![]() |
| শিশু রাকিব (১২) |
অভাবের
তাড়নায় স্কুলের পড়া ছেড়ে গ্যারেজে কাজ নিয়েছিল শিশু রাকিব (১২)। কিন্তু
কাজ করেও ঠিকমতো পয়সা পেত না। পান থেকে চুন খসলেই গালাগালি-মারধর। কোমল মন,
ছোট্ট দেহে তা সইছিল না। পরে আরেকটি গ্যারেজে কাজ নেয় সে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে
আগের গ্যারেজ মালিক ও তাঁর সহযোগী রাকিবকে ধরে মোটরসাইকেলের চাকায় হাওয়া
দেওয়ার কমপ্রেসর মেশিনের নল ঢুকিয়ে দেয় তার মলদ্বার দিয়ে। এরপর চালু করে
দেওয়া হয় কমপ্রেসর। নল দিয়ে পেটে বাতাস ঢুকে শিশুটির দেহ ফুলে প্রায় বড়দের
মতো হয়ে যায়। ছিঁড়ে যায় নাড়িভুঁড়ি, ফেটে যায় ফুসফুসও। চুরির অপবাদ দিয়ে
সিলেটে শিশু সামিউলকে পিটিয়ে হত্যার রেশ এখনো কাটেনি। গত ৮ জুলাই ওই ঘটনার
এক মাসও পেরোয়নি। দেশ-বিদেশে নিন্দার ঝড়ও থামেনি। এরই মধ্যে খুলনায় গত
সোমবার রাতে রাকিবকে ওই বীভৎস কায়দায় হত্যা করা হলো। এ ঘটনায় গ্যারেজ মালিক
ও তাঁর সহযোগীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর আগে তাঁদের মধ্যে
দুজনকে ধরে পিটুনি দেয় জনতা।
পুলিশ, রাকিবের পরিবার ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার বিকেলে খুলনার টুটপাড়া কবরখানার উত্তর-পূর্ব কোণে শরিফ মোটরস নামের এক মোটরসাইকেলের গ্যারেজে নির্যাতনের ওই ঘটনা ঘটে। চাকায় হাওয়া দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত কমপ্রেসর মেশিনের মাধ্যমে রাকিবের মলদ্বার দিয়ে তার শরীরে বাতাস ঢোকালে সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে রাত সাড়ে নয়টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পথে রাত ১০টার দিকে সে মারা যায়।
গতকাল মঙ্গলবার খুলনার টুটপাড়া সেন্ট্রাল রোডে রাকিবদের ভাড়া বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বুক চাপড়ে আহাজারি করছেন রাকিবের মা লাকি বেগম। পাশেই ছিল রাকিবের চশমা পরা সুন্দর একটি ছবি ও একটি রঙের কৌটা। সেগুলোর দিকে তাকিয়ে কখনো নির্বাক হয়ে চোখের পানি ফেলছিলেন, কখনো বা মূর্ছা যাচ্ছিলেন তিনি। কখনো চিৎকার করে বলছিলেন, ‘বাবারে, তোকে ওরা বাঁচতি দেল না। হাসপাতালে রাকিব আমারে কইছিল, মা, আমারে বাঁচাও, আমি পারলাম না। ও বলে গেছে, শরিফ মামারে (নির্যাতনকারীদের একজন) অনেক কইছি, আমারে আর গ্যাস দিয়ো না, আমি মইরে যাচ্ছি।’
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রাকিবের বাবা নুরুল আলম একসময় ট্রাক চালাতেন। এখন দিনমজুর। মা অন্যের বাসায় কাজ করেন। তাঁদের গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরা সদরের রসুলপুর গ্রামে। বছর তিনেক ধরে তাঁরা টুটপাড়া সেন্ট্রাল রোডের একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন। দোচালা টিন ও বাঁশের বেড়ার বস্তিঘরে রাকিব ও ছোট বোন রিনি (৮) থাকত মায়ের সঙ্গে। বাবা থাকতেন সাতক্ষীরায়।
খুলনায় নির্যাতনে শিশুর মৃত্যু, বিক্ষুব্ধ জনতার পিটুনি, ভাঙচুর–সড়ক অবরোধ
