Tuesday, August 4, 2015

জঠরের শিশু গুলিবিদ্ধের ঘটনায় আরও দুজন গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার হওয়া মো. বাপ্পি (মাঝে), মো. সাগর (বাঁয়ে) ও
সেন সুমন। ছবিটি আজ রাত সাড়ে ১০টার দিকে মাগুরা
পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে তোলা। ছবি: প্রথম আলো।
মাগুরায় ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ চলাকালে মা ও মায়ের পেটে থাকা শিশু গুলিবিদ্ধ হওয়ার মামলায় আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে মাগুরা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আজ সোমবার নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন মো. সাগর হোসেন (২৪) ও মো. বাপ্পী (২২)। এ নিয়ে এ মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুজনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গুলিবিদ্ধ মা ও শিশুটিকে দেখতে আজ তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব সাইফুজ্জামান শিখর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান।
রিমান্ডে দুই আসামি
গ্রেপ্তার মামলার ৫ নম্বর আসামি মো. সুমন ও ১৪ নম্বর আসামি সোবহানকে আজ আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। মাগুরার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম ফারাহ মামুন তাঁদের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ঘটনার সময় গুলি ও বোমায় নিহত মমিন ভুঁইয়ার ছেলে রুবেল ভূইয়া গত ২৬ জুলাই মামলা করেন। মামলার আসামি মো. সুমনকে ঘটনার পরদিন মাগুরা থেকে এবং মামলা হওয়ার পরদিন মো. সুবহানকে ফরিদপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল রোববার সকালে ঢাকার কল্যাণপুরে এক বন্ধুর বাসা থেকে মামলার মূল আসামি জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সেন সুমনকে র‌্যাব এবং সন্ধ্যায় মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার ওয়াপদা এলাকা থেকে নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। নজরুল ডিবি পুলিশের কাছে আছেন। আর সেন সুমনসহ আজ গ্রেপ্তার হওয়া দুজনকে নিয়ে ডিবি পুলিশ ঢাকা থেকে মাগুরার উদ্দেশে রওনা হয়েছে।
হাসপাতালে তথ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব
গুলিবিদ্ধ শিশুটির বাবা বাচ্চু ভুঁইয়া আজ বিকেলে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে জানান, বেলা ১২টার দিকে সাইফুজ্জামান শিখর শিশুটিকে দেখতে আসেন। তিনি চলে যাওয়ার পর বেলা একটার দিকে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু হাসপাতালে আসেন। মন্ত্রী তাৎক্ষণিক মা ও শিশুর চিকিৎসার জন্য ২০ হাজার টাকা দেন। মন্ত্রী এ সময় এ ঘটনায় জড়িততের ছাড় দেওয়া হবে না বলে আশ্বস্ত করেন। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও বিষয়টির প্রতি নজর রাখছেন।
শিশুটির অবস্থা ভালোর দিকে
এদিকে গুলিবিদ্ধ শিশুটির অবস্থা একটু ভালোর দিকে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা। হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কানিজ হাসিনা প্রথম আলোকে বলেন, ‘শিশুটির অবস্থা একটু ভালো দিকে। তার খাওয়াদাওয়ার পরিমাণ একটু একটু করে বাড়ছে। কিন্তু ওর ওজন কম, সময়ের অনেক আগে জন্মেছে। তাই এখনই ঝুঁকিমুক্ত বলছি না। যেদিন ওকে মায়ের কোলে দিতে পারর, সেদিনই নিশ্চিতভাবে বলা যাবে ও ভালো আছে।’
চার আসামিকে কাল রিমান্ডে চাইবে পুলিশ
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাগুরা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমাউল হক প্রথম আলোকে বলেন, ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার মোট ১৬ জন আসামির মধ্যে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। ওসি জানান, সেন সুমনসহ ঢাকায় গ্রেপ্তার হওয়া তিন আসামিকে আগামীকাল মঙ্গলবার আদালতে হাজির করে রিমান্ডে চাওয়া হবে। আদালতে নেওয়ার আগ পর্যন্ত ডিবি অফিসে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
এদিকে পুলিশ, মামলার বাদী ও বিভিন্ন সূত্র ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই পক্ষই ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতা-কর্মী বলে নিশ্চিত করেছে। প্রধান আসামি সেন সুমন জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি। সেন সুমন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ রেজাউল ইসলামের ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত। দুই পক্ষই প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব সাইফুজ্জামান শিখরের অনুসারী। সাইফুজ্জামান শিখরের দুই ভাই দুই পক্ষকে মদদ দেন বলে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অনেকে প্রথম আলোর কাছে দাবি করেছেন।
জানতে চাইলে সাইফুজ্জামান শিখর অভিযুক্তরা কেউ তাঁর অনুসারী নয় বলে দাবি করেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘তাঁরা আবু নাসির বাবলুর (জেলা আ. লীগের সহসভাপতি) লোক। আমার অনুসারী কেন তাঁরা কোনো দিন আমার সামনে এসে দাঁড়াতে পর্যন্ত পারেনি। অযথা আমার নাম জড়ানো হচ্ছে।’
অভিযোগ সম্পর্কে জেলা আ. লীগের সহসভাপতি আবু নাসির বাবলু প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, ‘তাঁরা এক সময় আমার সঙ্গে রাজনীতি করত। সে অনেক দিন আগের কথা। তবে সেই সময় তাঁরা খুনোখুনি মারামারিতে ছিল না।’ সাইফুজ্জামান শিখরকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘একটি পরিবার এবং ওই পরিবারের একজন সরকারি কর্মকর্তা তাঁদের সন্ত্রাসের পথে এনেছে। দুই পক্ষকে সে এবং তাঁর ভাইয়েরা মদদ দেয়।’
গত ২৩ জুলাই মাগুরা শহরের দোয়ারপাড় কারিগরপাড়ায় ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হন অন্তঃসত্ত্বা নাজমা বেগম। গুলি মায়ের পেটের ভেতরে থাকা শিশুর শরীরও এফোঁড়-ওফোঁড় করে দেয়। মাগুরায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুটির জন্ম হয়। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। এরপর পাঠানো হয় তার মাকে। ওই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ ও বোমায় আহত নাজমার চাচাশ্বশুর মমিন ভূঁইয়া পরদিন মারা যান।

No comments:

Post a Comment