Tuesday, August 4, 2015

অবশেষে দেশে পৌঁছালো রশিদের মৃতদেহ

সমুদ্র পথে মালয়েশিয়া গিয়ে দুমাস আগে মারা যাওয়া নরসিংদীর ভেলানগর এলাকার আবদুর রশিদ মিয়ার (৪৩) মরদেহ অবশেষে আজ মঙ্গলবার সকালে দেশে পৌঁছেছে। দেশে ফেরত পাঠানোর খরচ নিয়ে জটিলতার কারণে এত দিন এই মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়নি। এদিকে, অভিযোগের দেড় মাসেও রশিদকে মালয়েশিয়ায় পাঠানো দালালের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ তাঁর পরিবার।
বেলা বারটার দিকে রশিদের মরদেহ নরসিংদীর ভেলানগরে পৌঁছালে একনজর দেখতে এলাকার হাজারো লোক জড়ো হন। এ সময় পরিবার ও স্বজনদের আহাজারিতে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। যোহরের নামাজের পর স্থানীয় স্কুল মাঠে জানাজা শেষে গ্রামের বাড়ি শিবপুরের জয়নগর ইউনিয়নের সীমারবাগ এলাকায় নেওয়া হয় মরদেহ। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয় রশিদকে।
এ সময় রহিমের বড় ভাই আবুল কাশেম ও বড় ছেলে স্বপন মিয়া অভিযোগ করে বলেন, রশিদকে মালয়েশিয়ায় নেওয়া দালালদের বিরুদ্ধে গত ২৫ জুন জেলা পুলিশ সুপার বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করলে তদন্তের দায়িত্বভার দেওয়া হয় রায়পুরা থানাকে। কিন্তু তাঁরা আজ অবধি কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দালালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাঁদের শাসিয়েছেন। দালালকে কয় টাকা দেওয়া হয়েছে, টাকা কোথা থেকে পেয়েছে এবং ঋণ দেওয়ার কারণে আত্মীয়দেরও ফোনে জেরা করা হয়েছে। কিন্তু দালালের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দালাল ও তাঁর লোকজন হুমকি দিয়ে বলেছে তাঁরা থানা কিনে নিয়েছে। পুলিশ তাঁদের কিছু করবে না।
এ ব্যাপারে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘লাশ দাফনের পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে পরিবারের লোকজন আসলে মামলা করাসহ যা ব্যবস্থা নিতে হয় সব করা হবে’।
নিহত আবদুর রশিদের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রশিদ ভেলানগর বাজারে বড় ভাই আবুল কাশেমের ফার্নিচারের দোকানে কাজ করতেন। গত ২৭ মার্চ বিকেলে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে রায়পুরা উপজেলার মাহমুদনগর এলাকার জামির উদ্দিন নামের এক দালালের কথায় কয়েকজনের সঙ্গে মালয়েশিয়াগামী ট্রলারে উঠেছিলেন। এর মধ্যে জামিরের সঙ্গে পরিবারের লোকজন যোগাযোগ করলে রশিদকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে তিনি তিন লাখ টাকা দাবি করেন। পরে নিহত রশিদের বড় ভাই আবুল কাশেম ২৮ এপ্রিল জামিরকে তাঁর বাড়িতে আড়াই লাখ টাকা দেন। এরপর দেড় মাস সাগরে ভাসার পর একদিন দালালেরা তাঁদের ফেলে যান। জেলেদের কাছ থেকে তেল নিয়ে তাঁরা নিজেরাই ট্রলার চালিয়ে লংকাবি উপকূলে পৌঁছান। মালয়েশিয়ার পুলিশ গত ১১ মে ৭১৬ জন বাংলাদেশিকে আটক করে। তাঁদের নেওয়া হয় বেলা‌ন্তিক বন্দিশিবিরে। সেখানেই শারীরিক দুর্বলতাজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে রশিদ ৫ জুন মারা যান। সেখান থেকে পরিচয় যাচাই হয়ে যাওয়ায় অধিকাংশ বাংলাদেশি স্বজনদের কাছে ফিরে এসেছেন। এর মধ্যে রশিদের সহযাত্রী ভেলানগর এলাকার মকবুল হোসেন জুন মাসে ও আওলাদ হোসেন জুলাই মাসে ফিরেছেন। তাঁদের কাছ থেকে রশিদের মৃত্যুর খবর পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করলে উল্টো হুমকি দেওয়া হয়।
বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের সরকারিভাবে ফেরত পাঠানো হলেও মৃত রশিদকে ফেরত পাঠানোর খরচ নিয়ে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়। ফলে রশিদের মৃতদেহ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াটি পিছিয়ে যায়। শেষে এশিয়ার অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা একটি বেসরকারি সংস্থা ‘কারাম এশিয়া’ ও মালয়েশিয়ার প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংগঠন ‘ভালোবাসি বাংলাদেশ’ সংগঠনের উদ্যোগে আজ সকাল সাতটায় তাঁর মরদেহ বাংলাদেশে পৌঁছায়।

No comments:

Post a Comment