পণ্য
খালাসের জন্য চট্টগ্রাম বন্দরে আসা কনটেইনারবাহী জাহাজকে সাধারণত গড়ে ১২
ঘণ্টা বহির্নোঙরে অপেক্ষায় থাকতে হয়। মূলত কর্ণফুলী নদীর জোয়ারের জন্যই
এই অপেক্ষা। কিন্তু বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে
চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে ভিড়তে প্রতিটি জাহাজকে গড়ে আড়াই দিন অপেক্ষায়
থাকতে হয়েছে। বহির্নোঙরে প্রতিটি জাহাজের অবস্থানের এই গড় সময় গত চার
বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
বহির্নোঙরে কনটেইনারবাহী জাহাজের বাড়তি সময় অবস্থানের জন্য আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছে কনটেইনার জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। জাহাজের বাড়তি সময় অবস্থানের জন্য আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে ভারসাম্য রেখে বন্দরের অবকাঠামোসহ সুযোগ-সুবিধা না বাড়ার বিষয়টিকে দায়ী করছেন ব্যবহারকারীরা।
শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আহসানুল হক চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, বহির্নোঙরে একটি জাহাজ এক দিন বাড়তি সময় অবস্থান করলে গড়ে ১০ হাজার ডলার অতিরিক্ত খরচ হয়।
কনটেইনারে আমদানি-রপ্তানি পণ্যের বড় অংশই পোশাকশিল্পের। পোশাকশিল্পের কাঁচামাল যত দ্রুত কারখানায় পৌঁছাবে, তত দ্রুত পোশাক তৈরি করে ক্রেতার হাতে তুলে দিতে পারবেন রপ্তানিকারকেরা। কিন্তু বন্দরের জলসীমায় বাড়তি দুই দিন সময় লাগায় কাঁচামাল পেতেও দুই দিন বেশি সময় লাগছে পোশাকমালিকদের।
বিজিএমইএর বন্দর ও জাহাজীকরণ-বিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, পোশাকশিল্পের কাঁচামাল আমদানি থেকে শুরু করে প্রতিটি সেকেন্ড হিসাব করতে হয়। বিগত ছয় মাস ধরে জাহাজের অপেক্ষমাণ সময় যেভাবে বাড়ছে, তাতে শুধু জাহাজ কোম্পানিগুলোই নয়, পোশাকশিল্পেরও ক্ষতি হচ্ছে। এই বাড়তি দুই দিন সময় পিছিয়ে থেকে পোশাকশিল্পকে এগিয়ে নেওয়া কঠিন। ব্যবসা-বাণিজ্যের অগ্রগতির সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে অনেক আগেই বন্দরের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য নজর দেওয়া উচিত। যখন সমস্যা, তখন সমাধান করে সুফল পাওয়া যাবে না।
বন্দরের হিসাব অনুযায়ী, এ বছরের শুরু থেকেই পণ্য খালাসের জন্য বহির্নোঙরে জাহাজের অবস্থানের সময় (ঘণ্টা হিসেবে) ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। গত জানুয়ারি মাসে প্রতিটি জাহাজ গড়ে প্রায় সাড়ে ১৩ ঘণ্টা অপেক্ষায় ছিল। এটিকে স্বাভাবিক বলছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। এরপর ফেব্রুয়ারি মাসে জাহাজের অপেক্ষার সময় বেড়ে দাঁড়ায় ১৬ ঘণ্টা। মার্চে হয় প্রায় ১৭ ঘণ্টা। এপ্রিল, মে ও জুন মাসে তা বেড়ে দাঁড়ায় যথাক্রমে প্রায় ২২, ২৩ ও ৩৬ ঘণ্টা। গত জুলাই মাসে তা বেড়ে হয় ৬০ ঘণ্টা।
বন্দরের হিসাব অনুযায়ী, এর আগে এক দিন বা তার বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে শুধু ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে। ওই মাসে প্রতিটি জাহাজকে বহির্নোঙরে ২৬ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। এ ছাড়া ২০১৩ সালের মে মাসে প্রতিটি জাহাজকে গড়ে এক দিন বহির্নোঙরে অপেক্ষা করতে হয়। ২০১২ সালে কোনো জাহাজই বহির্নোঙরে এক দিনের বেশি অপেক্ষা করেনি। আর ২০১১ সালের জানুয়ারি মাসে প্রতিটি জাহাজকে গড়ে ৩০ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।
