Tuesday, August 25, 2015

নূর হোসেনকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে?

নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে নূর হোসেনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার নূর হোসেনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ছিল। দুপুর ১২টার দিকে কলকাতার দমদমের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে নূর হোসেনকে বারাসাতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রবীর কুমার মিশ্রের আদালতে আনা হয়। তবে এই মামলার অপর দুই আসামির মধ্যে জামিনে থাকা তাঁর সঙ্গী খান সুমন অনুপস্থিত ছিলেন এবং অপর সঙ্গী ওয়াহেদুজ্জামান সেলিম আদালতে হাজিরা দেন। কিন্তু আগেই সরকারের পক্ষ থেকে মামলা প্রত্যাহারের আবেদন আদালতে জমা পড়ে।
এদিকে, শিশির নন্দীসহ চার আইনজীবী আদালতে একটি আবেদন করেন। বিচারক নূর হোসেনের পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শোনার পর এই মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য এবং নূর হোসেনের আবেদনসহ মামলা প্রত্যাহারের আবেদনসমূহ বিবেচনার জন্য বারাসাতের মুখ্য বিচার বিভাগীয় হাকিমের আদালতে শুনানির জন্য পাঠিয়ে দেন। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন বিচারক।
এদিকে আজ বারাসাতের আদালতে প্রবেশের সময় নূর হোসেন প্রথম আলোর প্রশ্নের জবাবে বলেন, তিনি বাংলাদেশে ফিরে যেতে চান।
আজ বারাসাত আদালতের সরকারি কৌঁসুলি শান্তময় বোস প্রথম আলোকে জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এ মামলাটি প্রত্যাহার করে নূর হোসেনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। ওই নির্দেশনামা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে এসেছে। এরপরই এই মামলা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়।
একইভাবে নূর হোসেনকে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে ভারত সরকারের কাছে আবেদন করা হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই এই মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ১৪ মাস আগে নূর হোসেন কলকাতায় গ্রেপ্তার হন। এই দীর্ঘ সময়ে নূর হোসেনের পক্ষে কোনো জামিনের আবেদন জানানো হয়নি। তবে তাঁর দুই সঙ্গী বারাসাতের মুখ্য বিচার বিভাগীয় বিচারকের আদালত থেকে জামিন না পেলে জেলা দায়রা জজ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান। ১৮ আগস্ট নূর হোসেন ও তার দুই সঙ্গীর বিরুদ্ধে পুলিশ অভিযোগপত্র পেশ করলেও এত দিনে বিচার কাজ শুরু হতে পারেনি। প্রতিটি তারিখে কোনো না কোনো আসামি অনুপস্থিত থাকার কারণে অভিযোগ গঠন করতে পারেননি বিচারক। গত ১৪ জুন রাতে নূর হোসেনের সঙ্গে তাঁর দুই সঙ্গী খান সুমন ও ওয়াহেদুজ্জামান সেলিমকে গ্রেপ্তার করে বাগুইহাটি থানার পুলিশের সহযোগিতায় বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের বিশেষ পুলিশ বাহিনী।

No comments:

Post a Comment