Saturday, November 28, 2015

নির্বাচন পেছাবে না ইসি

 বিএনপি ও ওয়ার্কার্স পার্টি দাবি জানালেও পৌরসভা নির্বাচন পেছানোর কথা ভাবছে না নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্র বলছে, তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন হবে। দুটি দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন পেছানোর দাবি তোলা হলেও এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক কোনো আবেদন যায়নি। এ কারণে কমিশন এ বিষয়ে অনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে আবেদন করলেও নির্বাচন পেছানোর সুযোগ নেই। শুক্রবার নয়াপল্টনস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে শর্তসাপেক্ষে নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দেয় বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। এতে বিএনপির মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপন ১৫ দিন নির্বাচন পেছানোর দাবি জানান। বিএনপির এই দাবির কিছুক্ষণ পরেই বিবৃতির মাধ্যমে পৌর নির্বাচন পেছানোর দাবি জানিয়েছে সরকারের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টিও। এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার শাহনেওয়াজ মানবজমিনকে বলেন, এ ধরনের কোন বক্তব্য আমাদের কাছে আসেনি। তাই এ বিষয়ে কিছু বলতে পারবো না। নির্বাচন পেছানোর কোনো সুযোগ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সুযোগ কেন থাকবে না। তবে আমরা তো তফসিল পেছানোর জন্য ঘোষণা করিনি। কে কোথায় কি বললো আমরা কিছুই জানি না। বিএনপির দাবি ইসিতে এলে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এলে সেটা দেখা যাবে। তবে তফসিল একবারই দিয়েছি। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিব সিরাজুল ইসলামও একই বক্তব্য দেন। তিনি মানবজমিনকে বলেন, নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে কিছুই জানে না। বিএনপি বা ওয়ার্কার্স পার্টি অফিসিয়াল কোনো দাবি জানায়নি। তারা তো নির্বাচন কমিশনকে কিছু বলেনি। আর অফিসিয়াল জানালেও নির্বাচন পেছানোর সুযোগ নেই।
আগামী ৩০শে ডিসেম্বর ভোটগ্রহণের দিন ধার্য করে গত মঙ্গলবার দেশের ২৩৪টি পৌরসভার তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন এটি। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন ৩রা ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই ৫ ও ৬ই ডিসেম্বর। এছাড়া মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৩ই ডিসেম্বর। এ প্রসঙ্গে গতকাল শুক্রবার সংবাদ সম্মলনে কিছু শর্ত দেয় বিএনপি। শর্ত হচ্ছে ১৫ দিন পিছিয়ে নির্বাচনের পুনঃতফসিল ঘোষণা করা। এছাড়া গ্রেপ্তার হওয়া দলীয় নেতাকর্মীদের মুক্তি এবং নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু করতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা। এর কারণ ব্যাখ্যা করে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, ২০১৬ সালের ২রা জানুয়ারি থেকে নতুন ৫০ লাখ তরুণ ভোটার তালিকাভুক্ত হবেন। তার তিন দিন আগে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত হওয়ায় নতুন ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন না। এছাড়া নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা থেকে মনোনয়ন দেয়া পর্যন্ত ১০ দিন সময় দেয়া হয়েছে। এই সময়কে অপ্রতুল হিসেবে দেখছে বিএনপি। এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়ে একই দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি। দলটির সভাপতি ও বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন ও সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, আইনি বাধ্যবাধকতার কথা বলে তাড়াহুড়োর মাধ্যমে এ নির্বাচন করা হলে দলীয়ভাবে নির্বাচন করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তটি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।প্রসঙ্গত, গত ১৮ই নভেম্বর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ রেখে কয়েকটি বিল পাস করা হয় সংসদে। বিলগুলো হচ্ছে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) বিল ২০১৫, উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) বিল ২০১৫, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) (সংশোধন) বিল ২০১৫ ও স্থানীয় সরকার  (পৌরসভা) (সংশোধন) বিল ২০১৫। এর আগে গত ২রা নভেম্বর এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারি করা হয়। গত ১২ই অক্টোবর স্থানীয় সরকার নির্বাচন (সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউপি) সংশোধন আইন অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। এর ফলে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দল দলীয় প্রতীক নিয়ে স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে। এদিকে মন্ত্রিসভায় এ সংক্রান্ত আইনের অনুমোদনের পর থেকেই বিএনপি এর বিরোধিতা করে আসছে। এছাড়া সুশীল সমাজের কয়েকজন প্রতিনিধিও এ আইনের বিরোধিতা করে মত দিয়েছেন।

No comments:

Post a Comment