নোয়াখালীর
বিছিন্ন দ্বীপ হাতিয়া উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় কোমেন ও পূর্ণিমার প্রভাবে সৃষ্ট
বৈরী আবহাওয়া ও ভারি বর্ষণে উপজেলার নিঝুমদ্বীপ, নঙ্গলিয়া, নলেরচর,
কেয়ারিংচর, লচিরা, সুখচর, তমরদ্দি, চরঈশ্বর, চরকিং, সোনাদিয়া ও হাতিয়া
পৌরসভাসহ শতাধিক গ্রাম জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। রোববার দুপুরে উপজেলার
সোনাদিয়া ইউনিয়নের একটি স্থানে এক কিলোমিটার নলচিরা ইউনিয়নের তিনটি স্থানে
প্রায় দুই কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ও চরঈশ্বর ইউনিয়নের দুই হাজার একশ’ ফুট
বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় এবং সুখচর তমরদ্দি ইউনিয়নের ভাঙা বেড়ি মেরামত না করা ও
নিঝুমদ্বীপ নঙ্গলিয়া, নলেরচর. কেয়ারিংচরসহ চরাঞ্চলে বেড়িবাঁধ নির্মান না
করার কারণে জোয়ারে রোববার এসব এলাকা দিয়ে পানি ঢুকে শতাধিক নতুন নতুন এলাকা
প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। চরম
দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে এসব এলাকার লক্ষাধিক মানুষ। নলচিরা ইউনিয়নের
চেয়ারম্যান মোঃ হুমায়ুন কবির বাবলু জানান,জোয়ারে নলচিরা ইউনিয়নের তিনটি
স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।
ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাভিক কার্যক্রম। চরঈশ্বর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ
আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, চরঈশ্বর ইউনিয়নের তালুকদারগ্রাম এলাকায় দুই হাজার
একশ’ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় ঐ ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ড সম্পূর্ণ তলিয়ে
গেছে। জোয়ারে এসব এলাকা দিয়ে পানি ঢুকে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
দেখা দিয়েছে চরম জলাবদ্ধতা। সোনাদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আহছান
উল্ল্যাহ বাহার বলেন হৈকবাজার এলাকা দিয়ে বেড়ি বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় প্রায়
শতাধিক মাছের ঘেরসহ ফসলী জমির ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হয়। চৌমুহনী-চরচেঙ্গা ও
ওছখালী সদর প্রধান সড়কটি ভেঙে গেছে। ঘূর্ণিঝড় কোমেন ও পূর্ণিমার প্রভাবে
অব্যাহত ভারি বর্ষণ ও জোয়ারের কারণে সোনাদিয়া ইউনিয়নের মাইজচরা, চরচেঙ্গা,
পুর্বমাইজচরা, সোনাদিয়া, হৈকবাদা এলাকা চরঈশ্বর ইউনিয়নের তালুকদার,
কালুহাজির, পন্ডিত, আফাজিয়া, চরকিং ইউনিয়নের চরবগুলা, শুল্লুকিয়া,
ব্রিজবাজার, হিটকলোনী, নলচিরা ইউনিয়নের ফরাজী, স্টিমারঘাট, অলিবাজার,
তুফানিয়া ও সুখচর ইউনিয়নের চর আমানউল্লা, রামচরন বাজার, কামাল বাজার,
চেয়ারম্যান বাজার, বৌ-বাজার, দাসপাড়া, কাহার, দরগা, বাদশা মিয়াগো, কাদির
সর্দার ও মালিশাগো, হাতিয়া পৌরসভার চরকৈলাশ, উকিলপাড়া, চরলটিয়া, বেজুগালিয়া
ও ছখালীবাজারসহ বেশ কয়েকটি এলাকা এবং নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ছোয়াখালী,
বাতায়ন, মোক্তারিয়া, নামারবাজার, বন্দরটিলা এলাকা, তমরদ্দি ইউনিয়নের
আঠারবেকী, পূর্বক্ষিরোদিয়া, ২নং ক্ষিরোদিয়া, বেজুগালিয়া, জোড়খালী,
কোরালিয়া, মদনখালী এলাকার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি আবস্থায় রয়েছে। এসব
এলাকার শতাধিক গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকার নিম্নাঞ্চল ও বেশ কিছু এলাকা নতুন
করে প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকায় জোয়ারের পানি ওঠায় টিউবওয়েলগুলো অকেজো হয়ে
গেছে। তাই পানিবন্দি নিঝুমদ্বীপ, নঙ্গলিয়া, নলেরচর ও কেয়ারিংচর এলাকায়
নিরাপদ পানির অভাব ও গবাদিপশুসহ গৃহপালিত পশু-পাখির খাবার সঙ্কট দেখা
দিয়েছে। গত কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণ ও মৌসুমী ঝড়ো হাওয়ায় হাতিয়ায় জনজীবন
বিপর্যস্ত। এসব এলাকার কোথাও কোথাও এখরো ৪-৫ ফুট পানির নিচে রয়েছে। ভারি
বর্ষণ ও অস্বাভাবিক জোয়ারে শতাধিক মাছের ঘের প্লাবিত হয়ে সম্পূর্ণ মাছ ভেসে
গেছে। গ্রামের কাঁচা সড়কগুলো দিয়ে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। রোববার
দুপুরে পানিবন্দি এলাকায় সরেজমিনে গিয় দেখা গেছে ভারি বর্ষণ ও জোয়ারের
পানিতে নিম্নাঞ্চলের মানুষগুলো অসহায় অবস্থায় দিনাতিপাত করছে। এসব এলাকায়
নষ্ট হয়েছে কয়েক শত একর বীজতলা, আমন ধানের চারা, আউশ ধান, কাচা তরকারী ও
শাক-সবজিসহ যাবতীয় রবিশস্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে । জোয়ারের পানিতে
প্রতিনিয়ত স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। গ্রামীণ কাঁচা সড়কগুলো
সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসানাত
মো: মাইনুদ্দিন ও তার পক্ষে উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা মো: মামুন জানান,
ঘূর্ণিঝড় কোমেন ও অমাবষ্যার কারণে বৈরী আবহাওয়া প্রচণ্ড দমকা বাতাস, ভারি
বর্ষণের কারণে ও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উচ্চতায় জোয়ার অব্যাহত থাকায়
দ্বীপের নিচু এলাকাগুলোর কিছু অংশ পানির নিচে রয়েছে। সোনাদিয়া, নলচিরা ও
চরঈশ্বর এলাকার কয়েকটি স্থানে বেড়ি বাঁধ ভেঙে জোয়ারে বেশ কয়েকটি এলাকা
তলিয়ে গেছে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment