Wednesday, September 23, 2015

কক্সবাজারের ঈদগাঁও পুলিশের বিরুদ্ধে ক্রোক মামলার রিপোর্ট বাণিজ্যের অভিযোগ

কক্সবাজারের ঈদগাঁও পুলিশের বিরুদ্ধে ক্রোক মামলার রিপোর্ট বাণিজ্যের অভিযোগ
শাহিদ মোস্তফা শাহিদ, সদর প্রতিনিধি, কক্সবাজার-
কক্সবাজার সদর মডেল থানার আওতাধীন ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধে এবার ক্রোক মামলার রিপোর্ট বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তার এ রির্পোট বাণিজ্যে আদালতে স্বাভাবিক বিচারিক কার্যক্রমে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে বলে জানা গেছে। পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে যোগদানের পর থেকে তার বিরুদ্ধে অহরহ অভিযোগ উঠছে। এবার সরাসরি আদালত থেকে জারিকৃত ক্রোক মামলার রিপোর্ট নিয়ে বাণিজ্যে মেতেছে এ পুলিশ কর্মকর্তা। যার কারনে পুরো পুলিশ প্রশাসনের ভাবমূর্তি দিন দিন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বলে সচেতন মহলের দাবী। তার অব্যাহত তদন্ত প্রতিবেদন বাণিজ্যের কারনে আদালতে বিচারাধীন মামলা বাধাগ্রস্থ হচ্ছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগ উঠেছে উক্ত পুলিশ কর্মকর্তা যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন ধরণের ভয়-ভীতি দেখিয়ে নিরীহ ব্যক্তিদের ধরে এনে মিথ্যা মামলা দিয়ে আদালতে প্রেরণসহ ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইন ও চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের ধরে এনে মোটা অংকের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ারও তথ্য রয়েছে। ঈদগাঁও গরু বাজার থেকে ইমরান নামের এক ইয়াবা ব্যবসায়ীকে হাতে নাতে আটক করে ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ঘটনাস্থলে ছেড়ে দেয়। পালাকাটার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক এক মহিলার জমি সংক্রান্ত মোকদ্দমার রিপোর্ট তার পক্ষে দেওয়ার অযুহাতে ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। তাছাড়া আদালত থেকে প্রেরিত পূর্ব পোকখালীর আবুল কালাম প্রকাশ রাজু ফকিরের পুত্র হায়দার আলী, শওকত আলী, একই এলাকার সেলিম উদ্দীনের পুত্র খোকন, মৃত সিরাজের পুত্র সাইফুল, ইসলামাবাদ পশ্চিম টেকপাড়ার বাবুলের পুত্র আনোয়ারের বিরুদ্ধে ক্রোক মামলার রিপোর্ট পাঠানোর অযুহাতে জনপ্রতি ৫/১০ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নেয় বলে এলাকায় চাউর হয়েছে। বাবুলের পুত্র ফারুক জানান, উক্ত এএসআই ইমাম হোসেন কয়েক দিন পর পর এসে হুমকি সরূপ মোটা অংক দাবী করছে। এমনকি তার প্রতিপালিত চকরিয়া পহরচাঁদা এলাকার জনৈক বশির নামের এক দালালের মাধ্যমেও মোটা অংক দাবী করে। বাধ্য হয়ে দু’বার টাকা দিতে হয়েছে।রামু ফতেখারকুলের জবুল হোসেন নামের এক ব্যক্তি থেকে মালয়েশিয়ায পাচার হওযা ছেলেকে উদ্ধার করে দেওয়ার অযুহাতে নগদ ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। কালিরছড়া মাছুয়াখালী গ্রামের বেলাল উদ্দীনের স্ত্রী মানব পাচারে অভিযুক্ত হামিদা আক্তার নামের এক নারী থেকে রিপোর্ট দেওয়ার নামে ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। খোঁজ খবর নিয়ে আরো জানা গেছে, পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে পাঠানো তদন্ত রিপোটেও জালিয়াতি, তাছাড়া ওয়ারেন্টভুক্ত দাগী আসামী, মাদক ব্যবসায়ী, নাশকতা মামলায় জড়িত জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মী সহ বিভিন্ন জনের সাথে প্রতিনিয়ত সখ্যতা গড়ে তুলছে বলে একাধিক সুত্রে জানা গেছে। এভাবে তার দুর্ণীতি-জালিয়াতি দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় পুরো প্রশাসনের উপর ুদ্ধ হয়ে উঠেছে সচেতন ঈদগাঁওবাসী। তারা অবিলম্বে উক্ত দুর্ণীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তাকে অন্যত্রে বদলী করতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ঈদগাঁওয়ের বিভিন্ন শ্রেণীর লোকজন। এ ব্যাপারে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আসলাম হোসেন জানান, সবেমাত্র কয়েকদিন হয়েছে যোগদান করেছি, উক্ত এএসআই ইমাম হোসেনের ব্যাপারে শীঘ্রই তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত এএসআই ইমাম হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বারবার কৌশলে এড়িয়ে যান। বেশি কিছু জানতে হলে আইসির সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।

No comments:

Post a Comment