দেশি চলচ্চিত্রে ‘মা’ হিসেবে অনিবার্য এক অভিনেত্রীর নাম রাশেদা চৌধুরী।
চলচ্চিত্রে কাজ করছেন ১৯৮৪ সাল থেকে। বলা যায়, তিন দশক ধরে দাপটের সঙ্গেই
অভিনয় করছেন তিনি। ময়মনসিংহের ভালুকার ছেলে আল হেলাল চৌধুরীর সঙ্গে তখন
বিয়ে হয়ে গেছে বি.বাড়িয়ার মেয়ে রাশেদা চৌধুরীর। আর বিয়ের পরই ১৯৮৪ সালে
‘নতুন মুখের সন্ধানে’র মাধ্যমে চলচ্চিত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন তিনি। এফডিসি
ঢাকার কোথায় তা জানতেন না রাশেদা। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই হলে গিয়ে সিনেমা
দেখার ভীষণ আগ্রহ ছিল তার। ‘সাত ভাই চম্পা’ চলচ্চিত্র দেখতে গিয়ে সিনেমা
হলের ফ্যান ছুটে তার মাথার ওপর পড়েছিল। মাথায় তিনটি সেলাইয়ের কদিন পর আবারও
‘সাত ভাই চম্পা’ দেখতে হলমুখী হন রাশেদা। আর এরপর থেকে সিনেমা দেখার নেশার
পথ ধরেই আজ তিনি দুই শতাধিক চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী। সিনেমা জগতে কাজ করাই
এখন তার পেশা। রাশেদা চৌধুরী প্রথম অভিনয় করেন দারাশিকোর নির্দেশনায় ‘প্রেম
কাহিনী’ চলচ্চিত্রে। এতে তিনি কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেন। এরপর চাষী
নজরুল ইসলামের ‘বিরহ ব্যথা’ এবং হারুনুর রশীদের ‘ভাগ্যবতী’ চলচ্চিত্রে
অভিনয় করেন তিনি। তিনটি চলচ্চিত্র মুক্তির পর তাকে আর থেমে থাকতে হয়নি।
একের পর এক ভালো ভালো গল্পের চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে থাকেন তিনি। রাশেদা
চৌধুরী বলেন, আমি আমার অবস্থান নিয়ে সবসময়ই সন্তুষ্ট। আমার স্বামী বড় মনের
মানুষ বলে বিয়ের পর আমাকে চলচ্চিত্রে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন। সব
চলচ্চিত্রের প্রযোজক, পরিচালক, সহকর্মীসহ সবার প্রতি আমার আন্তরিক
কৃতজ্ঞতা। সবার সহযোগিতায় এবং আমার আন্তরিক চেষ্টায় আমি আজকের রাশেদা
চৌধুরী। আজ দর্শক আমাকে ভালোবাসছেন, শ্রদ্ধা করছেন, এর চেয়ে জীবনে বড়
প্রাপ্তি আর কী-ই বা হতে পারে। রাশেদা চৌধুরী শহীদুল ইসলাম খোকনের
নির্দেশনায় বহু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। পাশাপাশি আজহারুল ইসলাম, এফআই
মানিকসহ বহু গুণী চলচ্চিত্র পরিচালকের চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। টিভিতে প্রথম
তিনি অভিনয় করেন সালাহ উদ্দিন লাভলুর নির্দেশনায় ‘ভবের হাট’ ধারাবাহিক
নাটকে। একই পরিচালকের ‘হাড়কিপ্টে’ নাটকে অভিনয় করেও একজন অভিনেত্রী হিসেবে
ব্যাপক প্রশংসিত হন তিনি। তবে একটি অপূর্ণতায় আজীবন আফসোস থেকে যাবে বরেণ্য
এই অভিনেত্রীর। কারণ তিনি প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক, চলচ্চিত্র নির্মাতা
হুমায়ূন আহমেদের নির্দেশনায় কাজ করতে পারেননি। অভিনয় জীবনের শুরু থেকে এখন
পর্যন্ত তিনি অভিনয় আর পরিবারের বাইরে অন্য কিছু নিয়ে ভাবেননি। তবে
ভেবেছেন দর্শকের কথা। কারণ, দর্শকই তাকে আজকের আসনে পৌঁছে দিয়েছেন বলে
বিশ্বাস করেন তিনি।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment