![]() |
| ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে গতকালও পাল্লা দিয়ে চলাচল করে সিএনজিচালিত অটোরিকশা। সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার নাজিরবাজার এলাকা থেকে বিকেলে তোলা l ছবি: প্রথম আলো |
জাতীয়
মহাসড়কে অটোরিকশা ও সব ধরনের অযান্ত্রিক যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞার তৃতীয়
দিনে গতকাল সোমবার ছয় জেলায় অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন
অটোরিকশার মালিক ও চালকেরা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। বিকল্প
কোনো ব্যবস্থা না করে গত ২৭ জুলাই সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়
এ-সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপনে সড়কের নিরাপত্তা বিধানে ১
আগস্ট থেকে সারা দেশের মহাসড়কে এসব যান নিষিদ্ধ করা হয়। মহাসড়কে দুর্ঘটনা
এড়াতে এসব ধীরগতির যান বন্ধ করতে এর আগেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তা
কার্যকর হয়নি।
ঢাকার বাইরে প্রথম আলোর প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন বিস্তারিত:
মুন্সিগঞ্জ: সিরাজদিখান উপজেলায় ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের দুটি স্থানে প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ চলে। বেলা ১১টার দিকে উপজেলার নিমতলা ও কুচিয়ামোড়া ধলেশ্বরী সেতু এলাকায় কয়েকটি বাসের চাকা পাংকচার করে মহাসড়কে ফেলে রেখে অবরোধ সৃষ্টি করেন অটোরিকশা মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের সদস্যরা। এতে মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। দুপুর দেড়টার দিকে পুলিশ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবরোধকারীরা রাস্তা থেকে সরে গেলে যান চলাচল শুরু হয়।
সিএনজি অটোরিকশার কয়েকজন চালক বলেন, অটোরিকশাগুলো গ্যাসে চলে। মহাসড়ক দিয়ে গ্যাস আনাও যাচ্ছে না। গ্যাস ছাড়া তো লিংক রোডেও তিন চাকার গাড়ি চালানো যায় না। তাঁরা আরও বলেন, গ্যাস না আনতে পারায় গাড়ি তিন দিন থেকে বন্ধ রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ: বেশ কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করা হয়। সকাল ১০টায় সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড, সানারপাড়, শিমরাইল, কাঁচপুর এলাকায় অবরোধ করলে পুলিশের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, বেলা ১১টার দিকে সাইনবোর্ড এলাকায় মানববন্ধন করেন অটোরিকশার চালক ও মালিকেরা। পরে তাঁরা মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। একপর্যায়ে তাঁরা মহাসড়কে শুয়ে পড়ে সড়ক অবরোধ করেন। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। পুলিশ অবরোধকারীদের মহাসড়ক থেকে সরে যাওয়ার জন্য কয়েক দফায় অনুরোধ করে ব্যর্থ হয়। পরে লাঠিপেটা ও শটগানের ফাঁকা গুলি ছুড়ে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় তাঁরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দুটি রাবার বুলেট ছোড়ে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর, মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা ও মেঘনা টোলপ্লাজা এলাকায় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চার ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন চালকেরা। এ সময় অবরোধকারীদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। এ সময় উত্তেজিত অবরোধকারীরা কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর চালায় ও টায়ারের হাওয়া বের করে দেন। এতে মহাসড়কের কাঁচপুর সেতু থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত প্রায় ১৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়।
গাজীপুর: কালিয়াকৈর উপজেলায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। থানার ওসি ওমর ফারুক জানান, সকাল সোয়া নয়টার দিকে মৌচাক, চন্দ্রা ও সফিপুর এলাকায় শতাধিক অটোরিকশার চালক মিছিল নিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান করেন। এতে ওই মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। বেলা সোয়া ১১টার দিকে তাঁদের সরিয়ে দিলে যানবাহন চলাচল শুরু হয়।
দাউদকান্দি (কুমিল্লা): সকাল ছয়টা থেকে অটোরিকশার চালক ও মালিকেরা পেন্নাই-মতলব সড়কে দাউদকান্দি উপজেলার পেন্নাই গ্রামের কাছে অবরোধ করে রাখেন। অটোরিকশাচালক উপজেলার গোপালপুর গ্রামের জমির মিয়া বলেন, ‘মহাসড়ক ছাড়া দাউদকান্দির কোথাও সিএনজি গ্যাস নেওয়া যাবে না। আর গ্যাসের জন্য মহাসড়কে উঠলে পুলিশ অটোরিকশা আটকে ১০০-২০০ টাকা আদায় করছে। এতে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। এ অবস্থার উন্নতির জন্য আমরা অবরোধে অংশগ্রহণ করি।’
কুমিল্লার তিতাস উপজেলার লালপুর গ্রামের গৃহবধূ হাসি আক্তার। তিন ছেলে নাহিদ হাসান, নাছরুল হাসান ও নিলয় হাসানকে নিয়ে তিন কিলোমিটার রাস্তা হেঁটে দাউদকান্দিতে চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন। আবারও হেঁটে বাড়ি ফিরতে হয় তাঁকে।
এদিকে, রোববার চালক ও মালিকদের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ এবং যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনায় গতকাল মামলা হয়েছে। দাউদকান্দি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রঞ্জন কুমার ঘোষ বাদী হয়ে ২৫ জন নামধারী এবং ৬০০-৭০০ অজ্ঞাতনামা লোককে আসামি করে মামলাটি করেন।
কুষ্টিয়া: মহাসড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালানোর দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিএনজি মালিক অ্যাসোসিয়েশন কুষ্টিয়া জেলা কমিটির উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। চৌড়হাস এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে কালেক্টরেট চত্বরে গিয়ে মানববন্ধন করেন তাঁরা।
সিরাজগঞ্জ: জেলার সিএনজিচালিত অটোরিকশা মালিক ও শ্রমিক ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে সিরাজগঞ্জ বাজার স্টেশন স্বাধীনতা স্কয়ারে এক প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে বক্তারা ৬ আগস্টের মধ্যে তাঁদের দাবি মানতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
ঢাকার বাইরে প্রথম আলোর প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন বিস্তারিত:
মুন্সিগঞ্জ: সিরাজদিখান উপজেলায় ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের দুটি স্থানে প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ চলে। বেলা ১১টার দিকে উপজেলার নিমতলা ও কুচিয়ামোড়া ধলেশ্বরী সেতু এলাকায় কয়েকটি বাসের চাকা পাংকচার করে মহাসড়কে ফেলে রেখে অবরোধ সৃষ্টি করেন অটোরিকশা মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের সদস্যরা। এতে মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। দুপুর দেড়টার দিকে পুলিশ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবরোধকারীরা রাস্তা থেকে সরে গেলে যান চলাচল শুরু হয়।
সিএনজি অটোরিকশার কয়েকজন চালক বলেন, অটোরিকশাগুলো গ্যাসে চলে। মহাসড়ক দিয়ে গ্যাস আনাও যাচ্ছে না। গ্যাস ছাড়া তো লিংক রোডেও তিন চাকার গাড়ি চালানো যায় না। তাঁরা আরও বলেন, গ্যাস না আনতে পারায় গাড়ি তিন দিন থেকে বন্ধ রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ: বেশ কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করা হয়। সকাল ১০টায় সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড, সানারপাড়, শিমরাইল, কাঁচপুর এলাকায় অবরোধ করলে পুলিশের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, বেলা ১১টার দিকে সাইনবোর্ড এলাকায় মানববন্ধন করেন অটোরিকশার চালক ও মালিকেরা। পরে তাঁরা মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। একপর্যায়ে তাঁরা মহাসড়কে শুয়ে পড়ে সড়ক অবরোধ করেন। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। পুলিশ অবরোধকারীদের মহাসড়ক থেকে সরে যাওয়ার জন্য কয়েক দফায় অনুরোধ করে ব্যর্থ হয়। পরে লাঠিপেটা ও শটগানের ফাঁকা গুলি ছুড়ে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় তাঁরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দুটি রাবার বুলেট ছোড়ে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর, মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা ও মেঘনা টোলপ্লাজা এলাকায় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চার ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন চালকেরা। এ সময় অবরোধকারীদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। এ সময় উত্তেজিত অবরোধকারীরা কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর চালায় ও টায়ারের হাওয়া বের করে দেন। এতে মহাসড়কের কাঁচপুর সেতু থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত প্রায় ১৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়।
গাজীপুর: কালিয়াকৈর উপজেলায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। থানার ওসি ওমর ফারুক জানান, সকাল সোয়া নয়টার দিকে মৌচাক, চন্দ্রা ও সফিপুর এলাকায় শতাধিক অটোরিকশার চালক মিছিল নিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান করেন। এতে ওই মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। বেলা সোয়া ১১টার দিকে তাঁদের সরিয়ে দিলে যানবাহন চলাচল শুরু হয়।
দাউদকান্দি (কুমিল্লা): সকাল ছয়টা থেকে অটোরিকশার চালক ও মালিকেরা পেন্নাই-মতলব সড়কে দাউদকান্দি উপজেলার পেন্নাই গ্রামের কাছে অবরোধ করে রাখেন। অটোরিকশাচালক উপজেলার গোপালপুর গ্রামের জমির মিয়া বলেন, ‘মহাসড়ক ছাড়া দাউদকান্দির কোথাও সিএনজি গ্যাস নেওয়া যাবে না। আর গ্যাসের জন্য মহাসড়কে উঠলে পুলিশ অটোরিকশা আটকে ১০০-২০০ টাকা আদায় করছে। এতে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। এ অবস্থার উন্নতির জন্য আমরা অবরোধে অংশগ্রহণ করি।’
কুমিল্লার তিতাস উপজেলার লালপুর গ্রামের গৃহবধূ হাসি আক্তার। তিন ছেলে নাহিদ হাসান, নাছরুল হাসান ও নিলয় হাসানকে নিয়ে তিন কিলোমিটার রাস্তা হেঁটে দাউদকান্দিতে চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন। আবারও হেঁটে বাড়ি ফিরতে হয় তাঁকে।
এদিকে, রোববার চালক ও মালিকদের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ এবং যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনায় গতকাল মামলা হয়েছে। দাউদকান্দি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রঞ্জন কুমার ঘোষ বাদী হয়ে ২৫ জন নামধারী এবং ৬০০-৭০০ অজ্ঞাতনামা লোককে আসামি করে মামলাটি করেন।
কুষ্টিয়া: মহাসড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালানোর দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিএনজি মালিক অ্যাসোসিয়েশন কুষ্টিয়া জেলা কমিটির উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। চৌড়হাস এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে কালেক্টরেট চত্বরে গিয়ে মানববন্ধন করেন তাঁরা।
সিরাজগঞ্জ: জেলার সিএনজিচালিত অটোরিকশা মালিক ও শ্রমিক ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে সিরাজগঞ্জ বাজার স্টেশন স্বাধীনতা স্কয়ারে এক প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে বক্তারা ৬ আগস্টের মধ্যে তাঁদের দাবি মানতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

No comments:
Post a Comment