Wednesday, August 12, 2015

জীর্ণ পার্ক, কমছে দর্শনার্থী by সুজন ঘোষ

শেওলা আর ময়লায় ঢাকা ফোয়ারা
অনেক জায়গায় পার্কের সীমানাপ্রাচীরের অস্তিত্ব নেই। ভেতরে-বাইরে মাটির স্তূপ। কোথাও কোথাও জমেছে নোংরা পানি। আবর্জনা আর পানি জমে পিচ্ছিল হয়ে উঠেছে হাঁটাপথ। বিবর্ণ হয়ে আছে শোভাবর্ধনকারী ফুল গাছগুলো। এটি চট্টগ্রামের জাতিসংঘ পার্কের চিত্র। দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন-অবহেলায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ দর্শনার্থীদের। চট্টগ্রাম নগরে এমনিতেই বিকেলে ঘুরে বেড়ানোর জন্য পার্কের সংখ্যা কম। এর মধ্যে যে কটি রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে নগরের পাঁচলাইশ এলাকায় অবস্থিত জাতিসংঘ পার্ক। পার্কের বেহাল অবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঘুরতে আসা লোকজন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন পার্কটি পরিচালনা করে।
বসার আসনে ​শুকানো হচ্ছে কাপড়
সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, নগরের পাঁচলাইশ এলাকায় প্রায় এক একর জায়গার ওপর পার্কটি অবস্থিত। পার্কের একাংশে সুইমিংপুল ও ব্যায়ামাগার নির্মাণ করা হচ্ছে। ২০১২ সালের ডিসেম্বরে ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে এই নির্মাণকাজ শুরু হয়। বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। গত শনিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, পার্কের আসন ও শোভাবর্ধনকারী গাছে কাপড় শুকাতে দিয়েছেন কর্মচারী ও মালিরা। পার্কের ফোয়ারার পানিতে ভাসছে শেওলা। সেখানে ফেলা হয়েছে চিপসের খালি প্যাকেট। এর পানি দিয়ে গোসল করছিলেন পার্কের তত্ত্বাবধায়ক হেদায়েত উল্লাহর ছেলে ইমরান হোসেন। কয়েক মাস ধরে পার্কের এমন অবস্থা চলছে বলে জানালেন তিনি।
পার্কের প্রবেশমুখে রয়েছে তত্ত্বাবধায়কের কক্ষ। সেটিরও অবস্থা জীর্ণশীর্ণ। সেখানে থাকেন তত্ত্বাবধায়ক হেদায়েত উল্লাহ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, গত বছর পার্কের আশপাশের সড়কগুলো সংস্কার করে উঁচু করা হয়। এরপর থেকে বৃষ্টি হলে পার্কে পানি জমে যায়। সম্প্রতি কয়েক দফা জলাবদ্ধতার সময় পার্কের বিভিন্ন অংশের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে যায়।
পার্কের ভেতরে–বাইরে মাটির স্তূপ
পার্কের দুরবস্থার মধ্যেও বিপুল দর্শনার্থী ঘুরতে আসেন বলে দাবি করেছেন হেদায়েত উল্লাহ। তিনি জানান, প্রতিদিন বেলা তিনটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত পার্ক সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে। প্রতিদিনই কয়েক শ মানুষ ঘুরতে আসেন এখানে। ছুটির দিনে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়ে। তবে শনিবার বিকেল পাঁচটার দিকে পার্কে গিয়ে হেদায়েত উল্লাহর দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি। পুরো পার্কে মাত্র ১০-১৫ জন দর্শনার্থী রয়েছে। নগরের বাকলিয়া এলাকা থেকে বান্ধবী নিয়ে এসেছিলেন সালমা আক্তার। রিকশা থেকে নেমেই পার্কের পরিবেশ দেখে প্রথমে হতাশ হন তিনি। পার্কে ঘুরতে আসা অশোক দাশ বলেন, নিয়মিত যত্ন নিলে পার্কের এই অবস্থা হতো না। এখন পার্কে হাঁটা দায় হয়ে পড়েছে।
ভেঙে গেছে সীমানাপ্রাচীর
পার্কের সামনে তিন বছর ধরে বাদাম বিক্রি করে আসছেন মিলন ভট্টাচার্য। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘একসময় প্রচুর মানুষ আসত। এখন বৃষ্টি হলে পানিতে ডুবে যায় পার্ক। পরিবেশটাও বদলে গেছে। তাই এখন খুব বেশি লোকজন আসে না।’
পার্কের দুরবস্থার কথা স্বীকার করেছেন সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ শফিউল আলম। তবে পার্কটি সম্পূর্ণভাবে সংস্কার করা হবে জানিয়ে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, আশপাশের এলাকায় সড়কের তুলনায় অনেক নিচে অবস্থিত পার্ক। বৃষ্টিতে পার্কে গলাসম পানি জমে যায়। তাই মাটি ভরাট করে পার্কটি উঁচু করা হচ্ছে। এরপর সেখানে ফুলের বাগান করা হবে। এটি যাতে নগরবাসীর বৈকালিক বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হয়, সে জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

No comments:

Post a Comment