Sunday, August 23, 2015

টেকনাফে ক্ষতবিক্ষত সড়কে হাঁটাও দায়

ভারী বর্ষণে ভেঙে গেছে সড়ক, পিচঢালাই উঠে গিয়ে বেরিয়ে
এসেছে ইটের খোয়া। টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ–উত্তরপাড়া
সড়কটি যানবাহন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে :প্রথম আলো
টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপের উত্তরপাড়া সড়ক। প্রতিদিন শত শত মানুষের চলাচল এই সড়কের দিয়ে। দুই দফা বন্যা আর গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সড়কে এখন হেঁটে চলাও দায় হয়ে পড়েছে। কিছু স্থানে পিচ উঠে গিয়ে ইটের খোয়াও নেই। ছোট-বড় গর্তে জমেছে বৃষ্টির পানি। প্রায় সময় গর্তে আটকে যাচ্ছে রিকশা ও অটোরিকশা। শুধু উত্তরপাড়া সড়ক নয়, টেকনাফ উপজেলার অভ্যন্তরীণ আরও ১৬টি সড়কের এখন করুণ হাল।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌরসভা, কলেজপাড়া, জালিয়াপাড়া, পল্লানপাড়া, লামারবাজার, টিঅ্যান্ডটি সড়ক, নতুন পল্লানপাড়া, মহেশখালীয়াপাড়া, লেঙ্গুরবিল, মিঠাপানিরছড়া, দরগারছড়া, হাবিরছড়া, গোদারবিল, মিস্ত্রিপাড়া, বাজারপাড়া ও ডাঙ্গরপাড়া সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খানাখন্দে ভরা সড়কে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় লোকজন।
কথা হয় টেকনাফ কলেজের উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থী সৈয়দুর রহমানের সঙ্গে। সে প্রতিদিন কলেজে আসা-যাওয়া করে কলেজপাড়া সড়ক দিয়ে। সৈয়দুর জানায়, সড়কটি সংস্কার করা হয়েছে মাত্র দেড় বছর। এর মধ্যেই গর্তে ভরে গেছে। গর্তে পড়ে প্রায় সময় রিকশা উল্টে যাচ্ছে।
নতুন পল্লানপাড়া এলাকার অটোরিকশাচালক মোহাম্মদ আলম বলেন, বৃষ্টি হলে সড়কে পানি জমে যায়। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় ওই পানি জমে থাকা স্থানে গাড়ির চাকা পড়লে সড়কের গর্তের সৃষ্টি হয়। এতে গাড়ি চালাতে কষ্ট হয়।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্র জানায়, দুই দফা বন্যা ও গত সপ্তাহের কয়েক দিনের বৃষ্টিতে কমপক্ষে ১০০ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টেকনাফ পৌরসভার প্যানেল মেয়র-২ আব্দুল্লাহ মনির বলেন, এই বৃষ্টিতে অনেক সড়কে ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। আপাতত ইট-বালু দিয়ে গর্তগুলো ভরাট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বৃষ্টি বন্ধ হলে সড়কের সংস্কারকাজ শুরু হবে।
সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হামিদুর রহমান বলেন, টানা বৃষ্টিতে তার ইউনিয়নের প্রতিটি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউনিয়নের তহবিলে টাকা নেই। তাই সরকারি বরাদ্দ না পেলে সড়ক মেরামত করা সম্ভব হবে না।
টেকনাফ সদর ইউপির চেয়ারম্যান নুরুল আলম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর একটি তালিকা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগে জমা দেওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে এলজিইডির টেকনাফ উপজেলা প্রকৌশলী আবসার উদ্দিন বলেন, টানা বৃষ্টিতে অধিকাংশ সড়কে খানাখন্দ ও বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হলেও কয়েকটির ওপর দিয়ে যানবাহন নয়, লোকজন হেঁটে যাওয়ার অবস্থাও নেই। উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ সড়কের একটি তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষে কাছে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে সংস্কারকাজ শুরু হবে।

No comments:

Post a Comment