রাকিবের বাবা নুরুল আলম বলেন, ‘শরিফের (৩০) গ্যারেজে দুই বছর ধরে মোটরসাইকেলে হাওয়া দেওয়ার কাজ করত রাকিব। প্রতিদিন কাজ বাবদ ৫০ টাকা দেওয়ার কথা বলে কাজে ঢোকালেও শরিফ ঠিকমতো টাকা দিতেন না এবং প্রায়ই মারধর করতেন। তাই তিন মাস আগে নগরের পিটিআই মোড়ের নূর আলম মোটরস নামের গ্যারেজে কাজ নেয় রাকিব। সোমবার নূর আলমের গ্যারেজ থেকে কবরখানার মোড়ে রং আনতে যায় সে। আসার সময় রাকিবকে ডেকে শরিফ তাঁর দোকানে নিয়ে কাজ ছেড়ে দেওয়ার জন্য গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে কর্মচারী মিন্টু খান রাকিবকে জাপটে মেঝেতে শুইয়ে ফেলেন এবং প্যান্ট খুলে কমপ্রেসর মেশিনের পাইপ রাকিবের মলদ্বারে চেপে ধরেন। আর শরিফ সিলিন্ডারের হাওয়া ছেড়ে দেন। এতে রাকিবের পেট ফুলে যায় ও সে চিৎকার করতে থাকে।’
নুরুল বলেন, রাকিবের চিৎকারে লোকজন গ্যারেজে গিয়ে রাকিবকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকেরা তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখান থেকে ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে তোলার পরই সে মারা যায়।
খুলনা সদর থানার ওসি সুকুমার বিশ্বাস চিকিৎসকদের বরাতে জানান, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
গতকাল বাদ আসর টুটপাড়া বড় মসজিদে জানাজা শেষে টুটপাড়া কবরস্থানে রাকিবকে দাফন করা হয়।
বিক্ষুব্ধ জনতার ক্ষোভ, মামলা: রাকিবের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে গতকাল সকালে বিক্ষুব্ধ জনতা শরিফ মোটরসের সামনে ভাঙচুর চালান। তাঁরা গ্যারেজটির ওপরের তলার একটি বাড়ির জানালার কাচও ভেঙে ফেলেন। পরে টুটপাড়ার সড়ক অবরোধ করেন।
শরিফ, মিন্টু ও শরিফের মায়ের নামে গতকাল মামলা করেছেন রাকিবের বাবা। মামলার কার্যক্রম তদারক করতে তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ।
অভিযুক্ত তিনজন আটক: এলাকাবাসী জানান, রাকিবের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে নির্যাতনকারীরা পালানোর চেষ্টা করলে সোমবার রাতেই লোকজন শরিফ ও মিন্টুকে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন। পরে শরিফের মা বিউটি বেগমকে আটক করে পুলিশ। গতকাল মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরিবারের অভিযোগ, বিউটি মাঝেমধ্যেই রাকিবকে তাঁদের দোকানে আবার কাজ করতে বলতেন। না হলে অন্য কোথাও কাজ জুটবে না বলে শাসাতেন।
আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। পরে তাঁদের জেলহাজতে পাঠানো হয়। গণপিটুনিতে আহত শরিফ ও মিন্টুকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর রাকিবের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারকে সান্ত্বনা ও এর সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন খুলনার পুলিশ কমিশনার নিবাস চন্দ্র মাঝি, জেলা প্রশাসক মোস্তফা কামাল, সিটি করপোরেশনের মেয়র মনিরুজ্জামান ও স্থানীয় সাংসদ মিজানুর রহমান।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এই হত্যার বিচারকাজে রাকিবের পরিবারকে বিনা মূল্যে আইনগত সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন এলিনা খানও রাকিব হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন।
নিন্দা: রাকিব হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে চাইল্ড রাইটস অ্যাডভোকেসি কোয়ালিশন ইন বাংলাদেশ নামের একটি মোর্চা। গতকাল সংগঠনের পক্ষে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এ উদ্বেগ জানানো হয়। ১০টি মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংস্থা নিয়ে এ মোর্চা গঠিত।
