কনটেইনারে
আমদানি করা কাঁচা তুলায় ওষুধ দিয়ে পোকামাকড় মুক্ত করতে ন্যূনতম তিন দিন
সময় লাগে। তবে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে আবেদনপত্রে ঘষামাজা করে তারিখ পাল্টে
পরদিনই মিলছে পোকামাকড় মুক্ত করার ছাড়পত্র। এ ক্ষেত্রে কাঁচা তুলার সঙ্গে
পোকামাকড় দেশে প্রবেশ করে নানা ফসলে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বন্দরে পোকামাকড় মুক্ত করার বিষয়টি দেখভাল করে উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্র। গত জুলাই মাসে বন্দর থেকে খালাস হওয়া কাঁচা তুলার চালানের সংখ্যা ছিল ৬৩টি। এর মধ্যে প্রথম আলোর হাতে আসা ১২টি আবেদনপত্র ও ছাড়পত্রের ফটোকপি এবং উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের নিবন্ধন খাতার তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এসব আবেদনপত্রের প্রতিটিতে ঘষামাজা করে তারিখ আট-দশ দিন পিছিয়ে দেখানো হয়েছে। বেসরকারি ডিপোতে কনটেইনার রাখার বাড়তি সময়ের ভাড়া পরিশোধ না করতে এ পন্থার আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের কীটতত্ত্ববিদ (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবদুর রশিদ মিঞা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আবেদন করার তিন দিনের আগে ছাড়পত্র দেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। কারণ, ওষুধ দেওয়ার পর তিন দিন কনটেইনার খোলা যায় না। এর আগে কনটেইনার খুললে পোকামাকড় মরার সম্ভাবনা থাকে না। ন্যূনতম তিন দিন পরে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।’
তবে প্রথম আলোর হাতে আসা নথিপত্রে দেখা যায়, ঢাকার একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নিয়োজিত সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান ‘সেতু সেন্টার’ গত ১২ জুলাই উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রে তুলার একটি চালান পোকামাকড় মুক্ত করার জন্য আবেদন করে। এর পরদিনই এই কাঁচা তুলা পোকামাকড় ধ্বংসকরণের ছাড়পত্র দেওয়া হয়। ছাড়পত্রে বলা হয় ‘কাঁচা তুলার বিষ বাষ্পীয়করণের পর ছাড়পত্র প্রদান করা হইল।’ ঘষামাজা করে আবেদনের তারিখ ৮ জুলাই দেখানো হয়।
জানতে চাইলে সেতু সেন্টারের ব্যবস্থাপনা অংশীদার মো. শহীদুর রহমান ২৩ জুলাই বিকেলে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘কাঁচা তুলার কনটেইনারে পোকামাকড় ধ্বংসের জন্য আবেদনের পরদিনই ছাড়পত্র পাওয়া যায়। পোকামাকড় ধ্বংসের জন্য ওষুধ দেওয়া হয় না। কারণ, ওষুধ দিলে তিন দিন পর কনটেইনার খালাস করতে হয়।’ তবে উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কীটতত্ত্ববিদ আবদুর রশিদ মিঞা প্রথম আলোকে বলেন, এ বিষয়টি তাঁর জানা নেই।
সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান উদ্ভিদ সংগনিরোধ শাখার আওতাধীন দেশের সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে অবস্থিত ৩০টি কেন্দ্র থেকে উদ্ভিদ ও উদ্ভিদজাত পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। উদ্ভিদজাত পণ্যের সঙ্গে বিদেশি পোকামাকড় যাতে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য শোধনব্যবস্থা নেওয়া হয় এসব কেন্দ্র থেকে। একইভাবে রপ্তানি কার্যক্রমেও উদ্ভিদজাত পণ্যের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করা হয় এসব কেন্দ্র থেকে। পণ্য আমদানি-রপ্তানির ৮০ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে হয়। ফলে এখানে কার্যক্রমও বেশি।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের পরিচালক কৃষিবিদ ছবি হরিদাস মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘নিয়মানুযায়ী পোকামাকড় মুক্ত করার পরই ছাড়পত্র দেওয়ার কথা। তবে কেউ এ নিয়মের ব্যত্যয় ঘটালে তার বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিই। এই অভিযোগটিও আমরা খতিয়ে দেখব।’
