Wednesday, August 19, 2015

‘পরিকল্পিত নগরের জন্য মহাপরিকল্পনা প্রয়োজন’ -চট্টগ্রামে মতবিনিময় সভায় মেয়র

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, পরিকল্পিত নগর গড়ে তুলতে হলে অবশ্যই মহাপরিকল্পনা প্রয়োজন। এর কোনো বিকল্প নেই।
গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় মেয়র এ কথা বলেন। ড্রেনেজ ও পয়োনিষ্কাশন বিষয়ে মহাপরিকল্পনা, উড়াল সড়ক নির্মাণ ও যানজট নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশনের সচিব রশিদ আহমদ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া শিরিন, মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী মাহমুদুল হোসেন খান।
মতবিনিময় সভায় মেয়র আ জ ম নাছির বলেন, চট্টগ্রামের জন্য ১৯৯৫ সালে প্রণয়ন করা মহাপরিকল্পনার মেয়াদ এ বছর শেষ হবে। এ মহাপরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আগামী মহাপরিকল্পনা হালনাগাদ করতে হবে। এই মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে অর্থ, পরিকল্পনা এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে যুক্ত করা প্রয়োজন। এতে মহাপরিকল্পনায় থাকা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন অনেক সহজ হবে। নগর পুলিশ ও অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করে সড়কের ওপর গাড়ি পার্কিং বন্ধ এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান মেয়র আ জ ম নাছির। তিনি বলেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আসবে।
মতবিনিময় সভায় নগর গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা ও যানজট নিরসনে প্রস্তাব উপস্থাপন করেন প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়া।
বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নগরীর অধিকাংশ এলাকা কোমর পানিতে তলিয়ে যায়। দুর্যোগ আর দুর্ভোগের নগরীতে পরিণত হয় চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলোর বিভিন্ন স্থানে ধস নামে। জোয়ার আর বৃষ্টির পানি এক হয়ে যাওয়ার কারণে অনেক স্থানে পানির উচ্চতা ৫ থেকে ৬ ফুট পর্যন্ত বেড়ে যায়। সাগরের জোয়ারের পানি খাল দিয়ে ঢুকে প্লাবিত করে শহরের বড় একটি অংশ। পানির কারণে চট্টগ্রাম শহরের বিশাল এলাকাজুড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অতি বর্ষণের ফলে নগরীর কোথাও বুক আবার কোথাও কোমর সমান পানিতে ডুবে থাকে এসব এলাকা। বিশেষ করে নগরীর বাকলিয়া, আগ্রাবাদ, পাহাড়তলী, কালামিয়া বাজার, মুরাদপুর, শুলকবহর, রামপুরা, কাতালগঞ্জ, চকবাজার, বহদ্দারহাট, নাসিরাবাদ, জালালাবাদ, কাপাসগোলা, ডিসি রোড, পাহাড়তলী, বন্দরসহ প্রায় পুরো নগরীই পানিতে ভাসে। এসব এলাকার অধিকাংশ বাসাবাড়িতে ঢুকে পড়ে বৃষ্টির পানি। কোমর সমান পানি ঢুকে পড়ে নগরীর বিভিন্ন মার্কেটেও। নগরীর খাতুনগঞ্জ, টেরিবাজার, আছাদগঞ্জ, চাক্তাই, রেয়াজুদ্দিন বাজার, ষোলশহর শপিং কমপ্লেঙ্সহ বেশকিছু মার্কেটের দোকান ও গুদাম সয়লাব হয়ে যায় বৃষ্টির পানিতে। টানা বর্ষণের কারণে রক্ষা করা যায় না মালামাল। এ অবস্থায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় ব্যবসায়ীদের। দেশের অন্যতম প্রধান ব্যবসা কেন্দ্র চাক্তাই ও খাতুনগঞ্জের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। পানিতে ভিজে যায় এসব ব্যবসা কেন্দ্রের অনেক দোকান ও গুদামের মালামাল। নগরীর অনেক নিচু এলাকার সড়কের পাশে অবস্থিত দোকানপাটেও পানি ঢুকে বিপুল পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়। বৃষ্টির পানির পাশাপাশি চাক্তাই খাল থেকে উপচে পড়া জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ে পাইকারি ব্যবসা কেন্দ্র চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে।

No comments:

Post a Comment