Thursday, August 20, 2015

চট্টগ্রাম বন্দর অ্যাক্সেস সড়ক: ভোগান্তির ১২ কিলোমিটার

সড়কজুড়ে বড় বড় ও গভীর গর্ত। সেই গর্তে জমে আছে পানি। গর্ত এড়িয়ে কোনোমতে গাড়ি চালাচ্ছেন চালকেরা। এই করুণ চিত্র চট্টগ্রাম বন্দর অ্যাক্সেস সড়কের।
চট্টগ্রাম নগর এড়িয়ে বন্দরে পণ্য আনা-নেওয়ার জন্য ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে সড়কটি চালু করা হয়। সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট থেকে চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের প্রায় পুরোটা জুড়ে বড় বড় গর্ত। কোথাও কোথাও গর্ত এত গভীর যে চাকা পড়লে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। চালকেরা বলেন, সড়কের করুণ অবস্থার কারণে তাঁদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এ ছাড়া সড়কে গাড়ি নষ্ট হলে অনেক সময় ডাকাতের কবলে পড়তে হয় তাঁদের।
গতকাল বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে তিনটি পণ্যবাহী গাড়ির চাকা ফুটো হয়ে পড়ে আছে। এ ছাড়া টোলপ্লাজা এলাকায় রপ্তানি পণ্যবাহী ট্রাক উল্টে পড়ে রয়েছে।
উল্টে পড়ে থাকা ট্রাকের চালক আকরাম ব্যাপারী বলেন, নরসিংদী থেকে পাটজাত পণ্য নিয়ে বন্দরে যাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি উল্টে যায়।
বিকল একটি কাভার্ড ভ্যানের চালক নুরুজ্জামান বলেন, মঙ্গলবার রাত নয়টার দিকে গাড়িটি বিকল হয়ে যায়। এর দেড় ঘণ্টা পর মুখোশধারী ছয় যুবক অস্ত্রের মুখে টাকা, মুঠোফোন, গাড়ির ব্যাটারি ও দুটি চাকা খুলে নিয়ে যায়।
লং ভেহিকেলের চালক মো. সুফিয়ান বলেন, সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় গাড়ির নিয়ন্ত্রণ রাখতে বেগ পেতে হয়। গাড়ি কাত হয়ে যেতে থাকলে ভয়ে বুক ধড়ফড় করে।
গতকাল দেখা যায়, সংস্কারের জন্য সড়কের প্রায় ৪০০ মিটার অংশের বিটুমিনের স্তর তুলে ফেলা হয়েছে। সওজ সূত্র জানায়, সড়কটি সংস্কারের কাজ পেয়েছে চট্টগ্রামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
সওজের চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল আলম বলেন, বৃষ্টিতে সড়কের এক স্তর ভেতরে পানি ঢুকলে আরও বেশি ক্ষতি হবে। যে কারণে বর্ষায় সড়কটির সংস্কারকাজ করা যাচ্ছে না। তবু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যতটুকু সম্ভব কাজ করছে। বৃষ্টি বন্ধ হয়ে গেলে এক মাসের মধ্যে সড়কটি সংস্কার করা হবে। তিনি জানান, এত দিন সড়কটির বড় কোনো সংস্কারকাজ করতে হয়নি। তবে পানি জমে সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবার বড় ধরনের সংস্কারকাজ হচ্ছে।
সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, পোর্ট অ্যাক্সেস সড়ক সর্বোচ্চ ২০ থেকে ২২ টন ওজনবাহী গাড়ি চলাচলের উপযুক্ত। তবে অনেক ট্রেইলরে ৩০ থেকে ৩৫ টন পণ্য পরিবহন করা হয়। এতে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সড়ক দিয়ে প্রতিদিন পণ্যবাহী দুই থেকে আড়াই হাজার গাড়ি চলাচল করে।
আন্তজেলা মালামাল পরিবহন সংস্থা ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী জাফর আহমেদ বলেন, বন্দর অ্যাক্সেস সড়কের বেশির ভাগ অংশই ভাঙাচোরা। এই রাস্তা একবার ব্যবহারের পর গাড়ি গ্যারেজে নিতে হয়। এতে গাড়ি পরিচালনায় ব্যয় বাড়ছে।
সীতাকু‌ণ্ডের ফৌজদারহাট থেকে চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ চট্টগ্রাম বন্দর অ্যাক্সেস সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত। এ কারণে মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে গাড়ি। গতকাল সড়কের টোলপ্লাজা এলাকা থেকে তোলা ছবি l প্রথম আলো

No comments:

Post a Comment