নিয়ম অনুযায়ী, উত্তর, দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা থেকে আমদানি করা তুলা খালাসের আগে পোকামাকড়মুক্ত করা বাধ্যতামূলক। তবে কোনো জাহাজে এসব অঞ্চল থেকে আমদানি করা তুলার সঙ্গে অন্য দেশের তুলা আমদানি হলেও সেগুলো বাধ্যতামূলকভাবে পোকামাকড় মুক্ত করতে হবে।
দুজন কৃষিবিদ নাম প্রকাশ না করে প্রথম আলোকে বলেন, ওই সব অঞ্চলের তুলায় ‘কটন বল উইভিল’ (বৈজ্ঞানিক নাম অ্যানথোনোমাস গ্রান্ডিস) নামের শক্তিশালী পোকার আক্রমণ হয়। এসব পোকামাকড় মুক্ত না করে তুলা খালাস করলে দেশে তুলাজাতীয় অনেক ফসলে এই পোকার আক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে।
দেশে বছরে গড়ে দেড় লাখ বেল বা ২৭ হাজার টন তুলা উৎপাদন হয়। দেশে তুলার চাহিদার ৯৫ থেকে ৯৬ শতাংশ আমদানি করা হয়। আমদানির সিংহভাগ আনা হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। কাস্টমসের হিসাবে দেখা যায়, গত বছর ১১ লাখ ২২ হাজার ৮৯৩ মেট্রিক টন তুলা আমদানি হয়। এসব তুলার শুল্কায়িত মূল্য ছিল ১৬ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা।
তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মো. ফরিদ উদ্দিন গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘কটন বল উইভিল’ শক্তিশালী পোকা। আমদানি করা তুলার সঙ্গে এই পোকা দেশে ছড়িয়ে পড়লে তুলাজাতীয় ফসলে কিংবা গুদামজাত ফসলে আক্রমণ করতে পারে। এ জন্য আইনগতভাবে সুরক্ষা দিতে আমদানি পর্যায়ে পোকামাকড় মুক্ত করার বিধান রয়েছে। এটি উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের দায়িত্ব।’ তিনি জানান, আমদানি করা তুলার মধ্যে উত্তর, দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা থেকে ১০ শতাংশ আনা হয়।
বন্দরে পোকামাকড় মুক্ত করার বিষয়টি দেখভাল করে উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্র। গত জুলাই মাসে বন্দর থেকে খালাস হওয়া কাঁচা তুলার চালানের সংখ্যা ছিল ৬৩টি। এর মধ্যে প্রথম আলোর হাতে আসা ১২টি আবেদনপত্র ও ছাড়পত্রের ফটোকপি এবং উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের নিবন্ধন খাতার তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এসব আবেদনপত্রের প্রতিটিতে ঘষামাজা করে তারিখ আট-দশ দিন পিছিয়ে দেখানো হয়েছে। বেসরকারি ডিপোতে কনটেইনার রাখার বাড়তি সময়ের ভাড়া পরিশোধ না করতে এ পন্থার আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের কীটতত্ত্ববিদ (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবদুর রশিদ মিঞা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আবেদন করার তিন দিনের আগে ছাড়পত্র দেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। কারণ, ওষুধ দেওয়ার পর তিন দিন কনটেইনার খোলা যায় না। এর আগে কনটেইনার খুললে পোকামাকড় মরার সম্ভাবনা থাকে না। ন্যূনতম তিন দিন পরে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।’
তবে প্রথম আলোর হাতে আসা নথিপত্রে দেখা যায়, ঢাকার একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নিয়োজিত সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান ‘সেতু সেন্টার’ গত ১২ জুলাই উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রে তুলার একটি চালান পোকামাকড় মুক্ত করার জন্য আবেদন করে। এর পরদিনই এই কাঁচা তুলা পোকামাকড় ধ্বংসকরণের ছাড়পত্র দেওয়া হয়। ছাড়পত্রে বলা হয় ‘কাঁচা তুলার বিষ বাষ্পীয়করণের পর ছাড়পত্র প্রদান করা হইল।’ ঘষামাজা করে আবেদনের তারিখ ৮ জুলাই দেখানো হয়।
