Sunday, November 29, 2015

বাগেরহাটে ৪১টি গির্জায় সর্বোচ্চ সতর্কতা

বাগেরহাটে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের ৪১টি গির্জা ও বিদেশিদের চলাচলের জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা মংলা বন্দর, ইপিজেড, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কারাগার, ষাটগুম্বুজ মসজিদ ও হযরত খানজাহানের মাজার এলাকায় ফের র্স্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদেশি নাগরিকদের হত্যা, খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের গির্জার ফাদারদের হত্যার চেষ্টাসহ হুমকি ও সন্ত্রাসীদের নাশকতার আশঙ্কায় শুক্রবার থেকে সর্বোচ্চ এই সতর্কতা জারি করা হয়। এসব এলাকায় বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। বাগেরহাটের খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের গির্জা ও জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও বিদেশি নাগরিকদের সার্বিক নিরাপত্তায় ফের এই র্স্বোচ্চ সতর্কতা জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাগেরহাট গোয়েন্দা পুলিশ। বাগেরহাট পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ জানায়, বর্তমানে বাগেরহাটের মংলা বন্দরে পশুর নদীতে ক্যাপিটাল ড্রেজিং, ইপিজেড, বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন এনজিওতে শতাধিক বিদেশি নাগরিক কর্মরত রয়েছে। জেলার গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকা ষাটগুম্বুজ মসজিদ, হজরত খানজাহানের (র.) মাজার ও সুন্দরবন দেখতে প্রতিদিন অনেক বিদেশি পর্যটক আসে। এছাড়া রয়েছে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ৪১টি গির্জা। এর মধ্যে মংলা উপজেলায় ১৯টি, রামপালে ৬টি, মোল্লাহাটে ৯টি, চিতলমারীতে ৩টি, ফকিরহাটে ২টি ও বাগেরহাট সদরে ২টি গির্জা রয়েছে। এ জেলায় বসবাস করছে প্রায় ২৫ হাজার খ্রিষ্টান। খ্রিষ্টান গির্জার অধিকাংশ ফাদারই বিদেশি। সাম্প্রতিক সময়ে দুই বিদেশি হত্যা ও পাবনার ঈশ্বরদীতে গির্জার ফাদার লুৎ সরকারকে সন্ত্রাসীরা গলা কেটে হত্যা চেষ্টার পর বাগেরহাটে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর রেশ কাটতে না কাটতেই শুক্রবার খুলনায় দুই ফাদারকে হত্যার হুমকি দেয়ায় বাগেরহাট জেলায় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে ফের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে পুলিশ বাগেরহাটে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের ৪১টি গির্জা, বিদেশিদের চলাচলের জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা মংলা বন্দর, ইপিজেড, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কারাগার, ষাটগুম্বুজ মসজিদ ও হজরত খানজাহানের (র.) মাজার এলাকায় ফের সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করে।খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের এই আতঙ্কের কথা স্বীকার করে মংলার শ্যালাবুনিয়ার খ্রিষ্টান গির্জার ফাদার নরেন, ফাদার বাবুল ও বাগেরহাট শহরের বাসাবাটি গির্জার ফাদার মার্টিন বলেন, শুক্রবার থেকে পুলিশ আমাদের গির্জায় আবারো নিরাপত্তা দিচ্ছে।

No comments:

Post a Comment