লিবীয়
উপকূলে নৌকা ডুবে মারা যাওয়া ২৪ বাংলাদেশীর লাশ পাওয়া প্রায় অনিশ্চিত!
বেঁচে যাওয়া বাংলাদেশীদেরও দেশটির ডিটেনশন সেন্টার থেকে মুক্তি এবং দেশে
ফেরানো নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। দুতাবাস কর্মকর্তারা তাদের মুক্তির জন্য
লিবিয়ার বিদ্যমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। শেষ খবর পাওয়া
পর্যন্ত ওই আলোচনায় জটিলতা কাটেনি বলে জানা গেছে। মানবজমিনের সঙ্গে আলাপে
দূতাবাসের চার্জ দ্যা অ্যাফয়ার্স মোজাম্মেল হক বলেন, প্রায় ৫০০ অভিবাসন
প্রত্যাশীকে নিয়ে দুর্ঘটনার মুখে পড়ে যাওয়া দুটি নৌকা এবং ভূমধ্যসাগরের
বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৫৮টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে অন্যান্য দেশের
নাগরিকদের সঙ্গে কয়েক জন বাংলাদেশীর লাশও রয়েছে। কিন্তু কারও লাশ দেখতে
দিচ্ছে না লিবীয় কর্তৃপক্ষ। তাছাড়া যারা এখনও নিখোঁজ রয়েছেন, তাদের বেঁচে
থাকার সম্ভাবনা নেই। তাদের লাশ পাওয়ার আশাও ফুরিয়ে আসছে বলে জানান তিনি।
এদিকে বিবিসি বাংলার সঙ্গে আলাপেও ভূমধ্যসাগরে নৌকা ডুবিতে নিহত
বাংলাদেশীদের মৃতদেহগুলো পাওয়ার বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ
দূতাবাসের ওই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, সাগর থেকে দেড়শোরও বেশি মৃতদেহ উদ্ধার
হয়েছে। এগুলো এখন লিবিয়ার কর্তৃপক্ষের জিম্মায় রয়েছে। তা কাউকে দেখতে দেয়া
হচ্ছে না। মোজাম্মেল বলেন, লাশ দেখতে না দেয়ার করণে এর মধ্যে কতজন
বাংলাদেশীর মৃতদেহ আছে তা কখনও জানা যাবে কিনা তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। গত
বৃহস্পতিবার লিবিয়া থেকে যাত্রা শুরুর ঘণ্টাখানেক পরই ভূমধ্যসাগরে ডুবে
যাওয়া ওই নৌকায় অন্তত ৭৮ জন বাংলাদেশী ছিলেন। এ ঘটনায় দুশোরও বেশি লোক
সাগরে ডুবে মারা গেছেন, যার মধ্যে অন্তত ২৪ জন বাংলাদেশী বলে কর্মকর্তারা
আশঙ্কা করছেন। মোজাম্মেল হক জানান, এদের মধ্যে চারটি পরিবারের ২২ জন ছিলেন
যার মধ্যে ৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ১৮ জনের কোন খোঁজ
পাওয়া যাচ্ছে না। মি. হক আশঙ্কা করেন যে তাদের সবাই নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায়
বেঁচে যাওয়ায় বাংলাদেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তারা এসব তথ্যের ব্যাপারে প্রায়
নিশ্চিত হয়েছেন বলে তিনি জানান। তিনি জানান, বেঁচে যাওয়া বাংলাদেশীদের
মধ্যে ৪২ জনকে এখন লিবিয়ার কর্তৃপক্ষের হেফাজতে বা ‘ডিটেনশনে’ রাখা হয়েছে।
এদের সঙ্গে কথা হলে অন্তত ২০ জন বলেছেন, তারা বাংলাদেশে ফেরত যেতে চান। ওই
চারটি পরিবারের সবাই দীর্ঘদিন ধরে লিবিয়াতে বসবাস করছিল। তাদের ছেলেমেয়েরা
লিবিয়াতে জন্ম নিয়েছ ও সেখানেই বেড়ে উঠেছে। লিবিয়ায় নিরাপত্তার অভাবের
কারণেই তারা নৌকায় করে ইতালিতে পাড়ি দেয়ার করেছিলেন। নিহত বাংলাদেশিদের
মৃতদেহ পাওয়ার বিষয়ে সেখানে থাকা দূতাবাসের শ্রম কাউন্সিলর আশরাফুল আলম
দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমকে বলেছেন, লিবিয়ার প্রথা অনুযায়ী মরদেহ দেখানোর
নিয়ম নেই। নৌকাডুবির প্রায় দু’দিন পর উদ্ধার হওয়ায় বেশির ভাগ মরদেহই বিকৃত
হয়ে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, তাদেরকে লিবিয়ায়ই দাফন করার চিন্তা করছে দেশটির
বিদ্যমান কতৃপক্ষ। ওই কর্মকর্তা জানান, জীবিত উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশীর
মধ্যে শুধুমাত্র চার পরিবারের তিন নারী ও কয়েকটি শিশুকে মুচলেকা দিয়ে
ছাড়িয়ে নেয়া সম্ভব হয়েছে। তাদেরকে লিবিয়ায় অবস্থানরত কয়েকটি বাংলাদেশী
পরিবারের জিম্মায় রাখা হয়েছে। আশরাফুল আলম জানান, জীবিত উদ্ধার হওয়া
বাংলাদেশিদের মধ্যে যারা লিবিয়ার ডিটেনশন সেন্টারে রয়েছেন তাদের মুক্তির
জন্য বিভিন্নমুখী চেষ্টা চলছে। এদের অনেকেরই বৈধ কাগজপত্র নেই। সরকার তাদের
ফেরানোর চেষ্টা করছে। তবে অনেকের মুক্তি এবং দেশে ফেরা কঠিন হবে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment