গুমের শিকার ব্যাক্তিদের স্বরণে
আন্তর্জাতিক দিবসে চট্টগ্রামে অধিকারের এইচআরডি নেটওয়ার্ক এর উদ্যোগে এক
আলোচনা সভা গত ৩০ আগষ্ট বহদ্দারহাটস্থ গ্রামীন ফটো কার্যালয়ে অধিকারের
ফোকাল পার্সন ওচমান জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এইচআরডি ইমরান
সোহেলের সঞ্চালনায় বক্তব্য
রাখেন
গুম হওয়া ভিকটিম ফটিকছড়ি বলি মনসুরের পুত্র মোহাম্মদ রহিম তার পিতা গুম
হওয়া প্রসঙ্গ টেনে তার বক্তব্য বলেন ২০১৩ সালে মার্চে তার পিতাকে হাটহাজারী
পুলিশ ফটিকছড়ি কাঞ্চননগর থেকে আটক করে এরপর থেকে এই পর্যন্ত তার পিতার
খোঁজ মেলেনি। তিনি তার পিতার জীবিত বা মৃত খোঁজ জানতে চান। যদি মারা যায়
তার পিতার কবরের খোঁজ দিতে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর দাবী জানান। এই
সময় আরো বক্তব্য রাখেন মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিক
গোলাম
সরওয়ার, দৈনিক রূপবানীর চট্টগ্রাম বুরে্য প্রধান রুহুল আমিন, মানবাধিকার
কর্মী রিজভী হাসান চৌধুরী, শহীদ উদ্দিন, আব্দুল কাইয়ুম, ফৌজিয়া আক্তার
রোটন, দৈনিক মুক্তবাণীর ফটো সংবাদিক সমীর কান্তি দাশ, প্রফেসর মোঃ মোস্তফা,
আনোয়ার সাইফু। বক্তরা গুম সম্পর্কে তাদের বক্তব্যে বলেন ২০০৬ সালের ২০
ডিসেম্বর জাতিসংঘে গুম হওয়া থেকে সমস্ত ব্যক্তির সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক
কনভেনশনটি গৃহীত হয়। তার ফলশ্র“তিতে প্রতি বছর ৩০ আগষ্ট গুমের শিকার
ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস পালন করা হয়। অধিকার এরই ধারাবাহিকতায়
প্রতি বছর দিবসটি পালন করে আসছে। আন্তর্জাতিক সনদের অনুচ্ছেদ ২ এ গুমের
সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। গুম বলতে রাষ্ট্রের অনুমোদন, মৌনসম্মতি, রাষ্ট্রীয়
প্রতিনিধি ব্যক্তি বা গোষ্টি কর্তৃক কোন ব্যক্তিকে আটক করার পর তার কোন
হদিস মিলে না তাহাই গুম। বাংলাদেশে ২০১০ সালে ২৩ মার্চ আন্তর্জাতিক ফৌজদারী
অপরাধ আদালতের (আইসিসি) রোম সংবিধিতে অনুস্বাক্ষর করেছে। রোম সংবিধিতে
গুমকে মানবতা বিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের পেক্ষাপটে
অধিকারের তথ্য অনুযায়ী ২০০৯-২০১৫ সালের ২৯ আগষ্ট পর্যন্ত ১১২ জন গুমের
শিকার হয়েছে। বর্তমানে দেশে গুম কে রাষ্ট্রের নিপীড়নের হাতিয়ার হিসেবে
ব্যবহার করা হচ্ছে। এই মানবতা বিরোধী অপরাধের দ্রুত অবসান চান। ঘটে যাওয়া
গুমের ঘটনা বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও সুষ্ট বিচার দাবী করেন। সভার শুরুতে
অধিকারের প্রতিবেদন পাঠ করেন ভিকটিম পরিবারের সদস্য মোহাম্মদ রহিম।
No comments:
Post a Comment