বহির্নোঙরে জাহাজের বাড়তি সময় অবস্থানের বিষয়ে বন্দরের পর্ষদ সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. জাফর আলম প্রথম আলোকে বলেন, জুলাই মাসে ঈদের ছুটি, টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও ঘূর্ণিঝড় কোমেনের প্রভাবে বন্দরের পরিচালন কাজ ব্যাহত হয়েছে। অন্যদিকে এ সময়ে আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহন হয়েছে বেশি। এসবের প্রভাবে জাহাজজট হয়েছে। তবে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ায় এখন আর বেশি সময় বহির্নোঙরে অলস বসে থাকতে হচ্ছে না। আগামী কিছুদিনের মধ্যে এ সমস্যা আরও কেটে যাবে।
বন্দর সূত্র জানায়, গত জুলাই মাসে কনটেইনারে পণ্য খালাস ও বোঝাই করে বন্দর ত্যাগ করেছে ৯০টি জাহাজ। এর আগে ২০১০ সালের অক্টোবরে প্রতিটি কনটেইনার জাহাজ বহির্নোঙরে গড়ে চার দিন অলস বসে ছিল। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ওই সময় জাহাজ কোম্পানিগুলো প্রতিটি কনটেইনার পরিবহনের জন্য ১০০ থেকে ২০০ ডলার সারচার্জ আরোপ করেছিল। এবার অবশ্য কোনো সারচার্জ আরোপ করেনি জাহাজ কোম্পানিগুলো।
কনটেইনার জাহাজ পরিচালনাকারী সি কনসোর্টিয়ামের নির্বাহী পরিচালক ক্যাপ্টেন আহমেদ সাহেদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, জুলাই মাসে জাহাজের অপেক্ষার সময় বেশি ছিল। এসব পরিস্থিতির মূল কারণ হলো, কনটেইনার পরিবহন বাড়লেও বন্দরে যন্ত্রপাতির হার বাড়েনি। জেটি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের আরও যন্ত্রপাতি কেনা দরকার।
বহির্নোঙরে কনটেইনারবাহী জাহাজের বাড়তি সময় অবস্থানের জন্য আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছে কনটেইনার জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। জাহাজের বাড়তি সময় অবস্থানের জন্য আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে ভারসাম্য রেখে বন্দরের অবকাঠামোসহ সুযোগ-সুবিধা না বাড়ার বিষয়টিকে দায়ী করছেন ব্যবহারকারীরা।
শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আহসানুল হক চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, বহির্নোঙরে একটি জাহাজ এক দিন বাড়তি সময় অবস্থান করলে গড়ে ১০ হাজার ডলার অতিরিক্ত খরচ হয়।
কনটেইনারে আমদানি-রপ্তানি পণ্যের বড় অংশই পোশাকশিল্পের। পোশাকশিল্পের কাঁচামাল যত দ্রুত কারখানায় পৌঁছাবে, তত দ্রুত পোশাক তৈরি করে ক্রেতার হাতে তুলে দিতে পারবেন রপ্তানিকারকেরা। কিন্তু বন্দরের জলসীমায় বাড়তি দুই দিন সময় লাগায় কাঁচামাল পেতেও দুই দিন বেশি সময় লাগছে পোশাকমালিকদের।