বিবৃতিতে বলা হয়, অধিকাংশ সময়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে পার পেয়ে যাওয়া এবং যেসব ঘটনা বিচারের আওতায় আসে, সেগুলোরও দীর্ঘসূত্রতার কারণে এসব ঘটনা কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। প্রতিটি শিশু যেন নিরাপদে তার শৈশব কাটাতে পারে এবং তেমন পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রশাসন ও সর্বস্তরের জনসাধারণের সচেতন আচরণ এখন সময়ের দাবি বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
পুলিশ, রাকিবের পরিবার ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার বিকেলে খুলনার টুটপাড়া কবরখানার উত্তর-পূর্ব কোণে শরিফ মোটরস নামের এক মোটরসাইকেলের গ্যারেজে নির্যাতনের ওই ঘটনা ঘটে। চাকায় হাওয়া দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত কমপ্রেসর মেশিনের মাধ্যমে রাকিবের মলদ্বার দিয়ে তার শরীরে বাতাস ঢোকালে সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে রাত সাড়ে নয়টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পথে রাত ১০টার দিকে সে মারা যায়।
গতকাল মঙ্গলবার খুলনার টুটপাড়া সেন্ট্রাল রোডে রাকিবদের ভাড়া বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বুক চাপড়ে আহাজারি করছেন রাকিবের মা লাকি বেগম। পাশেই ছিল রাকিবের চশমা পরা সুন্দর একটি ছবি ও একটি রঙের কৌটা। সেগুলোর দিকে তাকিয়ে কখনো নির্বাক হয়ে চোখের পানি ফেলছিলেন, কখনো বা মূর্ছা যাচ্ছিলেন তিনি। কখনো চিৎকার করে বলছিলেন, ‘বাবারে, তোকে ওরা বাঁচতি দেল না। হাসপাতালে রাকিব আমারে কইছিল, মা, আমারে বাঁচাও, আমি পারলাম না। ও বলে গেছে, শরিফ মামারে (নির্যাতনকারীদের একজন) অনেক কইছি, আমারে আর গ্যাস দিয়ো না, আমি মইরে যাচ্ছি।’
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রাকিবের বাবা নুরুল আলম একসময় ট্রাক চালাতেন। এখন দিনমজুর। মা অন্যের বাসায় কাজ করেন। তাঁদের গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরা সদরের রসুলপুর গ্রামে। বছর তিনেক ধরে তাঁরা টুটপাড়া সেন্ট্রাল রোডের একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন। দোচালা টিন ও বাঁশের বেড়ার বস্তিঘরে রাকিব ও ছোট বোন রিনি (৮) থাকত মায়ের সঙ্গে। বাবা থাকতেন সাতক্ষীরায়।
খুলনায় নির্যাতনে শিশুর মৃত্যু, বিক্ষুব্ধ জনতার পিটুনি, ভাঙচুর–সড়ক অবরোধ
রাকিবের বাবা নুরুল আলম বলেন, ‘শরিফের (৩০) গ্যারেজে দুই বছর ধরে মোটরসাইকেলে হাওয়া দেওয়ার কাজ করত রাকিব। প্রতিদিন কাজ বাবদ ৫০ টাকা দেওয়ার কথা বলে কাজে ঢোকালেও শরিফ ঠিকমতো টাকা দিতেন না এবং প্রায়ই মারধর করতেন। তাই তিন মাস আগে নগরের পিটিআই মোড়ের নূর আলম মোটরস নামের গ্যারেজে কাজ নেয় রাকিব। সোমবার নূর আলমের গ্যারেজ থেকে কবরখানার মোড়ে রং আনতে যায় সে। আসার সময় রাকিবকে ডেকে শরিফ তাঁর দোকানে নিয়ে কাজ ছেড়ে দেওয়ার জন্য গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে কর্মচারী মিন্টু খান রাকিবকে জাপটে মেঝেতে শুইয়ে ফেলেন এবং প্যান্ট খুলে কমপ্রেসর মেশিনের পাইপ রাকিবের মলদ্বারে চেপে ধরেন। আর শরিফ সিলিন্ডারের হাওয়া ছেড়ে দেন। এতে রাকিবের পেট ফুলে যায় ও সে চিৎকার করতে থাকে।’
