Wednesday, September 23, 2015

মহেশখালীতে বাড়ছে পুলিশি হয়রানি

মহেশখালীতে বাড়ছে পুলিশি হয়রানি
শহীদুল ইসলাম কাজল ঃ
              মহেশখালীতে ক্রমেই বাড়ছে পুলিশি হয়রানি এমন অভিযোগ ভোক্তভুগি পরিবারের। অপরাধীদের ধরার পরিবর্তে উল্টো নিরাপরাধ লোকদের আটক করে অবৈধ কাজে জড়িয়ে যাচ্ছে থানা পুলিশ। এলাকা ভিত্তিক থানা পুলিশের কাছের লোক খ্যাত এক শ্রেনীর দালালদের দৌরাত্বে বাড়ছে আটক বাণিজ্য, আতংকে নিরাপরাধ লোকজন। অনেকেই জানান, ভিত্তিহীন অভিযোগে আটকের পর পুলিশের চাহিদা মতো টাকা দিতে না পারলে খুন,অপহরণ,ধর্ষণ,ছিনতাই ও পুলিশের উপর হামলা মামলাসহ একাধিক জটিল মামলায় চালান দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দালালের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। প্রতি রাতেই চলে পুলিশের আটক বাণিজ্য। কালারমারছড়া পুলিশ ফাঁিড়তে নিয়মিত আটক বাণিজ্য চললেও দেখার যেন কেউ নেই। গত শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার সময় কালারমারছড়া উত্তর নলবিলার আবুল কালামের ছেলে শাহীন’কে দালালের দেওয়া ভিত্তিহীন তথ্যের ভিত্তিতে আটক করে মোটা অংকের টাকা দাবী করে বসে ফাড়ির আইসি আলমগীর হোসেন এমন অভিযোগ শাহীনের পরিবারের। শাহীনের পিতা আবুল কালাম অভিযোগ করেন-তার ছেলে নিরাপরাধ হওয়া সত্বেও টাকার জন্য ছেলে’কে ছেড়ে দিচ্ছেনা পুলিশ। টাকা দিতে না পারায় একদিন ফাঁিড়তে রাখার পর পাঠিয়েদেন মহেশখালী থানায়। সেখানেও বিপদ, কোন ধরনের অভিযোগ না থাকা সত্বেও বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে হাতিয়ে নেয় মোটা অংকের টাকা। অবশেষে টাকা নিয়ে দফারফা হওয়ায় গত রবিবার ছাড়া পায় শাহীন। এছাড়া গত শনিবার উত্তর নলবিলার আব্দুল মোনাফের অষ্টম শ্রেণীতে পড়–য়া ছাত্র ছোটন’কে ফাড়ির টহল পুলিশ তার বাড়ী থেকে আটক করে। পরে দশ হাজার টাকা নিয়ে রাত্রে ছেড়ে দেন। জানা যায়, ইতিপূর্বে ছোটনকে আরো এক বার আটক করেছিল পুলিশ। সেবারও মোটা অংকের টাকায় ছাড়াড়িয়ে আনতে হয়েছিল বলে জানান ছোটনের এক নিকট আত্মীয়। প্রতিরাতেই ছৈাটন ও শাহীনের মতো অনেক ব্যক্তিকে আটক করে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার মতো অপরাধ ঘটলেও কার্যত কোন মাথাব্যথা নেই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের। ফলে প্রতিরাতেই চলে নিরাপরাধ ব্যক্তিদের আটক পরবর্তী টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার রমরমা বাণিজ্য। অনেকেই টাকা দেওয়ার পরেও মূখ খোলতে পারছেন না যে কোন মূহুর্তে মিথ্যে মামলায় আসামী হওয়ার আশংকায়। অভিযোগ উঠেছে, ডজন খানেক মামলার আসামী বাজারে ঘন্টার পর ঘন্টা আড্ডা দিলেও তাদের ধরার জন্য মাথাব্যথা নেই মহেশখালী থানা পুলিশের। এলাকা ভিত্তিক থানা পুলিশের দালালদের মাধ্যমে মিথ্যে মামলায় এলাকার প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর হাতিয়ারে পরিনত হয়েছে থানা পুলিশ। এছাড়া পুলিশ মাঝে মধ্যে  চিহ্নিত অপরাধিদের ধরার পরও মোটা অংকের টাকায় ছেড়ে দেওয়ার অভিয়োগ করেন অনেক সচেতন মহল। নিরাপরাধ ব্যক্তিদের আটক ও মিথ্যে মামলায় জড়ানো ফলে পুলিশের সাথে জনতার দূরত্ব ক্রমেই বাড়ছে। সরজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, কালারমারছড়া ইউনিয়নের ইউনুছখালী এলাকার দিনমজুর আব্দুর রশিদের সাথে জায়গা নিয়ে বিরুধ চলে একই এলাকার নুরুল আলমের।এ নিয়ে ২০১১ সালে নুরুল আলম জজ কোর্টে মামলা করে হেরে গেলে প্রতিপক্ষ রকি মাঝির পরিবারের বিরুধ শুরু হয় পুলিশ ব্যবহার করে হয়রানির পালা। মোটা অংকের টাকায় পুলিশ ম্যানেজ করে অসহায় নিরাপরাধ রকি মাঝিকে খুন, নারী নির্যাতন,ডাকাতিসহ চারটি মামলা দেয় নুরুল আলম। বর্তমানে হয়রানি মূলক মিথ্যে মামলায় হাজিরা দিতে গিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছে রকি মাঝির পরিবার। এরকম মিথ্যে মামলা থেকে রেহায় পাওয়ার জন্য অনেকেই পুলিশের এলাকা ভিত্তিক দালালদেরকে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান ভোক্তভুগি কয়েকটি পরিবার। অনেকেই জানান, পুলিশের কাছের লোকখ্যাত দালালেরা এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে থানা পুলিশের নাম ব্যবহার করে নিরবে চাদাঁবাজি করে থাকেন। মিথ্যে মামলায় হয়রানির ভয়ে অনেকেই সহ্য করে যাচ্ছেন নিরব চাদাঁবাজি। অনেক সময় দালালদের চাহিদা মতো টাকা দিতে না পারলে চলার পথে অবৈধ অস্ত্র কিংবা ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী। মহেশখালী থানার পুলিশ পদির্শক (তদন্ত) মুহাম্মদ দিদারুল ফেরদাউস বলেন, অভিযোগ না থাকলে কাউকে হয়রানি করা হবেনা। টাকার জন্য কাউকে অন্যায় ভাবে আটক করে হয়রানির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


No comments:

Post a Comment