Tuesday, August 4, 2015

তৃতীয় দিনেও অবরোধ, দুর্ভোগ

বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী বুড়িগঙ্গা প্রথম সেতু টোলমুক্ত করার দাবিতে যানবাহনের চালক-শ্রমিক-মালিকেরা গতকাল সোমবার তৃতীয় দিনের মতো সেতু অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন। এতে রাজধানী থেকে খুলনা, বরিশাল ও মুন্সিগঞ্জ রুটে যান চলাচল বন্ধ থাকায় হাজারো যাত্রীর দুর্ভোগ ছিল।
কর্মসূচি চলাকালে অবরোধকারীরা দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল বের করে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের আবদুল্লাহপুর ও তেঘরিয়া সংযোগ সড়কের ঝিলমিল প্রকল্প এলাকায় যানবাহন থামিয়ে ব্যারিকেড দেন। একপর্যায়ে পুলিশ এসে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
গত শুক্রবার রাত ১২টার পর থেকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) ওই সেতুতে নতুন হারে টোল আদায় শুরু করে। এর প্রতিবাদে সেতুতে চলাচলকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ট্রাক, বাসসহ অন্য যানবাহনের চালক-শ্রমিক ও মালিকেরা শনিবার সকাল আটটা থেকে অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেন।
অবরোধ চলাকালে ঢাকা ও দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে যাতায়াতকারী হাজারো নারী-পুরুষ গতকালও চরম দুর্ভোগের শিকার হন। অনেকে তাঁদের মালামাল ও পরিবার-পরিজন নিয়ে হেঁটে সেতু পার হন।
ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে আসা গ্রেট বিক্রমপুর পরিবহনের যাত্রী সোলায়মান মিয়া জানান, মাওয়া থেকে যাত্রাবাড়ী যাওয়ার উদ্দেশে আসার পথে আবদুল্লাহপুরে শ্রমিকেরা বাস থেকে তাঁদের নামিয়ে দেন। কয়েক মাইল হেঁটে তাঁদের সেতু পার হতে হয়।
নুরুন্নাহার বেগম নামের আরেক যাত্রী বলেন, মিরপুর যেতে সপরিবারে কেরানীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুর থেকে বাসে ওঠেন। তেঘরিয়া সংযোগ সড়কের কাছে এলে যানবাহনের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে বাস থামিয়ে তাঁদের রাস্তায় নামিয়ে দেন।
আন্দোলনকারীরা বলছেন, সেতু টোলমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন ও অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। ঢাকা-৪ আসনের সাংসদ ও জাতীয় পার্টির নেতা সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা বলেন, সেতু টোলমুক্ত করা নিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং নৌমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা চলছে। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সমস্যাটির সমাধান করার আশ্বাস দেন তিনি।
কোনো গাড়ি নেই। কাঁধে বোঝা নিয়ে হেঁটেই গন্তব্যের উদ্দেশে ছুটছেন দুই ব্যক্তি। বুড়িগঙ্গা প্রথম চীন-মৈত্রী সেতু টোলমুক্ত করার দাবিতে গতকাল তৃতীয় দিনের মতো অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন যানবাহনের চালক, শ্রমিক ও মালিকেরা। এতে বহু মানুষকে দুর্ভোগে পড়তে হয় l ছবি: প্রথম আলো

No comments:

Post a Comment