বিজিএমইএর বন্দর ও জাহাজীকরণ-বিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, পোশাকশিল্পের কাঁচামাল আমদানি থেকে শুরু করে প্রতিটি সেকেন্ড হিসাব করতে হয়। বিগত ছয় মাস ধরে জাহাজের অপেক্ষমাণ সময় যেভাবে বাড়ছে, তাতে শুধু জাহাজ কোম্পানিগুলোই নয়, পোশাকশিল্পেরও ক্ষতি হচ্ছে। এই বাড়তি দুই দিন সময় পিছিয়ে থেকে পোশাকশিল্পকে এগিয়ে নেওয়া কঠিন। ব্যবসা-বাণিজ্যের অগ্রগতির সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে অনেক আগেই বন্দরের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য নজর দেওয়া উচিত। যখন সমস্যা, তখন সমাধান করে সুফল পাওয়া যাবে না।
বন্দরের হিসাব অনুযায়ী, এ বছরের শুরু থেকেই পণ্য খালাসের জন্য বহির্নোঙরে জাহাজের অবস্থানের সময় (ঘণ্টা হিসেবে) ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। গত জানুয়ারি মাসে প্রতিটি জাহাজ গড়ে প্রায় সাড়ে ১৩ ঘণ্টা অপেক্ষায় ছিল। এটিকে স্বাভাবিক বলছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। এরপর ফেব্রুয়ারি মাসে জাহাজের অপেক্ষার সময় বেড়ে দাঁড়ায় ১৬ ঘণ্টা। মার্চে হয় প্রায় ১৭ ঘণ্টা। এপ্রিল, মে ও জুন মাসে তা বেড়ে দাঁড়ায় যথাক্রমে প্রায় ২২, ২৩ ও ৩৬ ঘণ্টা। গত জুলাই মাসে তা বেড়ে হয় ৬০ ঘণ্টা।
বন্দরের হিসাব অনুযায়ী, এর আগে এক দিন বা তার বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে শুধু ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে। ওই মাসে প্রতিটি জাহাজকে বহির্নোঙরে ২৬ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। এ ছাড়া ২০১৩ সালের মে মাসে প্রতিটি জাহাজকে গড়ে এক দিন বহির্নোঙরে অপেক্ষা করতে হয়। ২০১২ সালে কোনো জাহাজই বহির্নোঙরে এক দিনের বেশি অপেক্ষা করেনি। আর ২০১১ সালের জানুয়ারি মাসে প্রতিটি জাহাজকে গড়ে ৩০ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।
বহির্নোঙরে জাহাজের বাড়তি সময় অবস্থানের বিষয়ে বন্দরের পর্ষদ সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. জাফর আলম প্রথম আলোকে বলেন, জুলাই মাসে ঈদের ছুটি, টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও ঘূর্ণিঝড় কোমেনের প্রভাবে বন্দরের পরিচালন কাজ ব্যাহত হয়েছে। অন্যদিকে এ সময়ে আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহন হয়েছে বেশি। এসবের প্রভাবে জাহাজজট হয়েছে। তবে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ায় এখন আর বেশি সময় বহির্নোঙরে অলস বসে থাকতে হচ্ছে না। আগামী কিছুদিনের মধ্যে এ সমস্যা আরও কেটে যাবে।
বন্দর সূত্র জানায়, গত জুলাই মাসে কনটেইনারে পণ্য খালাস ও বোঝাই করে বন্দর ত্যাগ করেছে ৯০টি জাহাজ। এর আগে ২০১০ সালের অক্টোবরে প্রতিটি কনটেইনার জাহাজ বহির্নোঙরে গড়ে চার দিন অলস বসে ছিল। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ওই সময় জাহাজ কোম্পানিগুলো প্রতিটি কনটেইনার পরিবহনের জন্য ১০০ থেকে ২০০ ডলার সারচার্জ আরোপ করেছিল। এবার অবশ্য কোনো সারচার্জ আরোপ করেনি জাহাজ কোম্পানিগুলো।
কনটেইনার জাহাজ পরিচালনাকারী সি কনসোর্টিয়ামের নির্বাহী পরিচালক ক্যাপ্টেন আহমেদ সাহেদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, জুলাই মাসে জাহাজের অপেক্ষার সময় বেশি ছিল। এসব পরিস্থিতির মূল কারণ হলো, কনটেইনার পরিবহন বাড়লেও বন্দরে যন্ত্রপাতির হার বাড়েনি। জেটি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের আরও যন্ত্রপাতি কেনা দরকার।

No comments:
Post a Comment