায়।
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শামছু দৌজা বলেন, ৩১ জুলাই গভীর রাতে উপজেলার শরাফপুর ইউনিয়নের আওতায় ২০০ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙে চাঁদগড়, আকড়া ও বাহির আকড়া গ্রাম প্লাবিত হয়। একই ভাঙনে বটিয়াঘাটা উপজেলার সুরখালী ইউনিয়নের সুন্দরমহল গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে প্রায় তিন হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ে। পরে জোয়ারের সময় গ্রামে পানি ঢুকে সব মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিতে আটকা পড়ে।
পাইকগাছার ভারপ্রাপ্ত ইউএনও কামরুল ইসলাম বলেন, ২৯ জুলাই রাতে কপোতাক্ষ নদের প্রায় ৫০ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙে উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নের হরিদাসকাটি, রহিমপুর ও দেয়াড়া গ্রাম প্লাবিত হয়। এর ফলে এসব এলাকার প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ে।
সব মিলিয়ে উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় কমবেশি জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে বলে জানান ইউএনও কামরুল ইসলাম। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চাঁদখালী ও গড়ইখালী ইউনিয়ন। চাঁদখালী ইউনিয়নের ২০টি গ্রামে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
খুলনার জেলা প্রশাসক মোস্তফা কামাল বলেন, ঝুঁকিতে থাকা বাঁধগুলো মেরামতের চেষ্টা করা হচ্ছে।

No comments:
Post a Comment