ফেনী
নদী গিলে খাচ্ছে মিরসরাই উপজেলা বিস্তীর্ণ এলাকা। টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে
ভাঙন আরো তীব্র হয়েছে। ভাঙনের কারণে গৃহহারা হয়েছে শত শত পরিবার। ফেনী
নদীর অব্যাহত ভাঙনের করাল গ্রাসে ইতোমধ্যে মিরসরাই উপজেলার করেরহাট ও ধূম
ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জনপদ চলে গেছে নদীগর্ভে। বিলীন হয়েছে মসজিদ, মন্দির,
হাটবাজারসহ অসংখ্য বাড়িঘর। এই ভাঙন রোধে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দফায় দফায়
ব্লক ও গ্রোইং স্থাপন করা হলে ও সেখানে কোনো প্রকার সংস্কার কার্যক্রম না
থাকায় অনেক স্থানে দেবে গেছে ব্লক। আর সেখানে সৃষ্ট ভাঙনে আবারো হুমকির
মুখে উপজেলার ৪নং ধূম ইউনিয়নের শুক্কুবারইয়ারহাট বাজার, সাইক্লোন সেন্টার,
একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মসজিদ। ভাঙছে করেরহাটের অলিনগর, আমলিঘাট ও দক্ষিণ
এবং পশ্চিম জোয়ার এলাকা। ওই এলাকার বিভিন্ন বাড়িঘর, ফসলি জমি ও রাস্তাঘাটও
ভাঙনের মুখে পতিত বলে জানা যায়। জানা গেছে, গত এক যুগে শত শত বঘতঘরসহ ৬০
একর সম্পত্তি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। মিরসরাই-সোনাগাজী উপজেলার
সীমান্তবর্তী এলাকার ৪নং ধুম ইউনিয়নের উত্তর মোবারক ঘোনা, ধুম মোজার উত্তর
পূর্বাংশ, মোবারক ঘোনার উত্তর পূর্বাংশ, শুক্রবারইয়ার হাট ও ধুমঘাট এলাকায়
প্রতিনিয়ত নদী ভাঙনে মাথা রাখার শেষ ঠিকানাও হারাচ্ছে হাজার হাজার
পরিবার। শুক্রবারইয়ারহাট এলাকার বাসিন্দা আজিজুল হক জানান নদী ভাঙনে ৮
একর জমিসহ আমার বঘতঘর নদীর পানির সাথে তলিয়ে গেছে। পরবর্তীতে রাস্তার পাশে
জায়গা কিনে বসবাস শুরু করি। কিন্তু এমন হাজার হাজার পরিবার আছে যাদের বসত
ভিটা বিলীন হওয়ায় তারা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। রাস্তার দু’ধারে কুড়ে ঘর
তুলে কোনো রকমে চলছে এসব পরিবার। করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান
দেলোয়ার হোসেন জানান, তার এলাকায় নদী ভাঙন রোধে তিনি পাউবোর কাছে ধর্ণা
দিয়ে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিছু এলাকায় ব্লক স্থাপন করতে পারলে ও
সেখানে সংস্কার অবশিষ্ট এলাকায় ব্লক বসানো জরুরি। উপরন্তু এবারের বর্ষায়
আরো অনেক পরিবার গৃহ ও ভূমিহীন হবার অপেক্ষায় রয়েছে। ধূম ইউনিয়ন আওয়ামী
লীগের সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান জানান, এখানে শুক্কুরবারইয়ারহাট ও
সাইক্লোন সেন্টারটি রক্ষা করা খুবই জরুরি। তিনি এই বিষয়ে গৃহায়ণ ও
গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে বিষয়টি জানিয়েছেন। এছাড়া পানি
উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিবেন বলে জানিয়েছেন।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment