প্রতি মাসে গড়ে ৩ হাজার ৫০০ মাদক মামলা হচ্ছে দেশে। প্রত্যেক মামলায় রয়েছে
একাধিক আসামি। যার প্রায় অর্ধেক নারী। সূত্র মতে, চলতি বছর সেপ্টেম্বর
পর্যন্ত সারা দেশে মাদক মামলা হয়েছে ৩৪ হাজার ১৮০টি। এসব মামলায় আসামি করা
হয়েছে ৪২ হাজার ৮ জনকে। মামলার স্তূপ হলেও দীর্ঘসূত্রতায় এসব মামলার দ্রুত
নিষ্পত্তি হচ্ছে না। বছরের পর বছর আসামিরা আদালতে হাজিরা দিয়ে যাচ্ছেন।
কিন্তু মামলার কোন সুরাহা হচ্ছে না। এ অবস্থায় মাদক মামলার জট ছাড়াতে আলাদা
ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। আইনজীবী ও বিষেজ্ঞদের অভিমত,
মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য জেলায় জেলায় বিশেষ আদালত স্থাপন ও
মাদকবিরোধী বিদ্যমান আইন সংশোধন করতে হবে। পুলিশ হেডকোয়ার্টার সূত্র মতে,
চলতি বছর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ৩৪ হাজার ১৮০টি মামলা হয়েছে। এসব
মামলায় আসামি ৪২ হাজার ৮ জন। গড়ে প্রতি মাসে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মামলা হয়।
কোনো কোনো মামলায় একাধিক আসামি রয়েছেন। মামলায় প্রায় অর্ধেক নারী আসামি
রয়েছেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানায়, গত ৫ বছরে সারা দেশে
বিভিন্ন আদালতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বাদী হয়ে করা বিচারাধীন
মামলার সংখ্যা ৫৫ হাজার ৯৭০টি। এর মধ্যে ২০১০ সালে ৮ হাজার ১৯, ২০১১ সালে ৮
হাজার ৭৪৯, ২০১২ সালে ১০ হাজার ১৪, ২০১৩ সালে ১০ হাজার ১১১, ২০১৪ সালে ১১
হাজার ৭২৩ এবং চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ৭ হাজার ৩৫৪টি মামলা রয়েছে। এসব
মামলায় আসামির সংখ্যা ৫৪ হাজার। হিরোইন, ইয়াবা দেশি ও বিদেশি মদ, ফেনসিডিল,
গাঁজা, ইনজেকশন, উদ্ধারের ঘটনায় এসব মামলা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের
ওপরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বছরের পর বছর মামলাজটের সংখ্যা বাড়ছে।সূত্র
জানায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চলতি বছরের অক্টোবর মাসে ৪ হাজার
১৬টি মামলা করেছে। আসামি করা হয়েছে ৫ হাজার ৪৭৬ জনকে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৭৮১
জনকে সাজা দেয়া হয়েছে। চলতি বছরের অক্টোবরে উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের মধ্যে
রয়েছে ৫ লাখ ৪৩ হাজার ৮৮৪টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ২৩ হাজার ৬৪১ বোতল ফেনসিডিল, ৪
হাজার ১৫ কেজি গাঁজাসহ অন্যান্য মাদকসামগ্রী।সূত্র জানায়, মাদকদ্রব্য
আইনে করা মামলার সাক্ষী পাওয়া যায় না। আর সাক্ষী থাকলেও তারা আদালতে যেতে
চান না। এমনকি ওয়ারেন্ট জারির পরও সাক্ষীরা আদালতে যান না। আবার জব্দকৃত
আলামত প্রমাণও দুরূহ হয়ে পড়ে। অনেক মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাদের সাক্ষ্য নেয়া
হয় না সময়মতো। মূলত সাক্ষ্য-জটিলতা, দক্ষ প্রসিকিউটরের অভাবসহ বিভিন্ন
কারণে মাদক আইনে করা মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে। সূত্র
জানায়, মাদক মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিতে বড় বাধা হচ্ছে মামলা নিষ্পত্তির
সময়সীমা না বেঁধে দেয়া। এতে ওই মামলা বছরের বছরের পর বছর চলতে থাকে। যদিও
আইনে তদন্তের জন্য সময় বেঁধে দেয়া আছে। মামলা পরিচালনায় পুলিশ ও মাদকদ্রব্য
নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মধ্যে সমন্বয়েরও অভাব রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাক্ষী খুঁজে পায় না অথবা সাক্ষীরা তাদের নিজেদের
নিরাপত্তার ভয়ে আসতে চান না। এ ব্যাপারে ঢাকা জজকোর্টের পিপি
অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আবু বলেন, যেসব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাদকদ্রব্য উদ্ধারে
অভিযান চালায় তাদের মধ্যে সমন্বয় আনতে হবে। উপযুক্ত সময় সাক্ষী আনতে হবে।
তাহলে মামলাজট এমনিতেই কমে যাবে। এ ব্যাপারে ডিএমপির ডিসি (মিডিয়া) মো.
মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, মাদকের বিষয়ে পুলিশের জিরোটলারেন্স আছে। ছোট আর বড়
হোক সব মাদক ব্যবসায়ী ধরে পুলিশ আইনের কাছে সোপর্দ করছে। আদালতে হাজির
করছে। মাদক নিরোধ সংস্থা মানসের সভাপতি ডা. অরূপ রতন চৌধুরী বলেন, আমরা
দীর্ঘদিন ধরে মাদকের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে যাচ্ছি। বর্তমান মাদক আইনে
ত্রুটি আছে। ওই ত্রুটির ফাঁকফোকর দিয়ে আসামি জামিন পেয়ে বের হয়ে আসছে। এতে
সমাজে ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিষয়টি আমরা ইতিমধ্যে আইন মন্ত্রণালয়কে
অবহিত করেছি।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment