Saturday, August 8, 2015

টেকনাফে নয় সচিব: বিশাল গাড়িবহরের সৈকত অতিক্রম নিয়ে প্রশ্ন

নয় সচিবসহ ১৩ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের একটি সরকারি প্রতিনিধিদল গতকাল শুক্রবার টেকনাফ পরিদর্শন করেছে। প্রতিনিধিদলটি টেকনাফের নাফ নদীর ভাসমান দ্বীপ ‘জালিয়ারদিয়া’ পরিদর্শনকালে গাড়িতে করে তিন কিলোমিটার সৈকত পেরিয়ে সাবরাং এলাকায় যায়।
দলটির সঙ্গে প্রায় ৫০টি গাড়ি ছিল। কক্সবাজার জেলা প্রশাসন, টেকনাফ উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর বড় বড় পাজেরো গাড়ি এই বহরে ছিল। বহরের গাড়িগুলো সমুদ্রসৈকত দিয়ে অতিক্রম করে কুড়েরমুখ এলাকায় পার্ক করে। বহরে শতাধিক সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধি ছিলেন।
পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। ২০১০ সালে সংশোধন করা পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ইসিএ এলাকায় পরিবেশ ও প্রতিবেশের জন্য ক্ষতিকারক কোনো তৎপরতা চালানো যাবে না। ২০১০ সালেই পরিবেশ অধিদপ্তর ইসিএ এলাকা সংরক্ষণে একটি বিধিমালার খসড়া তৈরি করে তাদের ওয়েবসাইটে সর্বসাধারণের মতামতের জন্য দিয়েছে। তাতে ইসিএ এলাকায় যে ১৯ ধরনের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তার মধ্যে যানবাহন চলাচল অন্যতম।
ইসিএ এলাকায় যেখানে সরকার নিজে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কাজ করছে, সেখানে সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা এত বিশাল বহর নিয়ে সৈকত দিয়ে চলাচল করলেন কীভাবে? এ প্রশ্নের জবাবে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রইছউল আলম মণ্ডল প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই এলাকায় পরিবেশবান্ধব পর্যটন বা ইকো টুরিজম করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। পরিবেশ রক্ষা করে কীভাবে পর্যটন ও উন্নয়ন হতে পারে, সেই সিদ্ধান্ত নিতেই সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে আমরা সেখানে গিয়েছি। এটা বৃহত্তর স্বার্থে করা হয়েছে।’
পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, টেকনাফ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত সমুদ্রেসৈকতে কাঁকড়া, কচ্ছপ, ফুলকাওয়ালা মাছের বিভিন্ন প্রজাতি ও পরিবেশের জন্য সহায়ক নানা ধরনের অণুজীব রয়েছে। ২০০৮ সালে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত পর্যটন করপোরেশন থেকে জাতীয় হাঁটা উৎসবের আয়োজন করা হয়। কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ওই এলাকাটি ইসিএ এবং এত মানুষ ওই সৈকত ধরে হেঁটে গেলে তা জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করবে, এমন কথা তোলা হয়। পরে সরকার থেকে ওই হাঁটা উৎসব বাতিল করা হয়।
প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব আবুল কালাম আজাদ। অন্য কর্মকর্তারা হলেন: ভূমি মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব সফিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এন সিদ্দিক, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) পবন চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনসচিব খোরশেদ আলম চৌধুরী, বিদ্যুৎসচিব মনোয়ার ইসলাম, স্থানীয় সরকারসচিব আবদুল মালেক, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব কামাল উদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান অপরূপ চৌধুরী, বেজার প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম সচিব) হারুনুর রশিদ, বেজার উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ এ কে এম মাহবুবুর রহমান ও উপসচিব মলয় চৌধুরী।
টেকনাফ স্থলবন্দরের কাছে নাফ নদীর বুকে ভাসমান ২৭১ দশমিক ৯৩ একরের জালিয়ারদিয়া দ্বীপটি পর্যটনের জন্য আকর্ষণীয় স্থান। নেটং পাহাড়ের ওপর থেকে দ্বীপটি দেখতে মুরগির ডিমের মতো দেখায়। জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন জানান, এই দ্বীপে গড়ে তোলা হবে অর্থনৈতিক অঞ্চল।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব আবুল কালাম আজাদ গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, কক্সবাজারকে পর্যটনসহ পরিকল্পিতভাবে অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুবই আন্তরিক। তাঁর প্রতিশ্রুত প্রকল্পগুলো সরেজমিন দেখতে তাঁরা এখানে এসেছেন।
কক্সবাজারের টেকনাফ সৈকতে গতকাল বিকেলে হঠাৎ গাড়িবহরের আবির্ভাব পর্যটকদের মাঝে কৌতূহলের সৃষ্টি করে। টেকনাফের মহেষখালীপাড়া থেকে সাবরাংয়ের খুরেরমুখ পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা পাড়ি দেয় বিরাট এই বহর। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প দেখতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ উচ্চপর্যায়ের একটি সরকারি প্রতিনিধিদল গতকাল কক্সবাজার সফরে আসে l ছবি: প্রথম আলো

No comments:

Post a Comment