নুরুল বলেন, রাকিবের চিৎকারে লোকজন গ্যারেজে গিয়ে রাকিবকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকেরা তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখান থেকে ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে তোলার পরই সে মারা যায়।
খুলনা সদর থানার ওসি সুকুমার বিশ্বাস চিকিৎসকদের বরাতে জানান, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
গতকাল বাদ আসর টুটপাড়া বড় মসজিদে জানাজা শেষে টুটপাড়া কবরস্থানে রাকিবকে দাফন করা হয়।
বিক্ষুব্ধ জনতার ক্ষোভ, মামলা: রাকিবের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে গতকাল সকালে বিক্ষুব্ধ জনতা শরিফ মোটরসের সামনে ভাঙচুর চালান। তাঁরা গ্যারেজটির ওপরের তলার একটি বাড়ির জানালার কাচও ভেঙে ফেলেন। পরে টুটপাড়ার সড়ক অবরোধ করেন।
শরিফ, মিন্টু ও শরিফের মায়ের নামে গতকাল মামলা করেছেন রাকিবের বাবা। মামলার কার্যক্রম তদারক করতে তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ।
অভিযুক্ত তিনজন আটক: এলাকাবাসী জানান, রাকিবের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে নির্যাতনকারীরা পালানোর চেষ্টা করলে সোমবার রাতেই লোকজন শরিফ ও মিন্টুকে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন। পরে শরিফের মা বিউটি বেগমকে আটক করে পুলিশ। গতকাল মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরিবারের অভিযোগ, বিউটি মাঝেমধ্যেই রাকিবকে তাঁদের দোকানে আবার কাজ করতে বলতেন। না হলে অন্য কোথাও কাজ জুটবে না বলে শাসাতেন।
আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। পরে তাঁদের জেলহাজতে পাঠানো হয়। গণপিটুনিতে আহত শরিফ ও মিন্টুকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর রাকিবের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারকে সান্ত্বনা ও এর সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন খুলনার পুলিশ কমিশনার নিবাস চন্দ্র মাঝি, জেলা প্রশাসক মোস্তফা কামাল, সিটি করপোরেশনের মেয়র মনিরুজ্জামান ও স্থানীয় সাংসদ মিজানুর রহমান।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এই হত্যার বিচারকাজে রাকিবের পরিবারকে বিনা মূল্যে আইনগত সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন এলিনা খানও রাকিব হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন।
নিন্দা: রাকিব হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে চাইল্ড রাইটস অ্যাডভোকেসি কোয়ালিশন ইন বাংলাদেশ নামের একটি মোর্চা। গতকাল সংগঠনের পক্ষে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এ উদ্বেগ জানানো হয়। ১০টি মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংস্থা নিয়ে এ মোর্চা গঠিত।
বিবৃতিতে বলা হয়, অধিকাংশ সময়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে পার পেয়ে যাওয়া এবং যেসব ঘটনা বিচারের আওতায় আসে, সেগুলোরও দীর্ঘসূত্রতার কারণে এসব ঘটনা কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। প্রতিটি শিশু যেন নিরাপদে তার শৈশব কাটাতে পারে এবং তেমন পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রশাসন ও সর্বস্তরের জনসাধারণের সচেতন আচরণ এখন সময়ের দাবি বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।


No comments:
Post a Comment