Monday, August 10, 2015

শুক্রবার শোক দিবস পালন করবে গণজাগরণ মঞ্চ

গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ও ব্লগার নীলাদ্রি হত্যার প্রতিবাদে এবং হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে সরকারকে সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ
গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ও ব্লগার নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় ওরফে নিলয়কে হত্যার ঘটনায় আগামী শুক্রবার সারা দেশে শোক দিবস পালন করবে মঞ্চ। এ ছাড়া হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে সরকারকে সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার। এ সময় তিনি আগামী শুক্রবার শোক দিবস পালনের পাশাপাশি বেলা তিনটায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শোক সমাবেশ করার কথা বলেন। এ ছাড়া, আজ রোববার বিকেল চারটায় শাহবাগে নীলাদ্রির প্রতিকৃতিতে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হবে। মঙ্গলবার একই সময়ে শাহবাগে গণমিছিল হবে। এসব কর্মসূচি সারা দেশে পালনের আহ্বান জানান ইমরান।
শুক্রবারের কর্মসূচির আগ পর্যন্ত জড়িতরা ধরা না পড়লে এর মধ্যে বিভিন্ন ছাত্র-যুব-নারী-সামাজিক-সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক ও প্রগতিশীল সব সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময় করে পরবর্তী ‘বৃহত্তর কর্মসূচি’ আহ্বান করা হবে বলে জানিয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ।
এ সময় ইমরান এইচ সরকার বলেন, ‘সব হত্যাকাণ্ডের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যে বক্তব্য দেয়, সেই বক্তব্য এবারও দিচ্ছে। সাত দিনের মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে সরকারকে প্রমাণ করতে হবে, এ ঘটনার সঙ্গে তারা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ জড়িত নয়।’
পরে ব্লগার হত্যার প্রতিবাদে একটি মশাল মিছিল বের করে গণজাগরণ মঞ্চ। মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে আবার শাহবাগে এসে শেষ হয়।
এর আগে নীলাদ্রি হত্যা নিয়ে পরবর্তী কর্মসূচি বিষয়ে টিএসসিতে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী-সংগঠকেরা। এঁদের প্রায় প্রত্যেকেই কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার পক্ষে মত দেন। তাঁরা বলেন, মৃত্যুর মিছিলে ব্লগার নীলাদ্রিই যেন শেষ নাম হয়।
নিন্দা ও প্রতিবাদ: ব্লগার নীলাদ্রি হত্যার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। তারা মনে করছে, একের পর এক ব্লগার হত্যার ঘটনার বিচার না হওয়ায় সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শরীফ নূরুল আম্বিয়া বলেন, গণতন্ত্র ও মানবতার শত্রুরাই এ রকম বর্বর হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পক্ষ থেকে বলা হয়, দুর্ভাগ্যজনকভাবে ‘ব্লগারদের’ নাস্তিক হিসেবে উপস্থিত করা হচ্ছে, যা মুক্তবুদ্ধি ও মুক্তচিন্তার বিরুদ্ধে আক্রমণের শামিল। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম ও সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগের ঘটনাগুলোর বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত ও যথাযথভাবে না চলায় একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি চলছে।
ব্লগার নীলাদ্রি হত্যার প্রতিবাদ জানিয়েছেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি বিচারপতি মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানী, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল। এ ছাড়া জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন, গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা, নারীপক্ষ, পেশাজীবী নারী সমাজ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে।

No comments:

Post a Comment