জানতে চাইলে সেতু সেন্টারের ব্যবস্থাপনা অংশীদার মো. শহীদুর রহমান ২৩ জুলাই বিকেলে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘কাঁচা তুলার কনটেইনারে পোকামাকড় ধ্বংসের জন্য আবেদনের পরদিনই ছাড়পত্র পাওয়া যায়। পোকামাকড় ধ্বংসের জন্য ওষুধ দেওয়া হয় না। কারণ, ওষুধ দিলে তিন দিন পর কনটেইনার খালাস করতে হয়।’ তবে উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কীটতত্ত্ববিদ আবদুর রশিদ মিঞা প্রথম আলোকে বলেন, এ বিষয়টি তাঁর জানা নেই।
সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান উদ্ভিদ সংগনিরোধ শাখার আওতাধীন দেশের সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে অবস্থিত ৩০টি কেন্দ্র থেকে উদ্ভিদ ও উদ্ভিদজাত পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। উদ্ভিদজাত পণ্যের সঙ্গে বিদেশি পোকামাকড় যাতে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য শোধনব্যবস্থা নেওয়া হয় এসব কেন্দ্র থেকে। একইভাবে রপ্তানি কার্যক্রমেও উদ্ভিদজাত পণ্যের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করা হয় এসব কেন্দ্র থেকে। পণ্য আমদানি-রপ্তানির ৮০ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে হয়। ফলে এখানে কার্যক্রমও বেশি।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের পরিচালক কৃষিবিদ ছবি হরিদাস মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘নিয়মানুযায়ী পোকামাকড় মুক্ত করার পরই ছাড়পত্র দেওয়ার কথা। তবে কেউ এ নিয়মের ব্যত্যয় ঘটালে তার বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিই। এই অভিযোগটিও আমরা খতিয়ে দেখব।’
নিয়ম অনুযায়ী, উত্তর, দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা থেকে আমদানি করা তুলা খালাসের আগে পোকামাকড়মুক্ত করা বাধ্যতামূলক। তবে কোনো জাহাজে এসব অঞ্চল থেকে আমদানি করা তুলার সঙ্গে অন্য দেশের তুলা আমদানি হলেও সেগুলো বাধ্যতামূলকভাবে পোকামাকড় মুক্ত করতে হবে।
দুজন কৃষিবিদ নাম প্রকাশ না করে প্রথম আলোকে বলেন, ওই সব অঞ্চলের তুলায় ‘কটন বল উইভিল’ (বৈজ্ঞানিক নাম অ্যানথোনোমাস গ্রান্ডিস) নামের শক্তিশালী পোকার আক্রমণ হয়। এসব পোকামাকড় মুক্ত না করে তুলা খালাস করলে দেশে তুলাজাতীয় অনেক ফসলে এই পোকার আক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে।
দেশে বছরে গড়ে দেড় লাখ বেল বা ২৭ হাজার টন তুলা উৎপাদন হয়। দেশে তুলার চাহিদার ৯৫ থেকে ৯৬ শতাংশ আমদানি করা হয়। আমদানির সিংহভাগ আনা হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। কাস্টমসের হিসাবে দেখা যায়, গত বছর ১১ লাখ ২২ হাজার ৮৯৩ মেট্রিক টন তুলা আমদানি হয়। এসব তুলার শুল্কায়িত মূল্য ছিল ১৬ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা।
তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মো. ফরিদ উদ্দিন গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘কটন বল উইভিল’ শক্তিশালী পোকা। আমদানি করা তুলার সঙ্গে এই পোকা দেশে ছড়িয়ে পড়লে তুলাজাতীয় ফসলে কিংবা গুদামজাত ফসলে আক্রমণ করতে পারে। এ জন্য আইনগতভাবে সুরক্ষা দিতে আমদানি পর্যায়ে পোকামাকড় মুক্ত করার বিধান রয়েছে। এটি উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের দায়িত্ব।’ তিনি জানান, আমদানি করা তুলার মধ্যে উত্তর, দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা থেকে ১০ শতাংশ আনা হয়।

No comments:
Post a Comment